স্বদেশ জুড়ে

ঢাকায় এফবিআই অফিস

মার্কিন দূতাবাস সুত্রে জানা যায়, মার্কিন সরকারের প্রভাবশালী গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) ঢাকায় তাদের নিজস্ব অফিস খুলতে যাচ্ছে খুব শ্রীঘই। অন্যান্য আর্ন্তজাতিক সংস্থার মতো তারাও একজন স্থায়ী প্রতিনিধি নিয়োগ করবে ঢাকায়। সুত্র আরো জানায়, এফবিআইয়ের সাত সদ্স্যর এক প্রতিনিধিদল সম্প্রতি ঢাকা সফর করে সরকারের কাছ থেকে সবুজ সংকেত পেয়েছে। সফরকালে তারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করে। স্বরাষ্ট্রমন্তীর সাথে বৈঠকেকালে এদেশ থেকে পলাতক সন্ত্রাসী ও দুনীতিবাজদের ফেরাতে আশ্বাস দিয়েছে এফবিআই  প্রতিনিধিদল। তিন দিনের ঢাকা সফর শেষে তারা যুক্তরাষ্ট্র ফিরে যায়।

প্রতিনিধি দলের পরিকল্পনা নিয়ে ঢাকায় আসা এফবিআইয়ের আর্ন্তজাতিক কার্যক্রম বিষয়ক সহকারী পরিচালক মাইকেল এস ওয়েলশ। যদিও তিনি সহকারী পরিচালক মর্যাদার কিন্তু তিনি এফবিআই এর আর্ন্তজাতিক বিষয়বলী এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্থাপিত ৭৮টি দফতরের প্রধান সমন্বয়কারী।এছাড়াও তিনি বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যৌথ তদন্ত এবং বিয়ষভিত্তিক বিশেষজ্ঞ বিনিময়ে বাংলাদেশী কতৃপক্ষকে সহায়তার জন্য বিশেষ ব্যাক্তি।

উক্ত প্রতিনিধি দলের সাথে এক বৈঠকে মিলত হন প্রথক পৃথকভাবে  স্বরাষ্টমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর ও পুলিশের মহাপরিদশক হাসান মাহমুদ খন্দকার। বৈঠকে উপস্থিত আমেরিকান সেন্টারের এক মুখ্যপাত্র জানান, বাংলাদেশের জনগনের সঙ্গে এফবিআইয়ের সম্পর্ক সৃস্টি করবে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় মূখ্য ভুমিকা রাখবে এফবিআই। স্বরাষ্টমন্ত্রী বিভিন্ন দাবীদাওয়া তুলে ধরে বলেন বাংলাদেশের বিভিন্ন মামলার আসামী, খুনী, সন্ত্রাসী, দুর্নীতিবাজ  ব্যক্তি, বঙ্গবন্ধুর খুনীসহ আরো যারা বাংলাদেশী পালিয়ে আছে তাদের অবস্থান জানানো এবং  ফেরত দিতে হবে বাংলাদেশ সরকারের কাছে বিচারের আওয়ায় নিয়ে আসার জন্য। তিনি বিশেষভাবে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক উপদেষ্টা হারিস চৌধুরীর বিষয়েও অবহিত করেন প্রতিনিধি দলের কাছে। এফবিআই প্রতিনিধিদল এসব শুনেন এবং সহায়তার আশ্বাস দেন।

বৈঠকে উপস্থিত স্বরাষ্ট মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড: কামাল উদ্দিন আহমেদ সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, পুশিশের সঙ্গে এফিবিআইয়ের সহযোগিতা বাড়ানোর বিয়ষ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ ধরনের নিয়োগের বিষয় কুটনৈতিক চ্যানেলে যোগাযোগের মাধ্যম হতে পারে।

পলিশের মহাপরিদর্শক হাসান মাহমুদ জানান, এফবিআইয়ের সাথে বাংলাদেশ পুলিশের পারস্পরিক যোগাযোগের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।সেআ সঙ্গে সম্প্রতিক নতুন নতুন অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের খুজে বের করা এবং তদন্ত কাজ প্রশিক্ষণ বিনিময়ে আমরা রাজী হয়েছি।

প্রতিনিধি দল জানায়, তারা প্রথম দফায় তারা একজন প্রতিনিধি পাঠাবে।তিনি প্রাথমিক পর্যায়ে ঢাকায় নব প্রতিষ্ঠিত অফিসে কাজ শুরু করবেন।ক্রমান্বয়ে নতুন অফিসের কার্যক্রম শুরু হবে।উল্লেখ্য বাংলাদেশ সম্পকিত সকল কার্যক্রম এখন আমেরিকান ‍দূতাবাসের মধ্যে অবস্থিত নয়াদিল্লীর এফবিআইয়ের অফিস থেকে পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশ ছাড়াও এখান থেকে পরিচালিত হচ্ছে এশিয়ার অন্যান্য দেশ শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ ও ভুটানের গুরত্বপূর্ন বিয়য়গুলো।

এর আগে গত বছর এফবিআইয়ের ছয় সদস্যর একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় আসে। ফেব্রুয়ারী মাসের মাঝামাঝি বাংলাদেশ পুলিশের ডিএমপি, মহানগর গোয়েন্দা বিভাগও স্পেশাল ব্রাঞ্চের ৪১ কর্মকর্তাদের ৫ দিনের এক প্রশিক্ষণ দেন। সে সময় এফবিআইয়ের ছয় সদ্যস এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দফতরের একজন বিশেষঞ্জ অংশগ্রহণকারীদের অপরাধস্থলে কার্যক্রম পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা, দেহের তরল পদার্থ ও ওরক্স আহরণের প্রক্রিয়া, অপরাধস্থলের আলাকচিত্র গ্রহণ, ডিএনএ প্রমাণ সংগ্রহ, চুল ও অন্যান্য আশজাতীয় বস্তু আহরণ, সুপ্ত আঙুলের চাপ আহরণ এবং মানব দেহের ধবংসাবশেষ পুনরুদ্ধারের মতো বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেন এফবিআই দল।

 

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close