প্রচ্ছদ রচনা

ফুটানির শেষ কোথায়?

বই পড়তে চোখ বুলাচ্ছি রক্ষিত বই এর সেলফে। হাতে তুলে নেই আবু হাসান শাহরিয়ারের অর্ধসত্য। বেশ আগে প্ড়েছি। কিন্তু জানিনে আবার পড়তে ইচ্ছে হল। পড়তে গিয়ে তার ফুটানি শব্দটিতে দৃষ্টি গোচর হয়। আজ লিখতে বসে লিখার শিরোনাম করতে বার বার গুন পোকার মত ফুটানি শব্দটি মাথায় গুন গুন করে। তাই বেচে নেই আজকের এই লিখার ফুটানি শিরোনাম।

সুপ্রিয় পাঠক, ব্যাক্তি জীবনে অনেকেরই ফুটানি চোখে পড়ে। কোন ব্যাক্তি নিজেকে তুলে ধরতে গিয়ে জীবনের যে অলিগলি দিয়ে প্রবেশ করেন নাই। তিনি সেই অলিগলির পথিক বলে জাহির করেন।উদ্দেশ্য নিজেকে বেশি করে তুলে ধরা।

স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার ফুটানি নিজ নিজ পিতৃস্থানের মন্দ বা খারাপ দিক চাপা দিয়ে শুধু গৌরব উজ্জ্বল দিক তুলে ধরেন। গ্রামের স্বল্প শিক্ষিত হতে শহরে বেপে উঠা উচ্চ শিক্ষিত লোকের মধ্য তা খুজে পাওয়া যায়। এই ফুটানি মধুর সম্পর্কে চিড় ধরায়।

গ্রাম্য মোড়লদের উত্তর সুরির ফুটানি- মোড়লদের ছেলে ভাতিজা উৎকৃষ্ট পরিবারের সন্তান বলে নিজেকে জাহির করে। কিন্তু কোন কোন ক্ষেত্রে দেখা যায় অনেকের কর্মকান্ড নিকৃষ্টতম স্তরে ধাক্কা দেয়। সাধারণ মানুষের কাছে তাদের পরিচয় মদখুর জুয়াখুর বলে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বারদের ফুটানি অমুক প্রাথীকে ভোট যুদ্ধে পরাজিত করে বিজয়ী হওয়ার ফুটানি। কিন্তু এর পিছনের ইতিহাস বড় করুন। কোটি টাকার বিনিময়ে যে লাভ তা চাপিয়ে যান। পরবতীতে এইসব ব্যাক্তিগন সারাটি জীবন পস্থায় তাদের এই গ্রহিত কাজের জন্য।পারিবারিক জীবনে নেমে আসে অশান্তি। শান্তিকুঠির থেকে সুখ নামের পাখিটি ডানা মেলে আকাশ পানে উড়ে যায়। আর ধরা দেয়না। েএই সুখ পাখি আকাশে উড়ে উড়ে হিন্যমনতায় ডাদের হৃদয় ভরপুর তাদেরকে ধিক্কার জানায়। উপজেলা ও সংসদ সদস্যগণও একদৌড়ে পিছে নেই। গদি পাকা পুক্ত রাখতে পোষেন মাসুল বাহিনী। পিচনে স্লোগান মুখর শিক্ষার্থী। যাদের ক্লাসে ব্যস্থ থাকার কথা। তারা বুজে না বুজে দৌড়ায় নেতাদের পেচনে। মাননীয় সাংসদদের কাজ কল মানুষ, গরু, চাগল, মহিষ এবং বৃক্ষ রাজির রখ্সণাবেক্ষণে সুদূর প্রসারি আইন প্রনয়ণ করা। কিন্তু তাহা উপেক্ষা করে ইউনিয়স পরিষদের চেয়ারম্যান মেম্বারদের কাজ স্বহস্তে স্ব গৌরবে তুলে নিয়ে ফুটানি দেখান। দেশের সর্ব উচ্চ পরিষদ হল মন্ত্রীপরিষদ। মানব যেমন অপারেট করে মানুষের মাথা বা মগজ। তেমনি মন্ত্রীপরিষদ দেশের মাথা বা মগজ। কোটি কোটি মানুষের ভাগ্য নিয়ন্ত্রা। এই মগত পরিষদের মগতবিদদের ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় বেশি করে সৎ বাক্য উচ্চারন, যোষ দুর্ণীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বসে জনগনের উদ্দেশ্য অধিক ছবক প্রদান করলে সত্যের নিরবাসন হতে থাকে। সাধারণ মানুষের মনে দেখা দেয় সংশয়। প্রতিটক্ষের প্রচারণা সত্যে বলে মানুষ গ্রহণ করে। অধিক কথনের ফুটানি তাদের কাল হয়ে সামনে আসে। তখন তাদের পালানো ব্যতিত উপায় থাকে না। কেউ হয় শহর ছাড়া, কেউ হয় দেশ ছাড়া। আবার কেউ আশ্রয় নেয় কারাগারে। অস্বাভাবিক মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেতে। কিন্তু বাংলাদেশে অনেক সময় জেলখানা ও নিরাপদ নয়। যদি কুলক্ষণে ঘাতক মোস্তাকের আর্বিভাব হয়ে যায়।

এখন কলম বীরদরে ফুটানি দেখা যা। কেউ সেকেলে কবি, কেউ আধুনিক কবি আবার কেউ উত্তরাধুনিক কবি। এখানেও ছোট বড় ফুটানি। আমার প্রশ্ন জাগে যাদের হাতে প্রায় দুই হাজার বছর পূর্বে বাংলা কবিতার গুরাপত্তন হয়েছে। তাদেরকে সেকেলে বলাটাও ফুটানির পর্যায়ে পড়ে। সর্বত্রই দেখতে পা্ই আমাদের ফুটানির জ্বাল। জ্বালায় জ্বালায় বাংঙ্গালীদের জীবন ধারা বয়ে চলেছে।

এবার একটু আলোকপাত করা যাক বিলেতে বাংঙ্গালীদের সামাজিক সংগঠনের দিকে। দূর থেকে মনে হয় সবই ঠিকটাক। কথার পিছনে কথা, কারণের পিছনে কারণ, ঘটে যাওয়া ঘঠনার পিছনে  ঘটনা যেমন থাকে, সংগঠনের মূল লক্ষ উদ্দেশ্যর পিছনে অনেক ঘটকদের মনে সুপ্ত স্বপ্ন থাকে। তা বাস্তবায়নে এক ঝাক তরুনের প্রয়োজন পড়ে। সংগঠনের টিাকদারী তাদের উপর ন্যস্ত হয়। কিন্তু ঘঠকদের হাতেই রিমোট কন্ট্রোল থেকে যায়। তাদের মরজি মতো কমিটি চলতে হয়। কোথাও তার ব্যতয় ঘটলে ঘটকদের গায়ে আর সয়ে না। তারা দু:খে ক্ষোভে জ্বলে উঠেন।

তরুনরা উপাধি পায় বেয়াদব। শুরু হয় টেনে হেচড়ে নামানোর প্রক্রিয়া। ঘটকদের মধ্যে চলে ক্ষমতা হাতের মুঠোয় রাখার শেষ চেষ্টা।

জীবনের শেষ প্রান্তে দন্ডায়মান খেলারামদের সমাজ সেবার খেলা দেখে মনে মনে ভাবি পড়ন্ত বেলায় তাদের কি সত্য মৃত্যকে স্বরণ হয় না। ধরাগমনে যে মৃত্যুকে সাথে করে নিয়ে আসে মানুষ। এই মৃত্যু নিয়ে কি জীবন সায়াহ্নে ফুটানি করা যায় না। তা হলে হয়তো অমরধামে বেহেস্তি হুরপরিদের সঙ্গ পাওয়ার পথ হয়তো সুগম হতো।

মানুষের স্বভাব সুলভ আচরণ- মৃত্যু শব্দটি উচ্চারনে মানুষ ভয় পায়। পথভ্রষ্ট স্রষ্টাকে দেয়া তার প্রতিশ্রুতি পালনে বদ্ধপরিকর হয়ে মানুষকে জাগতিক মোহে আচন্ন রেখে মৃত্যুকে আড়াল রাখার চেষ্টা করে। এখানেও বেহেস্ত হতে বিতাড়িত শয়তানের বাহাদুরি বা ফুটানি। ইবলিশের ফুটানি আদমকে নরকাগমনে টেনে নিয়ে যাওয়া। আর মানুষের ফুটানি হওয়া চাই স্বর্গ লাভের পথ প্রশস্ত করা। এই মরাধামে মানুষ যতই না তার মেষ পরিণতির দিকে ধাবিত হচ্ছে ততই মানুষের ফুটানি বেড়ে চলেছে।

লেখক: মোহাম্মদ সাদ মিয়া।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আরও দেখুন...

Close
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close