দুনিয়া জুড়ে

ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হুগো শ্যাভেজ আর নেই

 

ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হুগো শ্যাভেজ আর নেই। মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানী কারাকাসের সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা গেছেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এক সরকারি ঘোষণায় এ কথা জানিয়েছেন। শ্যাভেজের বয়স হয়েছিল ৫৮ বছর। ২০১১ সালের জুন মাসে তার ক্যান্সার ধরা পড়ে। এক বছরেরও বেশী সময় ধরে ক্যান্সারে ভুগছিলেন তিনি। কিউবাতে তার শরীরে একাধিক অস্ত্রোপচারও হয়েছে। চিকিৎসা শেষে গত মাসে কারাকাসে ফিরে এসেছিলেন তিনি। তবে ক্যান্সারের চিকিৎসার পর তাকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি।

শ্যাভেজের মৃত্যুতে ভেনিজুয়েলায় সাত দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।  সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের এই নেতা ১৪ বছর দেশটির ক্ষমতায় ছিলেন। আজ বুধবার এক শোক মিছিলে মিলিটারি একাডেমী নিয়ে যাওয়া হবে শ্যাভেজের মৃতদেহ। সেখানে আগামী শুক্রবার পর্যন্ত শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য মরদেহ রাখা হবে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় টেলিভিশনে আবেগজড়িত কণ্ঠে মাদুরো ঘোষণায় বলেন, আমরা সবচেয়ে কঠিন ও শোকাবহ খবর পেয়েছি যে, আমাদের কমরেড প্রেসিডেন্ট হুগো চেভেজ আজ বিকেল ৪টা ২৫ মিনিটে মারা গেছেন। প্রায় দুই বছর দুরারোগ্য ক্যান্সারের সাথে লড়াই করে তিনি মৃত্যু বরণ করেছেন। তিনি তার ঘোষণায় দেশের মানুষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন,  দেশের সার্বভৌমত্ব ও একতা রক্ষায় পুলিশের পাশাপাশি দেশব্যাপী সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হবে।

এর আগে তিনি বলেছিলেন, শ্যাভেজ শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত সমস্যায় ভুগছেন।  ক্যান্সার আক্রান্ত শ্যাভেজের অসুস্থতা ঠিক কতটা গুরুতর তা কখনোই স্পষ্ট করে বলেনি ভেনিজুয়েলার কর্তৃপক্ষ। এ ব্যাপারে আরো তথ্য জানানোর দাবিতে কয়েকদিন আগে কারাকাসে বিক্ষোভ মিছিলও হয়েছে। শ্যাভেজের মৃত্যুর পর এক সামরিক বিবৃতিতে বলা হয়, সেনাবাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা এবং নিরাপত্তা রক্ষা করবে এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্টের প্রতি অনুগত থাকবে। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, শ্যাভেজের মৃত্যু দক্ষিণ আমেরিকায় রাজনৈতিক ভারসাম্যে নাড়া দিতে পারে । একই সাথে অর্থনৈতিকভাবেও প্রভাব পড়বে। কারণ ভেনিজুয়েলা প্রতিবেশী অনেকগুলো দেশে বিশেষ করে ক্যারিবীয় অঞ্চলে বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কমে তেল বিক্রি করে থাকে।

উল্লেখ্য, ১৯৫৪ সালে জন্ম নেয়া শ্যাভেজ সামরিক একাডেমী থেকে ১৯৭৫ সালে গ্রাজুয়েশন করেন। দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম দৃঢ় ব্যক্তিত হিসেবে পরিচিত এই নেতা সাবেক একজন ছত্রীসেনা বা প্যারাট্রুপার ছিলেন। ১৯৯৮ সালে তিনি প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। এরপর ২০১২ সালের নির্বাচনেও তিনি পুনর্নিবাচিত হয়। ভেনিজুয়েলার সংবিধান অনুসারে বাধ্যবাধকতা থাকলেও কিউবায় ক্যান্সারের চিকিৎসাধীন শ্যাভেজ প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে হাজির হতে পারেননি। এ নিয়ে দেশটিতে বেশ বিতর্কের সৃষ্টি হয়। গত ডিসেম্বর মাসেই তার আরো অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসার প্রয়োজন দেখা দেয়ায় ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিকোলাস মাদুরোর নাম ঘোষণা করেন। এ দিকে শ্যাভেজের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেন, হুগো শ্যাভেজের মৃত্যুতে ভেনিজুয়েলা এখন একটা চ্যালেঞ্জিং সময়ে এসে পড়েছে। তিনি ভেনিজুয়েলার জনগণের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব বান কি মুন শ্যাভেজের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে তার পরিবার, ভেনেজুয়েলার জনগণ ও দেশটির সরকারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।

বন্ধুরাষ্ট্র ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্টের মৃত্যু সংবাদে সব ধরণের কর্মসূচী বাতিল করেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিনা ফার্নান্দেজ ডে ক্রিচনার। এক বার্তায় তিন দিনের শোক ঘোষণা করে কিউবা। পেরুর কংগ্রেসে শ্যাভেজের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। চিলি এবং ইকুয়েডরের সরকারও আনুষ্ঠানিকভাবে শোক জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে। বলিভিয়ার নেতা ইভো মোরালেস জানান, তিনি অচিরেই কারাকাসে রওয়ানা দিচ্ছেন। এদিকে ভেনিজুয়েলার সিনিয়র এক মন্ত্রী বলেন, আগামী ৩০ মধ্যে দেশটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলিরাস জাউয়া বলেন, শ্যাভেজের উত্তরাধিকারী মাদুরো আগামী নির্বাচনে অন্তবর্তী নেতার দায়িত্ব পালন করবেন। দেশটির সংবিধান অনুযায়ী আগামী ৩০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close