স্বদেশ জুড়ে

ভিটামিন ‘এ’ বড়ি নিয়ে আতংকিত সিলেট

 

 

সিলেটে আতংক বিরাজ করছে ভিটামিন ‘এ’ ও কৃমিনাশক বড়ি নিয়ে। অনেকেই বলছেন ভিটামিন ‘এ’ ও কৃমিনাশক খেয়ে শিশু অসুস্থ হওয়া এবং মারা যাবার ঘটনা ঘটেছে সিলেট শহরে। তাই যে সব শিশু ভিটামিন ‘এ’ ও কৃমিনাশক বড়ি খেয়েছে তাদের অভিভাবকদের চিন্তার শেষ নেই। এ নিয়ে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে তোলপাড় চলছে। দলে দলে লোকজন তাদের শিশুদের নিয়ে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভিড় জমাচ্ছেন। অনেকেই স্থানীয় কাউন্সিলর অফিসে ভিড় জমাচ্ছেন। অন্য দিকে আমাদের জেলা-উপজেলা প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন তাদের এলাকায় অনেক শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল ও কৃমিনাশক ট্যাবলেট খাওয়ানোর পর শিশুদের পেটে ব্যথা, ডায়রিয়া ও বমি শুরু হয়।

উল্লেখ্য, গত ২ মার্চ ভিটামিন-এ ক্যাম্পেইনের আওতায় সারা দেশের শূন্য থেকে ৫ বছর বয়সী আড়াই কোটি শিশুকে খাওয়ানোর জন্য ভারতের অলিভ হেলথ কেয়ারের কাছ থেকে ১০ কোটি পিস ক্যাপসুল কেনে সরকার। কিন্তু এসব ক্যাপসুল শিশু স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বলে আপত্তি জানায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এরপর এসজিএস ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড এসব ক্যাপসুল পরীক্ষা করে। তারা এর মানের ওপর আপত্তি জানাননি। যদিও তাদের পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন ছিল। তখন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রথম দফায় ক্যাপসুল খাওয়ানোর তারিখ পরিবর্তন করা হয়। এরপর স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রুহুল হকের নির্দেশে পরীক্ষার জন্য দ্বিতীয় দফায় সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয় এসব ক্যাপসুল। সিঙ্গাপুর থেকে এসব ক্যাপসুল  ‘ক্ষতিকর নয়’ বলে মন্তব্য করা হয়েছিল। তিন বছর আগে কেনা ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুলের মধ্যে ২ লাখ ইউনিটের প্রায় ১ কোটি ৫৭ লাখ ৫০ হাজার পিস ও ১ লাখ ইউনিটের প্রায় ১২ লাখ পিস ক্যাপসুল এখনো রয়ে গেছে। চলতি বছরের এপ্রিলে এসবের মেয়াদ শেষ হবে। সারা দেশে ২ লাখ ইউনিটের ক্যাপসুলের চাহিদা রয়েছে ২ কোটি পিস এবং ১ লাখ ইউনিটের ক্যাপসুলের চাহিদা ৩০ লাখ পিস। এ হিসাবে অবশিষ্ট ক্যাপসুলের সঙ্গে চাহিদার পার্থক্য যথাক্রমে ৪২ লাখ ও ১৮ লাখ পিস। অলিভের ক্যাপসুল মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর নির্ধারিত ২ মার্চ এবং পরবর্তীতে ৬ মার্চ ক্যাপসুল খাওয়ানোর তারিখ পরিবর্তন করা হয়। এতে ক্যাপসুলের মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার কিছুদিন পূর্বে মঙ্গলবার ওই ক্যাপসুলই খাওয়ানো হয়েছে।

বিশেষশজ্ঞ ডাক্তাররা এতে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তারা বলেছেন, ভিটামিন এ ক্যাপসুল ও কৃমিনাশক ট্যাবলেট খেলে  অনেক শিশুর বমির ভাব হতে পারে। এছাড়া  বাচ্চাদের একটু ঘুম ঘুম ভাব হতে পারে। এতে মৃত্যুর কোনো ঝুঁকি নেই।

সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. কামরুল ইসলাম অবশ্য এটাকে গুজব বলে উড়িয়ে দিলেও মানুষের মধ্য আস্থা তৈরী করতে কোন ভুমিকা রাখেননি। গত কয়েকদিন থেকেই ভিটামিন-এ ক্যাপসুল নিয়ে পত্র-পত্রিকা, ফেইসবুক, অনলাইনে আলোচনা হচ্ছিলো। তখন অনেকেই ভারত থেকে আমদানী করা এই ক্যাপসুলের গুনগত মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। এই সব প্রচারনার জবাব সঠিকভাবে দিতে পারলে ভিটামিন ‘এ’ ও কৃমিনাশক বড়ি খাওয়া নিয়ে এমন আতংক সৃষ্টি হতো না।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close