Featuredস্বদেশ জুড়ে

সরকারী গাড়ি কিনতে বাড়তি খরচ ৪১ কোটি টাকা

 

 

 

 

 

 

 

 

 

অমিতোষ পাল: স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্পে বাজারমূল্যের চেয়ে প্রায় ৬৮ লাখ টাকা বেশি দরে ৬০টি বিলাসবহুল পাজেরো স্পোর্ট জিপ গাড়ি কেনার উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে স্থানীয় সরকার সহযোগিতা প্রকল্পের (এলজিএসপি) জন্য গাড়িগুলো কেনা হবে। ইতিমধ্যে আনুষঙ্গিক সব প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করে বিশ্বব্যাংকের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বেশি টাকায় গাড়িগুলো কেনা হলে প্রকল্পের প্রায় ৪১ কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতি হবে।

অবশ্য প্রকল্প পরিচালক ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কে এম মোজাম্মেল দাবি করেছেন, আপাতদৃষ্টিতে বেশি দামে কেনা হলেও যে টাকা বেশি দেওয়া হচ্ছে, প্রায় সমপরিমণ অর্থ সরকারের রাজস্ব খাতেই জমা হবে। ফলে এটাকে ক্ষতি হিসেবে ধরা যায় না। জানা গেছে, দেশের তৃণমূল পর্যায়ের সড়ক যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য নেওয়া এলজিএসপি প্রকল্পে ৬০টি গাড়ি কেনার জন্য ২০১২ সালের ২১ অক্টোবর দরপত্র আহবান করা হয়। দরপত্রে বলা হয়, জাপানে তৈরি মিতসুবিশি কম্পানির ২৪৭৭ সিসির ২০১২ মডেলের পাজেরো স্পোর্ট জিপ সরবরাহ করতে হবে। ২০১২ সালের ৪ ডিসেম্বর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনটি প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অংশ নেয়। এর মধ্যে সরকারি মালিকানাধীন প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড প্রতি গাড়ির দর দেয় ৭৫ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। এজি অটো মোবাইলস লিমিটেড দর দেয় এক কোটি ১৪ লাখ ১৩ হাজার টাকা। এ ছাড়া কোকোসাই লিংকস লিমিটেড দর দেয় এক কোটি ৪৩ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। সরকারি প্রতিষ্ঠান প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের দরের চেয়ে কোকোসাই লিংকসের দরের ব্যবধান প্রতি গাড়িতে ৬৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা। এত ব্যবধানের পরও দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি কোকোসাই লিংকসের দরকেই চূড়ান্ত করে। বিশ্বব্যাংকের কাছে পাঠানো প্রস্তাবে তারা কোকোসাইয়ের কাছ থেকে গাড়ি কেনার সুপারিশ করে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, এই দামে গাড়ি কিনলে প্রকল্পের আর্থিক ক্ষতি হবে ৪০ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।

এজি অটোমোবাইলের ব্যবস্থাপক ইকবাল আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের কাছ থেকেই গাড়ি কিনতে হবে- এমন কোনো কথা নেই। কিন্তু মন্ত্রণালয় অনেক বিষয় পাশ কাটিয়ে এটা করছে।’

প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (বিপণন) তৌহিদুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশে একমাত্র প্রগতিই জাপান থেকে পাজেরো স্পোর্ট গাড়ি আমদানি করে থাকে। কাজেই আমরা যে দামে গাড়ি দিতে পারব, এর চেয়ে কম দামে আর কারো দিতে পারার কথা নয়। সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রগতির পক্ষে কাউকে ‘ম্যানেজ’ করার সুযোগও নেই। ফলে আমাদের গাড়ি কেনার ব্যাপারে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ আগ্রহী নয়।’ তিনি জানান, গাড়ি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্ধৃত দরের মধ্যে প্রগতির দরই সর্বনিম্ন। এর পরও প্রকল্প কর্তৃপক্ষ বেশি দামে গাড়ি কেনার উদ্যোগ নিয়েছে ও বেশি দরদাতাকেই সরবরাহকারী হিসেবে চূড়ান্ত করে বিশ্বব্যাংকের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছে।

কোকোসাই লিংকসের মহাব্যবস্থাপক মো. কবির কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ জাপান থেকে যন্ত্রাংশ এনে দেশে অ্যাসেম্বল করে। ফলে ওরা কম দামে দিতে পারবে। কিন্তু আমাদের তো পরিপূর্ণ গাড়ি জাপান থেকে আনতে হয়। ফলে আমাদের গাড়ির দাম তো বেশি পড়বেই।’

মো. কবির জানান, কর্তৃপক্ষ আমাদের জানিয়েছে, কোকোসাই কারিগরি মূল্যায়নে উত্তীর্ণ হয়েছে।

প্রকল্প পরিচালক কে এম মোজাম্মেল বলেন, ‘আমরাও চেয়েছিলাম সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ আমাদের সঙ্গে আলাপ করুক। কিন্তু দরপত্র জমা দেওয়ার আগে-পরে তারা আমাদের সঙ্গে কোনো আলাপ করেনি। প্রগতি দেশে অ্যাসেম্বল করায় তাদের গাড়ির দাম কম পড়ে- এটা ঠিক। কিন্তু বিদেশ থেকে সরাসরি আমদানি করা এ ধরনের গাড়ির মূল দামের ওপর ৪৫১ শতাংশ ট্যাক্স পায় সরকার। প্রগতি যেহেতু দেশে অ্যাসেম্বল করে, এ জন্য তাদের খরচও কম পড়ে। ফলে সরকার ট্যাক্স থেকে বঞ্চিত হয়। কিন্তু অন্য প্রতিষ্ঠান সরাসরি বিদেশ থেকে গাড়ি আনবে। ফলে ওই ট্যাক্সের টাকাটা সরকারের রাজস্ব খাতেই জমা হবে। কাজেই আপাতদৃষ্টিতে বেশি দামে গাড়ি কিনলেও সরকারের কোনো ক্ষতি নেই।

তিনি আরো জানান, আন্তর্জাতিক দরপত্রের কিছু নিয়ম থাকে। আমরাও সেই নিয়মের বাইরে যেতে পারি না। যে পদ্ধতিতে প্রগতির দরপত্রে অংশ নেওয়ার কথা, তারা ওই পদ্ধতি অনুসরণ করেনি। ফলে এমন অবস্থা হয়েছে। আমরা চাইলেও প্রগতির কাছ থেকে গাড়ি কিনতে পারছি না।

 

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close