Featuredস্বদেশ জুড়ে

এলো আবার প্রাণের বৈশাখ

 স্বদেশ জুড়ে ডেস্ক: এসো হে বৈশাখ, এসো এসো। পুরানো সব মুছে দিয়ে প্রাণে নতুন সম্ভাবনার আলো জ্বালাতে আবার এসেছে বাঙ্গালীর প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। বসন্তের শেষে রাত পোহালেই প্রথম সূর্যের হাত ধরে আসবে নতুন বাংলা বছর ১৪২০। সকল গ্লানী, দু:খ-বেদনা, হিংসা-হানাহানি মুছে আসবে নতুন আলো। আর সবাই বরণ করে নেবে বাংলা নব বর্ষ। বাংলা বছরের শেষ দিনে ‘চৈত্রসংক্রান্তি’র মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানানো হয় ১৪১৯ সালকে। আর বাংলা নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে এখন সারা দেশের মানুষ প্রস্তুত। সারা দেশে আয়োজন করা হয়েছে নানা অনুষ্ঠান-উৎসবের।

প্রতিনিয়তই রূপান্তর ঘটছে সংস্কৃতির। তা সত্ত্বেও হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গর্বে গরীয়ান বাঙালি আপন কৃষ্টির শিকড়কে আঁকড়ে ধরে বিশ্বসভায় মিলিত হতে সচেষ্ট। সেই বাস্তবতায় অর্থনৈতিক লেনদেন, ব্যবসা-বাণিজ্য প্রভৃতি প্রাত্যহিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় গ্রেগরিয়ান দিনপঞ্জিকা অনুসরণ করতে হয়। তবে বাঙালি তার নিজস্ব বর্ষপঞ্জিকে একেবারে বিসর্জন দেয়নি। নানা ক্ষেত্রে অনুসরণ করছে নিজেদের বর্ষপঞ্জি। বিশেষ করে নববর্ষকে রূপায়িত করে তুলেছে জাতির জীবনের প্রধানতম সর্বজনীন উৎসব হিসেবে। নানা কারণে ধূমায়মান হয়ে ওঠা ভেদবুদ্ধি ঘুচিয়ে, নতুন বছরের নব প্রভাতের আলো অন্তরে জাগিয়ে তুলবে মহামিলনের আকুলতা।

তবে এবার এক ভিন্ন পরিস্থিতিতে উদ্যাপিত হতে যাচ্ছে বাংলা নববর্ষ। সাম্প্রদায়িকতা ও হিংসাত্মক কর্মকাণ্ডের মুখে বাঙালির সব কৃতি, গৌরব নিয়েও কেমন যেন উৎকণ্ঠা চলছে। তবে এসব ছাপিয়েই আজ রোববার উৎসবের রঙে সাজবে বাংলাদেশ। স্বাগত জানাবে ১৪২০ বঙ্গাব্দকে। আপন জাতিসত্তার গৌরব ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের চেতনা নিয়ে দেশ ও দেশের বাইরে প্রবাসী বাঙালিরা প্রাণের উচ্ছ্বাসে বাংলা বছরের প্রথম দিনটিকে বরণ করবেন আজ।

রাজস্ব আদায়ের সুবিধার জন্য মোঘল সম্রাট আকবরের যুগে প্রবর্তন হয়েছিল বাংলা সালের। ষোড়ক শতকে আকবর ‘ফসলী সন’ প্রবর্তনের মাধ্যমে যে বাংলা সাল চালু করেছিলেন  সময়ের বিবর্তনে সেই দিনটি এখন বাঙালির প্রাণের উৎসব পরিণত হয়েছে। আকবরের নবরত সভার আমির ফতেহ উল্লাহ সিরাজি খাজনা আদায়ের সুবিধার জন্য হিজরি চান্দ্রবর্ষকে সৌরবর্ষের সঙ্গে মিলিয়ে নিয়ে ফসলি সালের শুরু করেছিলেন। তিনিই হিজরিকে বাংলা সালের সঙ্গে সমন্বয় করে বৈশাখ থেকে বাংলা নববর্ষ গণনা শুরু করেছিলেন। বৈশাখ নামটি নেওয়া হয়েছিলো নক্ষত্র ‘বিশাখা’ থেকে।

খাজনা আদায়ের মতো একটি রসহীন বিষয়ের সঙ্গে সময়ের আবর্তনে যুক্ত হয় গান বাজনা, মেলা আর ব্যবসায়ীদের হালখাতার অনুষ্ঠান। আজ আর খাজনা আদায় নেই। হালখাতার রেওয়াজও কমতির দিকে। কিন্তু উৎসবের আমেজে ঘাটতি নেই। সেটা এখন ছড়িয়ে পড়েছে শহর বন্দর আর গ্রামে, জাতি বর্ণ নির্বিশেষে সব বাঙালির মাঝে। সব ধর্মের মানুষ একাত্ম হয়ে উদযাপন করতে পারেন এমন প্রধান উপলক্ষ পহেলা বৈশাখ। সবকিছুর মতো পয়লা বৈশাখেরও বাণিজ্যিকীকরণ হওয়ায় তা পরিণত হয়েছে ভালো ব্যবসার সুযোগেও। দৈনন্দিন জীবনে বাঙালিপনার ছাপ কমই এমন নাগরিকও এদিন পান্তা-ইলিশে মজতে চান।

ছায়ানট জানিয়েছে তাদের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান সকাল ৬টায় শুরু হবে। সরকারি পঞ্জিকা মতে এবার পহেলা বৈশাখ ১৪ এপ্রিল, আর সনাতনী পঞ্জিকার হিসেবে তা পড়ে এপ্রিলের ১৫ তারিখে। রমনায় ২০০১ সালের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলার ঘটনার পর থেকে কড়া নিরাপত্তায় পালিত হয় এ অনুষ্ঠান। এবারও কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ডগ স্কোয়াড, সিসিটিভি আর প্রথমবারের মতো ইনফ্রা রেড ক্যামেরা নিয়ে প্রস্তুত র‌্যাব-পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এবার বাড়তি সংযোজন হিসেবে থাকছে রমনার আকাশে র‌্যাবের হেলিকপ্টারে মহড়া।

রাজধানীতে বর্ষবরণের মূল আয়োজন রমনা বটমূলে ছায়ানটের প্রায় চার দশকের নিয়মিত অনুষ্ঠানটি। ছায়ানটের এ প্রভাতী অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। প্রতি বছরের মতো এবারও ভক্তিরস ও দেশপ্রেমের গান নিয়ে সাজানো হয়েছে এই সঙ্গীতভিত্তিক আয়োজন।

 

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close