স্বদেশ জুড়ে

আবারও উত্তাল রাজপথ, ৩৬ ঘন্টা হরতাল

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

স্বদেশ জুড়ে ডেস্ক: আবারও হরতাল ডাকলো ১৮-দলীয় জোট। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুলসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের জামিন না হওয়ায় ১২ দিন পর কাল মঙ্গলবার ও বুধবার দেশব্যাপী ৩৬ ঘণ্টার হরতাল ডেকেছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন এই জোট। বিকেলেই জোটের মহাসচিব পর্যায়ের বৈঠকে ৩৬ ঘণ্টার হরতাল ডাকার সিদ্ধান্ত হয়।

গতকাল রোববার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, যুগ্ম মহাসচিব বরকতউল্লা ও ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরীর জামিন মঞ্জুর করেন। তাঁরা তিনজনই সংসদ সদস্য। কিন্তু ফখরুলসহ অপর সাত নেতার জামিন আবেদন নাকচ করা হয়। মহাসচিব পর্যায়ে জোটের বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, বিরোধী দলের সব নেতা-কর্মীকে মুক্তি, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে এই হরতাল ডাকা হয়েছে। একই দাবিতে ২৭ এপ্রিল ঢাকাসহ অন্যান্য জেলা শহরে প্রতিবাদ সমাবেশের কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে।

একটি বিস্বস্থ সূত্রে জানা যায়, নেতাদের জামিন না হলে হরতাল দেওয়ার ব্যাপারে আগে থেকেই জোটের সিদ্ধান্ত ছিল। মঙ্গল ও বুধবারের হরতালে বড় ধরনের হাঙ্গামা হলে বৃহস্পতিবারও সকাল-সন্ধ্যা হরতাল দেওয়া হতে পারে। এর আগে ৭ এপ্রিল মির্জা ফখরুলসহ বিএনপির নেতারা জামিন চাইতে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে গেলে তাঁদের আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানো হয়। এর প্রতিবাদে ৯ ও ১০ এপ্রিল টানা ৩৬ ঘণ্টার হরতাল দিয়েছিল ১৮-দলীয় জোট। ১৮-দলীয় জোটের একাধিক নেতা জানান, আপাতত ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে মধ্য মে পর্যন্ত করণীয় নিয়ে জোটে আলোচনা চলছে। এই সময়ের মধ্যে সরকারকে বড় ধরনের চাপে ফেলার চেষ্টা থাকবে। ৫ মে হেফাজতে ইসলামের ঢাকা অবরোধ কর্মসূচিও রয়েছে। এসব কর্মসূচির সঙ্গে মিলিয়ে জোটের পরবর্তী কর্মসূচি দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে আবারও দেশের রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়ানোর আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।

দলীয় গোপন সূত্র জানায়, এ মাসের শেষে অথবা মে মাসের শুরুতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযম ও বর্তমান সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কামারুজ্জামানের মামলার রায় হতে পারে। এই রায়ের প্রতিক্রিয়া জানাতে জামায়াত-শিবির পৃথক কর্মসূচি দেবে বলে বিএনপির চেয়ারপারসনকে জানানো হয়েছে। জামিন আবেদনের শুনানি: গতকাল ছিল ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিএনপির কারাবন্দী ১০ নেতার জামিন আবেদনের ওপর শুনানির ধার্য তারিখ। পল্টন, রমনা ও শাহজাহানপুর থানায় করা সাত মামলায় এসব নেতার জামিনের জন্য ৯ এপ্রিল ১৯টি আবেদন করা হয়েছিল। এর মধ্যে কোনো কোনো নেতা একাধিক মামলার আসামি।

গতকাল শুনানি শেষে মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. জহুরুল হক বিএনপির নেতা মওদুদ আহমদ, বরকতউল্লা ও শহীদ উদ্দীন চৌধুরীর জামিন মঞ্জুর করেন। জামিন না হওয়া সাত নেতা হলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও আমান উল্লাহ এবং যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন। মহানগর সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবদুল্লাহ আবু বলেন, সংসদ অধিবেশন চলছে। তাই তিনজন সাংসদকে জামিন দেন আদালত।

শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেন, গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে পুলিশ মামলা করে। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। আসামিরা উচ্চ আদালত থেকে জামিনে ছিলেন। ৭ এপ্রিল আত্মসমর্পণ করলে তাঁদের আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। এটা সম্পূর্ণ আইনি।

 

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close