স্বদেশ জুড়ে

এক্সিলেন্সি আপনাকে বলছি

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

সাজেদুল হক: মহামান্য প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ, আপনাকে অভিবাদন। আপনার নিজের এবং আমাদের জাতীয় জীবনের ইতিহাসে আজ এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। কারণ, বাংলাদেশের ২০তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে আজ শপথ নিতে যাচ্ছেন আপনি। সংসদীয়   গণতন্ত্রের যুগে কবে কখন বাংলাদেশের কোন প্রেসিডেন্ট এতটা জনপ্রত্যাশা নিয়ে বঙ্গভবনে গেছেন তা বলতে পারবো না। মহামান্য প্রেসিডেন্ট, আপনি নিয়তিতে বিশ্বাস করেন কিনা জানি না। তবে ইতিহাসের এক যুগসন্ধিক্ষণে আপনার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেয়া নিয়তি নির্ধারিত বলেই মনে হয়। তার আগে একটু পেছনে ফিরে দেখা যাক। গত বছর ২রা ডিসেম্বর দৈনিক মানবজমিনে প্রকাশিত এক লেখাতেই আপনাকে আমরা শিরোনাম করেছিলাম ‘বৃত্তের বাইরের মানুষ’ হিসেবে। কেন সে শিরোনাম তার ব্যাখ্যা আসলে নিষেপ্রায়জন। মাত্র ২৬ বছর বয়সে ’৭০-এর প্রাদেশিক নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়লাভ করেছিলেন আপনি। এরপর আর আপনাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। এগিয়ে চলেছেন সাফল্যে সার্থকতায়। পরাজয় শব্দটিকে ছেঁটে ফেলেন নিজের অভিধান থেকে। স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে সাতটি সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়ী  হন প্রত্যেকটিতে। বিরোধী দলের উপনেতার দায়িত্বপালন শেষে হন জাতীয় সংসদের স্পিকার। বুশ ডকট্রিনের এ যুগেও আপনি নিজেকে আলাদা করে রেখেছেন। জরুরি অবস্থার সময়েও আপনাকে দৌঁড়াতে হয়নি। কেননা আপনার বিরুদ্ধে কোন দুর্নীতির অভিযোগ ওঠেনি। নবম সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় বিএনপির কমপক্ষে দু’জন সংসদ সদস্যের পদ খারিজ করার সুযোগ এসেছিল আপনার সামনে। কিন্তু অনুদার রাজনীতির যুগে উদারতার উদাহরণ সৃষ্টি করে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং শাহ মোফাজ্জল হোসাইন  কায়কোবাদের সংসদ সদস্যপদ বহাল রাখেন আপনি।

মহামান্য প্রেসিডেন্ট, আমাদের আগের লেখায় বাংলাদেশের সংঘাতময় রাজনীতির অবসানে আপনার কাছ থেকে বাড়তি ভূমিকা প্রত্যাশা করেছিলাম। তখন আমরা জানতাম না পাঁচ মাস পর আপনি বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেবেন।

মহামান্য প্রেসিডেন্ট, আপনি এমন এক সময়ে বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট হলেন যখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংবাদ মাধ্যম বাংলাদেশের পরিস্থিতিকে গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতি হিসেবে বর্ণনা করছে। একের পর এক হরতালে, রাজনৈতিক সহিংসতায় আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি অচলপ্রায়। এটা সত্য, প্রধানমন্ত্রী শাসিত বাংলাদেশের সাংবিধানিক ব্যবস্থায় সব ক্ষমতাই প্রধানমন্ত্রীর হাতে অর্পিত। সংবিধানে প্রেসিডেন্টকে সে অর্থে কোন ক্ষমতাই দেয়া হয়নি। সাবেক প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দীন আহম্মেদ একবার ঠাট্টা করে বলেছিলেন, জানাজায় অংশ নেয়া ছাড়া প্রেসিডেন্টের কোন কাজ নেই। নির্মম হলেও তাই কিন্তু সত্য। এত কিছুর পরও আমরা কেন প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদের দিকে তাকিয়ে? এটা ঠিক প্রেসিডেন্ট হিসেবে যাদের নাম আলোচিত হচ্ছিল তাদের মধ্যে আপনিই সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ছিলেন। আপনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পরও কোন দলই কিন্তু নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। সংবিধানের বিস্ময়কর বিধানের বলে আপনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন আগামী পাঁচ বছরের জন্য। আট-নয় মাস পর ক্ষমতাসীন দলের নাম বদলে গেলেও প্রেসিডেন্ট হিসেবে আপনিই বহাল থেকে যাবেন।

মহামান্য প্রেসিডেন্ট, বহু পুরোনো ল্যাটিন প্রবাদ জনগণের চাহিদাই সর্বোচ্চ আইন। ঠিক এই মুহূর্তে বাংলাদেশের মানুষের সবচেয়ে বড় চাওয়া শান্তি। বোধশক্তিসম্পন্ন মানুষ মাত্রই বোঝেন আসল লড়াই এখনও শুরু হয়নি। যে লড়াইয়ের মূলে ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া। বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের রায় আর সংবিধানের সংশোধনীর বলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধান থেকে ছেঁটে ফেলা হয়েছে। বহু বিতর্ক সত্ত্বেও ওই ব্যবস্থাকে বাংলাদেশের জন্য সর্বোত্তম ব্যবস্থা মনে করা হচ্ছিল। নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে কেউ কেউ তত্ত্ব হাজির করছেন। সংলাপের তাগিদ দিচ্ছেন দেশী-বিদেশী সবাই। কিন্তু সংলাপের উদ্যোগটা নেবেন কে? এতদিন পর সে প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেছে। মহামান্য প্রেসিডেন্ট, আপনাকেই নিতে হবে সে সংলাপের উদ্যোগ। তবে শুধু উদ্যোগের জন্য উদ্যোগ নয়, সংলাপ যেন সফল হয় সে তাগিদ দিন আপনি রাজনৈতিক দলগুলোকে। আমরা বিশ্বাস করি, আপনার অভিভাবকসুলভ ভূমিকা বাংলাদেশকে আবার খাদের কিনারা থেকে কেন্দ্রে নিয়ে আসবে। আবদুল হামিদেই আপাত সমাধান দেখছেন অনেক পর্যবেক্ষক।

 

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close