Featuredপ্রযুক্তি আকাশ

ফোরজি নেটওয়ার্ক নিয়ে আগ্রহী চীনা

প্রযুক্তি আকাশ ডেস্ক: বাজার বিশ্লেষকদের মতে, চলতি বছরে অনুমতি পাওয়া অতি দ্রুতগতির ইন্টারনেট সুবিধা চতুর্থ প্রজন্মের নেটওয়ার্ক স্থাপনে ব্যপকভাবে বিনিয়োগ করবে চীনা টেলিকম যন্ত্রাংশ নির্মাতা কোম্পানিগুলো। এটা তাদের আগ্রহের বহিঃপ্রকাশ। অবশ্য এরই মধ্যে ২০১০ সালে জাপানে প্রথম ফোরজি নেটওয়ার্ক স্থাপন করা হয়।

ফোরজি নেটওয়ার্ক স্থাপনে সবচেয়ে বেশি ব্যয় করবে চায়না মোবাইল। ২ লাখ ফোরজি বেজ স্টেশন স্থাপনে ৪ হাজার ১৭০ কোটি ইউয়ান (৬৭৫ কোটি ডলার) খরচ করবে কোম্পানিটি। এর মাধ্যমে ৭১ কোটি গ্রাহককে ফোরজি নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে সক্ষম হবে তারা। যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যার চেয়ে চায়না মোবাইলের গ্রাহকসংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি। অবশ্য চীনের এ বিনিয়োগ থেকে ইউরোপীয় নেটওয়ার্ক যন্ত্রাংশ নির্মাতারা খুব বেশি লাভবান হবে না বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। কারণ চীনা ভূখণ্ডে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে দেশীয় কোম্পানিগুলোকেই অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে তারা। এর আগে থ্রিজি নেটওয়ার্ক স্থাপনের সময়ও অপেক্ষাকৃত বেশি খরচে দেশীয় হুয়াউই কিংবা জেডটিইর যন্ত্রাংশ ব্যবহার করেছিল চীনা অপারেটরা।

বিশেষ করে বহুমুখী বেতার প্রযুক্তি সরবরাহ করার দিকেই মনোযোগ ছিল যন্ত্রাংশ নির্মাতাদের। বহুমুখী বেতার প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে একই বেজ স্টেশন থেকে টুজি, থ্রিজি ও ফোরজি তরঙ্গ প্রচার সম্ভব। এদিকে বাজার দখল সীমিত হলেও প্রচলিত থ্রিজি নেটওয়ার্কের মধ্যেই ফোরজি তরঙ্গ স্থাপনের পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছে স্যামসাং ও আলকাটেল-লুসেন্ট। তবে চীনের নিজস্ব টিডিডি ও এফডিডি মানদণ্ড অনুসরণ করা বিদেশী কোম্পানিগুলোর জন্য একটু কষ্টসাধ্য বলেই মনে করেন বিশ্লেষকরা। এ কারণে হুয়াউই এবং জেডটিইর সঙ্গে তারা কতটুকু পাল্লা দিতে পারবে, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। বিশ্লেষকরা জানান, বিশ্বের টেলিকম বাজারে থ্রিজি নেটওয়ার্কের ক্ষেত্রে হুয়াউই এবং জেডটিইর দখলেই রয়েছে ৮০-৮৫ শতাংশ। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান চায়না এভারব্রাইট রিসার্চের বিশ্লেষক মাইকেল লির মতে, চায়না মোবাইলের ফোরজি প্রকল্পের কাজ ৬০-৭০ শতাংশই পাবে চীনা কোম্পানিগুলো। কারণ বর্তমান তরঙ্গের ওপর নির্ভর করেই ফোরজি নেটওয়ার্ক স্থাপনের পরিকল্পনা করছে অপারেটরটি।

এদিকে এ খাতের ঊর্ধ্বতন নির্বাহীদের আশঙ্কা চীনের বাজারে বিদেশী কোম্পানিগুলো কাজ পেলে তা হুয়াউই কিংবা জেডটিইর ব্যবসার জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়াবে। নিয়মবহির্ভূত বাণিজ্য ভর্তুকি পাওয়ার অভিযোগে হুয়াউই ও জেডটিইর ওপর নজরদারি করছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন।

গত বছর ইউরোপে ফোরজি নেটওয়ার্ক স্থাপনে বড় ধরনের কাজ বাগিয়ে নেয় হুয়াউই। তাতে ইউরোপীয় প্রতিদ্বন্দ্বী আলকাটেল-লুসেন্ট ও নকিয়া-সিমেন্স নেটওয়ার্কসের (এনএসএন) চেয়ে অনেক এগিয়ে চীনা কোম্পানিটি। আলকাটেল-লুসেন্টের ওয়্যারলেস শাখার প্রধান ডেভিড গেরি বলেন, খরচের দিক দিয়ে এ বছর চীনা কোম্পানিগুলোর ধারেকাছে কেউ আসতে পারবে না।

বিশ্ব টেলিকম যন্ত্রের বাজারে অবশ্য এখন পর্যন্ত ৩৫ শতাংশ দখল নিয়ে শীর্ষে আছে সুইডেনের এরিকসন। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা হুয়াউইর বাজার দখল ১৭ শতাংশ; এনএসএনের ১৫ এবং আলকাটেল-লুসেন্টের দখল ১২ শতাংশ। সেখানে কাজ পায় এরিকসন ও এনএসএন। স্যামসাংও ছোটখাটো কয়েকটি নেটওয়ার্ক স্থাপন করেছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রে ফোরজি নেটওয়ার্ক স্থাপনের কাজ পায় মূলত এরিকসন ও আলকাটেল-লুসেন্ট।

এক্ষেত্রে ইউরোপীয় টেলিকম যন্ত্রাংশ সরবরাহকারীদের চেয়েও বেশি ব্যয় করবে হুয়াউই এবং জেডটিইর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান গার্টনার জানায়, চলতি বছরে নেটওয়ার্ক-সংক্রান্ত যন্ত্রপাতির বিক্রি ২ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়াবে ৭ হাজার ৯০০ কোটি ডলারে।

বিশ্লেষকদের  জরিপ মতে, গত বছর সারা বিশ্বে নেটওয়ার্ক যন্ত্রপাতির বিক্রি সামান্য কমে গিয়েছিল। চলতি বছরে নেটওয়ার্ক হালনাগাদ করতে সাড়ে ৩৪ হাজার কোটি ইউয়ান (৫ হাজার ৬০০ কোটি ডলার) ব্যয় করবে চায়না মোবাইল, চায়না ইউনিকম ও চায়না টেলিকম। এ ব্যয়ের মধ্যে রয়েছে ফোরজি নেটওয়ার্ক স্থাপন। এ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে আইফোন কিংবা গ্যালাক্সি স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা সাধারণ নেটওয়ার্কের তুলনায় পাঁচ গুণ বেশি গতিতে তথ্য আদান-প্রদান করতে পারবেন।

সূত্র: রয়টার্স।

 

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close