স্বদেশ জুড়ে

চুপসে গেলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দীন ইসলাম: হঠাৎ করেই চুপসে গেলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর। ক্যামেরা দেখলেই যিনি কথা বলার জন্য ব্যাকুল থাকতেন, এখন তিনি ব্যতিক্রম। সব মিডিয়াকর্মীকে এড়িয়ে চলছেন। মিডিয়া কর্মীদের প্রশ্নের মুখে পড়লে মৃদ্যু হেসে চলে যাচ্ছেন। কোন জবাব দিচ্ছেন না। মিডিয়ার সামনে কথা না বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন বদলে যাওয়ার নেপথ্যে রয়েছে নানা তথ্য। কেউ বলছেন, সরকারের হাইকমান্ডের নির্দেশে আপাতত মিডিয়াতে কোন কথা বলবেন না স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আবার কেউবা বলছেন, নিজের প্রেরণা থেকে আপাতত মিডিয়ার সামনে কথা বলা থেকে বিরত ডাক সাইটের এ মন্ত্রী। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগের বাণিজ্যমন্ত্রী বর্তমানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী ফারুক খান অনেক বেফাঁস মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের বিরাগভাজন হয়েছিলেন। এক সময় ফারুক খানের মন্তব্য করা খাবার কম খাওয়া তত্ত্বসহ নানা কথা মানুষের মুখে মুখে ফিরত। গত এক বছর ধরে অনেকটা বাধ্য হয়ে মিডিয়াতে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ক্ষেত্রে এমনটাই ঘটেছে। সাভারের রানা প্লাজার ধস নিয়ে দেশে- বিদেশের মিডিয়াতে যখন ব্যাপক আলোচনা পর্যালোচনা চলছে তখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, কিছু হরতাল-সমর্থক ভবনটির ফাটল ধরা দেয়ালের বিভিন্ন স্তম্ভ ও ফটক ধরে নাড়াচাড়া করেছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। ভবনটি ধসে পড়ার পেছনে এটি একটি সম্ভাব্য কারণ হতে পারে। পরদিন সচিবালয়েও সাংবাদিকদের কাছে এ বক্তব্য সমর্থন করে মন্তব্য করেন তিনি। সারা দেশে ব্যাপক সমালোচনার মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, প্রচারমাধ্যমে তাঁর ‘পূর্ণ বক্তব্য’ আসেনি। তা বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ওদিকে সাভারের ভবনধস নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীরের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন আওয়ামী লীগসহ ক্ষমতাসীন জোটের নেতারা। সমালোচকদের মধ্যে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ শীর্ষ নেতারা সমালোচনা করে বক্তব্য দেন। যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যকে আখ্যা দেন বেফাঁস কথা বলে। মুন্সিগঞ্জে এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, এখন গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক স্বার্থে বেফাঁস কথা না বলে উদ্ধার অভিযানে যোগ দিয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো উচিত। ক্ষমতাসীন মহাজোটের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, প্রধানমন্ত্রী সংসদে দোষীদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেয়ার পরও সাভার বিল্ডিং ধসের কারণ সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বহীন বক্তব্য শুধু দুর্ভাগ্যজনকই নয়, কান্ডজ্ঞানহীনও। তাঁর ওই বক্তব্য দোষী মালিকদের আড়াল করার শামিল। মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এক বিবৃতিতে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বক্তব্য দেওয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীরের পদত্যাগ দাবি করেন। এছাড়া আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য  মোহাম্মদ নাসিম বলেন, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীরা অযথা কথা বলে মানুষের কাছে সরকারকে বিতর্কিত করছেন। কোন ঘটনা ঘটলে অন্যের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করছেন। এছাড়া সাভারে ভবন ধসের সম্ভাব্য কারণ উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরের দেয়া বক্তব্যকে ‘বালকসুলভ’ বলে মন্তব্য করেন আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উল্টা-পাল্টা কথা বলতে নিষেধ করে বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসুন। ওদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন মন্তব্য নতুন নয়। এর আগের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঈদের আগে ঘরে তালা ঠিকভাবে দিয়ে যানসহ নানা কথা বলে আলোচনার জন্ম দেন। বিএনপি আমলে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী’র ‘আল্লাহর মাল আল্লাহ নিয়ে গেছে বা লুৎফুজ্জামান বাবরের উই আর লুকিং ফর শক্রজ জাতীয় কথাবার্তা ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছিল।

সৌজন্য: মানবজমিন

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close