Featuredস্বদেশ জুড়ে

দিনে এক মাস রাতে অনির্দিষ্ট

 

 

 

 

 

 

 

 

আগামী এক মাস কাউকে সমাবেশ করতে দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও নাশকতা প্রতিরোধে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। রোববার দুপুরে চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলায় নতুন জোরারগঞ্জ থানা উদ্বোধন করার পর সাংবাদিকদের এ জানান মন্ত্রী। বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক দল, তবুও কেন সভা-সমাবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যারা সভা-সমাবেশের নামে গাড়ি ভাঙচুর করে, জ্বালাও-পোড়াও করে, দোকান-পাঠে আগুন দেয়, পবিত্র মসজিদে হামলা করে পবিত্র কোরআনে আগুন দেয়, তাদের আর কোথাও সভা-সমাবেশের অনুমতি দেয়া হবে না।’ তবে সারা দেশেই সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ নাকি শুধু রাজধানীতে তা স্পষ্ট করেননি মন্ত্রী। মন্ত্রী বলেন, ‘যারা সমাবেশের অনুমতি চাচ্ছেন কিংবা যাদেরকে সমাবেশের অনুমতি দেয়া হচ্ছে না, তাদের মনে রাখা উচিত সংবিধানের যুক্তিসঙ্গত বিধি- নিষেধ সাপেক্ষে অনুমতি দেয়ার কথা থাকলেও আগামী একমাস কোনো দলকেই সভা সমাবেশের অনুমতি দেয়া হবে না।’ সংলাপ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ এখনো সংলাপের পক্ষে, বিরোধী দল সংসদ অথবা সংসদের বাইরে যেকোনো জায়গায়ই আলোচনায় বসতে পারে, তবে সংসদই আলোচনা সর্বোত্তম জায়গা।’ উল্লেখ্য, গত ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে অবস্থানকারী হেফাজত কর্মীদের সরিয়ে দেয়ার পর রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সভা-সমাবেশ করতে দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। সমাবেশের জন্য দুই দফা আবেদন করেও অনুমতি পায়নি বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দল। তাছাড়া গত কয়েক দিন ধরে প্রেস ক্লাবের সামনে কোনো সভা-সমাবেশ করতে দিচ্ছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

 

দিনে এক, রাতে আরেক। দিনে বলেছিলেন এক মাসের জন্য। রাতে বললেন অনির্দিষ্টকালের জন্য। প্রথম উক্তি চট্টগ্রামে এক বৈঠকে। পরের উক্তি বিবিসি’র সঙ্গে সাক্ষাৎকারে। বক্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর। বিবিসি বাংলাকে গতকাল তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলো শান্তিপূর্ণভাবে সভা-সমাবেশ করবে এমন নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত রাজধানীতে কোন দলকেই সভা-সমাবেশ করতে দেয়া হবে না। এর আগে গতকাল চট্টগ্রামে এক অনুষ্ঠানে তিনি আভাস দিয়েছিলেন ওই নিষেধাজ্ঞা হবে এক মাস মেয়াদের। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামও তখন এক মাসের কথাই বলেছিলেন। রাতে বিবিসিকে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, ‘আমরা বলেছি এটা হবে  অনির্দিষ্টকালের জন্য।’ সরকার অনেক কিছু পারে। তাদের অনেকগুলো হাত, সে অনেকগুলো হাতের সামনে অনেকগুলো কলকব্জা। নিজেদের ইচ্ছা, খেয়াল চরিতার্থ করতে তারা এক হাতে এ কল টিপে আরেক হাতে আরেক কল চালু করতে পারেন, আবার অন্য হাতে চেপে ধরতে পারেন অন্য কোন কব্জা। দেশে এখন চলছে এমনই ইচ্ছা-খেয়ালের খেলা। আর তাই কথা নেই বার্তা নেই মিছিল সভা-সমাবেশ এমনকি মানববন্ধন পর্যন্ত বন্ধ করে দেয়া হয়েছে কোন ঘোষণা ছাড়াই। প্রথমে জানা গেল এ নিষেধাজ্ঞা সারাদেশের জন্যই। এখন শোনা যাচ্ছে কেবল রাজধানী ঢাকাতেই। কোন আদেশ, নির্দেশ, অধ্যাদেশ নেই- চট্টগ্রামে এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বক্তৃতা থেকে জানা গেল ব্যাপারটা। সরকারের শীর্ষ ব্যক্তিরা, ক্ষমতাসীন মহাজোটের নেতারাও জানেন না এমন এক নিষেধাজ্ঞার কথা। মহাজোটের অন্যতম নেতা রাশেদ খান মেনন তো বলেই ফেলেছেন, ‘এটা গণতন্ত্রবিরোধী। এর ফলে বিরোধী দল হাতে এক কার্যকর অস্ত্র পাবে।’ সমস্যা হলো, পৃথিবীর সকল ব্যক্তির সকল কাজের পক্ষেই যুক্তি আছে। বস্তুত যে কেউ তার যে কোন কাজের পক্ষে যুক্তি খাড়া করতে পারেন। তাই বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের কারণ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলতে পারেন, রাজনৈতিক দলগুলো শান্তিপূর্ণভাবে সভা সমাবেশ করবে এমন নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত রাজধানীতে কোন দলকেই সভাসমাবেশ করতে দেয়া হবে না। ঘূর্ণিঝড় মহাসেন-এর বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠার জন্য ত্রাণকাজ, পুনর্বাসনের সুবিধার জন্যই নাকি এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে এমন কথাও বলেছিলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী।

মনে হয়, সরকার ভুলে গেছে রাষ্ট্র কেবল সরকারের নয় সব নাগরিকের-ক্ষমতাসীনের পাশাপাশি ক্ষমতাহীনদেরও। মনে পড়ে ঈশপের নেকড়ে ও মেষশাবকের কাহিনী। ওই কাহিনী এটাই বুঝিয়েছে- মতলববাজ নেকড়ে কখনও যুক্তির জোর মানে না, তারা খাটায় জোরের যুক্তি। এমন জোর খাটানোর পরিস্থিতি জরুরি অবস্থাতেই সম্ভব। দেশে কি সেই অবস্থাই চলছে অঘোষিতভাবে!

গতকাল বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, অনির্দিষ্টকালের জন্য ঢাকায় রাজনৈতিক দলের মিছিল-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে সরকার। ওই সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো শান্তিপূর্ণভাবে সভা-সমাবেশ করবে এমন নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত রাজধানীতে কোন দলকেই সভা-সমাবেশ করতে দেয়া হবে না। এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, যুক্তিটা হলো এই- আমাদের সংবিধানে আছে যুক্তিসঙ্গত বাধা-নিষেধ সাপেক্ষে সকলকে সমাবেশের এবং সংগঠনের অধিকার দেয়া আছে। এখন এই যুক্তিসঙ্গত বাধা-নিষেধ আরোপ করা অর্থ হলো যারা সমাবেশ করবেন তারা জনগণের সম্পত্তি নষ্ট করবেন না। পরিবহনে আগুন দেবেন না। বাস পোড়াবেন না। রেলে আগুন দেবেন না। কোরআন শরীফ পোড়াবেন না। যতক্ষণ না পর্যন্ত আমরা নিশ্চিন্ত হচ্ছি যে, এ ধরনের দুর্বৃত্তরা সমাবেশের নাম করে এ ধরনের কাজগুলো করবে না ততক্ষণ পর্যন্ত ওই যুক্তিসঙ্গত বাধা-নিষেধের আওতায় আমরা এগুলো করতে না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা বলেছি, অনির্দিষ্টকালের জন্য। বিবিসি তার কাছে জানতে চায়, বাংলাদেশে এ ধরনের পলিটিক্যাল ডেমোনেস্ট্রেশন নতুন কিছু না। এ ধরনের বহু ঘটনা আমরা দেখেছি আগে। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে এ ধরনের রাজনৈতিক (কর্মকাণ্ড) হয়েছে। কিন্তু কেউ রাজপথে এরকম জনসম্পত্তি নষ্ট করে নাই। কেউ বিষ্ঠা ত্যাগ করে রাজপথ অব্যবহার্য করে নাই। কেউ ছোটখাটো দোকানপাট পুড়িয়ে দেয় নাই। বাসে আগুন দেয় নাই। রেলপথে আগুন দেয় নাই। কেউ কোরআন শরীফ পুড়িয়ে দেয় নাই। বইপুস্তক পুড়িয়ে দেয় নাই। কাজেই এটা নতুন। বিবিসি তার কাছে ফের জানতে চায়, কিন্তু তাহলে শুধু ঢাকা শহর কেন, মানে ঢাকার বাইরে তারা (সমাবেশ) করতে পারবে? জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ ঘটনাটা ঢাকায় ঘটেছে বলে ঢাকায় আমরা বলেছি। অন্য জায়গায়ও ঘটেছে। তবে ঢাকায় যে স্কেলে ঘটেছে সে স্কেলে ঘটেনি। বিবিসি তার কাছে জানতে চায়, মানে ঢাকাকে নিরাপদ রাখতে চাচ্ছেন আপনারা? জবাবে তিনি বলেন, আমরা সব জায়গাকে নিরাপদ রাখতে চাচ্ছি। আমি বলেছি, ঢাকায় যে স্কেলে ঘটেছে সেটা অন্য জায়গায় ঘটেনি বলে ঢাকায় আমরা আপাতত করছি। এটা সবার জন্য প্রযোজ্য। বিবিসি ফের প্রশ্ন করে, নিশ্চিতভাবেই বিরোধী দল এ জিনিসটাকে ভালভাবে নেবে না এবং তারা হরতাল হয়তো ডাকতে পারে। সরকারের সিদ্ধান্ত না মানতে পারে। তাহলে তো আরও বেশি বিশৃঙ্খলা হবে। মহীউদ্দীন খান আলমগীর বলেন, শোনেন, বিরোধী পক্ষ নেবে, না নেবে সেই বিবেচনায় কিন্তু আমরা জনগণের সম্পত্তি বিনষ্ট হতে দিতে পারি না। জননিরাপত্তা ব্যাহত হতে দিতে চাই না।  বিরোধী দল জননিরাপত্তা ব্যাহত করেছে। কোরআন শরীফ পর্যন্ত পুড়িয়েছে। ঢাকায় ৪৮ ঘণ্টায় নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করার অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরতান্ত্রিক আবেদন পর্যন্ত জানিয়েছে। কাজেই যতক্ষণ না পর্যন্ত তারা গণতান্ত্রিক বিশ্বাসে ফিরে না আসে, যতক্ষণ না পর্যন্ত দেশের আইন মান্য করতে শেখে বা তার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয় ততক্ষণ পর্যন্ত তাদেরকে তো সে পর্যায়ে রাখতে হবে। বিবিসি’র পাল্টা প্রশ্ন- ঢাকার বাইরের মানুষ তো মনে করতে পারে ঢাকা কেন বিশেষ একটা জায়গা হলো? অন্য জায়গায় করতে পারবে, ঢাকায় পারবে না কেন? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি ইতিমধ্যে এর ব্যাখ্যা দিয়েছি যে, ঢাকায় এরা সব থেকে বড় স্কেলে কাজটা করেছিল। অন্য জায়গায় করেনি। কাজেই ঢাকার ওপর আমরা (নিষেধাজ্ঞা) দিয়েছি। অন্য স্থানেও যদি এ স্কেলে করতে চায় বা করার আস্পর্ধা দেখায় তবে নিশ্চয়ই তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হবে।

চট্টগ্রামে যা বলেছিলেন-

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম ও মিরসরাই প্রতিনিধি জানান, আগামী এক মাস কোন রাজনৈতিক দলকে সভা-সমাবেশ করতে দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর। গতকাল চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে থানা উদ্বোধনকালে তিনি একথা বলেন। এই বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, অনুমতি দিলে ওরা তাণ্ডব শুরু করে। আন্দোলনের নামে গাড়ি ভাঙচুর হয়। দুর্ভোগ পোহাতে হয় লোকজনকে। কেবল তাই নয়, তারা জ্বালাও পোড়াও করে, দোকানপাটে আগুন দেয়, পবিত্র মসজিদে হামলা করে কোরআনে শরীফে আগুন দেয়ার ঘটনাও ঘটিয়েছে। তাই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, কোন সংগঠনকেই এক মাসের জন্য মিছিল-সমাবেশ করতে দেয়া হবে না। রাতে অবশ্য বিবিসি-কে তিনি বলেছেন, এ নিষেধাজ্ঞা অনির্দিষ্টকালের জন্য।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হেফাজতে ইসলামের কড়া সমালোচনা করেন। তাদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সমাবেশের অনুমতি নিয়ে গত ৫ই মে হেফাজতে ইসলাম যা করেছে তা কোন আলেম সমাজ করতে পারে না। পুরো ঘটনাই দেশবাসী দেখেছে। বিএনপি-জামায়াত হেফাজতে ইসলামের ওপর ভরসা করে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সরকার উৎখাতের স্বপ্ন দেখেছিল। কিন্তু ১০ মিনিটে তাদের সে স্বপ্ন ভেঙে গেছে। সংলাপের জন্য সংসদকে উপযুক্ত স্থান উল্লেখ করেন  স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এই বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সংলাপের জন্য সরকার সর্বদা প্রস্তুত। তবে এজন্য কোন ধরনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবের প্রয়োজন নেই।’ আসন্ন বাজেট অধিবেশনে বিরোধী দলকে যোগ দিয়ে আলোচনার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘৫ই মে ঢাকায় সমাবেশ করার জন্য বিএনপি-জামায়াত হেফাজতে ইসলামকে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়েছে। কিন্তু ইসলাম রক্ষা মাওলানা শফী সাহেবের একার দায়িত্ব নয়। ইসলাম রক্ষার নামে তারা ৯৬২টি পবিত্র কোরআন শরীফ পুড়িয়ে দিয়েছে।’ জোরারগঞ্জ থানা মিরসরাইবাসীর জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার বলে মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বলেন, ‘জনগণের নিরাপত্তা বাড়াতে মিরসরাই থানাকে বিভক্ত করে জোরারগঞ্জ থানা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। পুলিশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সচেষ্ট থাকবে।’ জোরারগঞ্জ থানা শূন্য অপরাধ বিশিষ্ট থানায় রূপান্তর হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এর আগে দুপুর ১২টায় হেলিকপ্টারযোগে মিরসরাই আসেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এরপর বারইয়ারহাট পৌরসভার চিনকি আস্তানা এলাকায় প্রাথমিকভাবে একটি ভাড়া ভবনে জোরারগঞ্জ থানার কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। জোরারগঞ্জ থানার উদ্বোধন উপলক্ষে সুধী সমাবেশের আয়োজন করা হয় নতুন থানা প্রাঙ্গণে। সমাবেশে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার একেএম হাফিজ আক্তারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দিন খান আলমগীর।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া, মিরসরাইয়ের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন ও অপারেশন) একেএম শহিদুল হক বিপিএম পিপিএম, র‌্যাব-এর মহাপরিচালক মো. মোখলেসুর রহমান বিপিএম, বাংলাদেশ পুলিশ চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি নওশের আলী, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক আবদুল মান্নান, চট্টগ্রাম পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম, মিরসরাই উপজেলা চেয়ারম্যান মো. গিয়াস উদ্দিন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ আতাউর রহমান প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, ইউএনও মুহম্মদ আশরাফ হোসেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেজাউল করিম, বারইয়ারহাট পৌরসভার মেয়র আবু তাহের ভূঁইয়া, মিরসরাই পৌর মেয়র এম শাহজাহানসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা।

সাভার ট্র্যাজেডিতে স্বজনহারাদের প্রেস ক্লাবের সামনে দাঁড়াতে দেয়নি পুলিশ

ওদিকে আমাদের স্টাফ রিপোর্টার জানান, সাভারে ভবন ধসে তারা স্বজন হারিয়েছেন। কেউ হারিয়েছেন সন্তান। কেউ হারিয়েছেন আপনজন। উদ্ধারকাজ শেষ হলেও তারা এখনও খোঁজে পাচ্ছেন না স্বজনকে। মিলছে না লাশটিও। নিজ নিজ স্বজনের ছবি নিয়ে তারা মানববন্ধন করতে গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে গিয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশ তাদের সেখানে দাঁড়াতেই দেয়নি। সভা-সমাবেশের বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের বিধিনিষেধ থাকায় সেখানে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা স্বজনের সন্ধান করতে আসা লোকজনকে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেন। তারা স্থান ত্যাগ না করলে পরে তাদেরকে সাভারগামী বাসে তুলে দেয়া হয়।  মাকসুদা আক্তার, শান্তা আক্তার, ফারজানা আক্তার সহ অনেকের নাম লেখা ছবি নিয়ে স্বজনরা প্রেস ক্লাবের সামনে জড়ো হন সকালে। এ সময় কর্তব্যরত পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর মো. মিজানুর রহমান তাদের কাছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)’র অনুমতিপত্র দেখতে চান। ডিএমপির অনুমতি ছাড়া প্রেস ক্লাব সম্মুখে জড়ো হওয়া, মানববন্ধন, মিছিল ও সমাবেশ করতে দেয়া হবে না বলে নিখোঁজ হওয়া স্বজনদের জানান তিনি। এ সময় শোকাহত স্বজনরা কান্নাজড়িত কণ্ঠে পুলিশকে জানান, আমরা কোন দাবি নিয়ে আসিনি। আমরা স্বজনের সন্ধানে এসেছি। এটা কোন রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, শেষ ভরসা হিসেবে আমাদের স্বজনদের খোঁজে এখানে এসে দাঁড়িয়েছি। শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের দাবি সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরবো। স্বজনরা বলেন, সাভার থেকে শুরু করে ঢাকা মেডিকেল, সলিমুল্লাহ মেডিকেল সহ বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেছেন তারা। কিন্তু নিখোঁজদের কোন সন্ধান পাননি। একপর্যায়ে স্বজনরা রাস্তায় দাঁড়াতে চাইলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। পরে তাদেরকে সাভার অভিমুখী একটি যাত্রীবাহী  বাসে উঠতে বাধ্য করে তারা। বাসের সুপারভাইজারকে বলে দেয়া হয় সাভার ছাড়া অন্য কোথাও যেন তাদের নামানো না হয়। মানববন্ধনে আসা স্বজনরা উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, আমরা আমাদের ন্যায্য দাবি নিয়ে প্রেস ক্লাবে এসেছিলাম। আমাদের কর্মসূচিও ছিল শান্তিপূর্ণ। কিন্তু পুলিশ সমপূর্ণ অনৈতিকভাবে আমাদেরকে বাধা দিয়েছে। একদিকে স্বজন হারানোর যন্ত্রণা। অন্যদিকে পুলিশ আমাদের কোথাও দাঁড়াতে দিচ্ছে না। প্রেস ক্লাবের সামনেও যদি দাঁড়াতে না পারি তাহলে স্বজনদের লাশের খোঁজের দাবি নিয়ে আমরা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবো?

এদিকে সকালে একই স্থানে মহানগর সিএনজি অটোরিকশা মালিক সমিতি মানববন্ধন করতে চাইলে পুলিশ তাতে বাধা দেয়। পরে তারা মিছিল বের করতে চাইলে পুলিশি বাধায় তা পণ্ড হয়ে যায়। এ বিষয়ে কর্তব্যরত সাব-ইন্সপেক্টর মো. মিজানুর রহমান জানান, সাভারের স্বজনরা কোন কর্মসূচি পালন করতে আসেনি। তিনি জানান, রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক কোন সংগঠনকেই প্রেস ক্লাবের সামনে কোন কর্মসূচি পালন করতে দেয়া হবে না। তবে ডিএমপির পূর্বানুুমতি থাকলে কর্মসূচি পালনে কোন বাধা নেই।

 

 

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close