Featuredদুনিয়া জুড়ে

যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমায় ভয়াবহ টর্নেডোর আঘাত

 

 

 

 

 

 

 

 

 

দুনিয়া জুড়ে: যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমা সিটির শহরতলী মুর এলাকায় প্রায় তিন কিলোমিটার বিস্তৃত একটি টর্নেডো বিধ্বস্ত করে অন্তত ৯১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। ওকলাহোমা রাজ্যের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ধারণা মতে, মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ার আশংকা রয়েছে।

ওকলাহোমার চিকিৎসা বিভাগ থেকে ৫১ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ২০টি শিশু রয়েছে। এছাড়া ৪৫টি শিশুসহ আহত অন্তত ২৩০ জনকে মুরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। উদ্ধারকারীরা মুর এলাকার প্লাজা টাওয়ার এলিমেন্টারি স্কুলের ধ্বংসস্তুপের মধ্যে নিখোঁজ দুই ডজন শিশুর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে। বিকেল ৩টায় টর্নেডোটি শহরে আঘাত হানার ১৬ মিনিট আগে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া বিভাগ থেকে একটি সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছিল। ২টা ৫৬ মিনিটে টর্নেডোটি আঘাত হানার মাত্র পাঁচ মিনিট আগে আরেকটি জরুরী সতর্কবার্তা জারি করা হয় ।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া বিভাগের বরাত দিয়ে বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, সোমবার বিকালে ঘণ্টায় ৩২১ কিলোমিটার বেগে এ টর্নেডো মুর এলাকায় আঘাত হানে, যেখানে প্রায় ৫৫ হাজার লোকের বসবাস। প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে প্রলয়ঙ্করী এ টর্নেডোটি এর গতিপথে দুই ডজনেরও বেশি স্কুল ও একটি হাসপাতালসহ সব বাড়িঘর ধ্বংস করে গেছে।
টেলিভিশনে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, বহু ঘরবাড়ি আংশিক বা পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে। প্রবল ঘূর্ণি বাতাস গাড়ি উড়িয়ে নিয়ে ফেলেছে অন্য গাড়ির ওপর। একটি বাড়িতে আগুন জ্বলতেও দেখা গেছে।

ওকলাহোমার গভর্নর মেরি ফলিন বলেন, আজ আমাদের শোকের দিন। বাবা মায়েরা ধ্বংসস্তূপের মধ্যে তাদের সন্তানকে খুঁজছেন। আমাদের হৃদয় ভেঙে গেছে। তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তাকে ফোন করে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। যে কোনো প্রয়োজনে টেলিফোন করতে অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। ওবামা ওকলাহোমাকে গুরুতর দুর্যোগপূর্ণ এলাকা ঘোষণা করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া বিভাগের আবহাওয়াবিদ রিক স্মিথ বিবিসিকে বলেন, গত ২০ বছরের পেশাগত জীবনে এতো শক্তিশালী টর্নেডো আমি দেখিনি। ঝড়ের পরপরই ধ্বংসস্তূপের মধ্যে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন উদ্ধারকর্মীরা। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় অন্ধকারে ডুবে আছে প্রায় পুরো এলাকা। কর্মকর্তারা বলছেন, এর মধ্যেও সারা রাত উদ্ধার অভিযান চলবে।

এর আগে ১৯৯৯ সালের মে মাসে এই মুর শহরেই আরেক প্রলয়ঙ্করী টর্নেডোতে ৩৬ জনের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় বাতাসের গতিবেগ ছিল সোমবারের চেয়েও বেশি। তবে এবার ক্ষয়ক্ষতি অনেক বেশি হয়েছে বলে ওকলাহোমা হাইওয়ে পুলিশের বেটসি র্যা ন্ডলফ মনে করছেন। গত রোববারও ওকলাহোমার শওনি এলাকায় টর্নেডোর আঘাতে অন্তত দুই জনের মৃত্যু হয়। ভয়াবহ এই টর্নেডোটি ওকলাহোমার দক্ষিণের আরো কয়েটি রাজ্যে আঘাত হানতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। টর্নেডোর আঘাতে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় সোমবার বিকেলে উদ্ধারকারী দলগুলো অস্তমান সূর্যের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে জীবিতদের উদ্ধারে প্রাণপণ চেষ্টা করছিল। দুই বছর আগে মিসৌরি রাজ্যের জপলিনে আরেকটি টর্নেডোর আঘাতে ১৬১ জন নিহত হয়েছিল। ওই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রে এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী টর্নেডো।

সূত্র: বিবিসি

 

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close