Featuredব্রিকলেন টু জিন্দাবাজার

আধ্যাত্মিক নগরী গড়ার স্লোগান দিয়ে নির্বাচনী মাঠে কামরান

শামীমা শাম্মী: আধ্যাত্মিক নগরী করার ঘোষণা দিয়ে এবার নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন কামরান। প্রতিশ্রুতি না দিলেও সিলেটে পাঁচ বছরে ৫০০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ করেছেন সদ্য সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরান। আর এই উন্নয়নের সিংহভাগ কাজই শেষ হয়েছে। অনেক কাজ চলতি অর্থবছরের মধ্যেই শেষ হবে। এ উন্নয়নের মধ্যে সিলেট নগরীর মৌলিক উন্নয়ন, সমস্যা দূর ও নাগরিক সুবিধা বাড়ানোর জন্য করা হয়েছে। সোমবার সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এবারের মেয়র প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরান এসব কথা বলেন।

কামরান বলেন, নগরবাসীকে দাবি জানাতে হয়নি। তার আগেই প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। সিলেট নগরীর ২৭টি ওয়ার্ডকে সাজানোর কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। পাড়াভিত্তিক মানুষজন যাতে সুখে থাকে এজন্য এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এখন বাকী কেবল সিলেট নগরীর সৌন্দর্যবর্ধন ও ফুটপাত সমস্যা দূর করা। আবার নির্বাচিত হলে এসব সমস্যার সমাধান প্রথম পর্যায়েই করবেন বলে জানান কামরান। ২০০৩ ও ২০০৮ সালে পরপর দু’বার সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন বদরউদ্দিন আহমদ কামরান।

মেয়র প্রার্থী কামরান জানিয়েছেন, তিনি গত ৫ বছরে সিলেট নগরীতে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ করেছেন। এর মধ্যে তিনি প্রথম পর্যায়ে প্রায় ২৪০ কোটি টাকার কাজ শুরু করেন। এরপর সিলেট নগরীর পানি সমস্যা দূর করতে আরও ১২০ কোটি টাকার কাজ শুরু করেন। তিনি বলেন, গতবার নির্বাচিত হয়ে মেয়র পদে শপথ নেয়ার পরপরই সিলেট নগরীর প্রধান সমস্যা হিসেবে জলাবদ্ধতা সমাধানের চেষ্টা চালাই। তখন সিলেটের ছড়া ও নালা উদ্ধার ও সংস্কারে ১১ কোটি টাকার কাজ হাতে নেয়া হয়। প্রায় তিন বছরে পর্যায়ক্রমে এই ছড়া উদ্ধার অভিযান কাজ চলে। এরই মধ্যে সিলেট নগরবাসী এ কাজের ফলাফল পেতে শুরু করেছে। তিনি বলেন, আগে একটু ভারী বৃষ্টি হলেই সিলেট নগরী জলাবদ্ধতায় ডুবে থাকতো। কিন্তু এখন বৃষ্টি হলেও এক ঘণ্টা পানি স্থায়ী থাকে না। নেমে যায়। আগের মতো আর বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে না বলে না মন্তব্য করেন তিনি। এরপর কামরান সিলেট নগরীর পানি সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চালান। তিনি বলেন, সিলেট নগরীর দক্ষিণ সুরমার ৩টি ওয়ার্ড পানি পায়নি এখনও। এ কারণে ওই তিনটি ওয়ার্ডে পানির লাইন বসানো ও সরবরাহ করার জন্য ১২০ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এই প্রকল্প শেষ হওয়ার পথেই। প্রকল্প শেষ হলেই সিলেট নগরীর পানি সংকট দূর হবে বলেও মন্তব্য করেন মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরান।

এর আগে তিনি সিলেট পৌরসভার চেয়ারম্যান ও কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘদিন থেকে নগর ভবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত তিনি। তার জীবনের সবচেয়ে অন্ধকারময় অধ্যায় ছিল ২০০৮ সাল। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শাসনে কামরান পরপর দু’বার গ্রেপ্তার হন। শেষ পর্যন্ত তিনি কারান্তরীণ থেকেই নির্বাচন করেন। ওই নির্বাচনে তিনি লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন। নির্বাচনের সময় মেয়র কামরান কারান্তরীণ থাকায় তিনি নির্বাচন নিয়ে কোন প্রতিশ্রুতি দেননি। তবে ওই সময় বর্তমান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত কামরানের পক্ষে মানুষের কাছে জানিয়েছিলেন, কামরান জয়ী হলে তারা দু’জন মিলে সিলেটকে আলোকিত নগরী হিসেবে গড়ে তুলবেন। কামরান কোন প্রতিশ্রুতি না দিলেও তখন তার পরিবার, নির্বাচন পরিচালনা কমিটি ও আওয়ামী লীগ নেতাদের পক্ষ থেকে সিলেটে পানি ও জলাবদ্ধতা সমস্যা দূর এবং নাগরিক সুবিধা বাড়ানোর ওপর তাগিদ দিয়েছিলেন।

সিলেট নগরীর মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের মাধ্যমে পরিকল্পিত নগরী গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছিলেন মেয়র কামরান। তিনি বলেন, গত ৫ বছরে সিলেট নগরীর ২৭টি ওয়ার্ডের উন্নয়নের দিকে নজর দেয়া হয়েছে। ওয়ার্ডভিত্তিক উন্নয়নের মাধ্যমে সিলেট নগরীতে উন্নয়নের ভিতকে শক্তিশালী করা হয়েছে। এজন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান, যোগাযোগ এসব বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হয়েছে। ২৭টি ওয়ার্ডের বহু স্থানে এখনও উন্নয়ন কাজ চলছে বলে জানান কামরান। তিনি বলেন, এসব কাজ শেষ হলে এখন প্রয়োজন নগরীর সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা। একই সঙ্গে সিলেট নগরীর হকার সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চালানো হবে। তিনি বলেন, যারা হকার রাস্তায় বসে ব্যবসা করেন তাদেরও পরিবার আছে। তারা ফুটপাতে বসে যা পায় তা দিয়েই দিন চালায়। তাদের স্থানান্তর করতে হবে। এরপর সিলেটের ফুটপাতকে দখলমুক্ত করতে হবে। এছাড়া রেজিস্টারি মাঠের হকার সমস্যা সমাধান করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন মেয়র কামরান। বদরউদ্দিন আহমদ কামরান বলেন, সিলেট হবে ধর্মীয় সমপ্রীতির এক গৌরবময় আধ্যাত্মিক শহর। ফের নির্বাচিত হলে তিনি নগরীর সৌন্দর্য বর্ধনসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ করে সিলেটকে আধ্যাত্মিক শহর হিসেবে গড়ে তুলবেন।

জেল থেকে মেয়র নির্বাচিত হয়ে পরে মুক্তি পেয়ে বেরিয়ে আসেন কামরান। তিনি নতুন করে শপথ নিয়ে সিলেট নগরীর উন্নয়ন কাজ শুরু করেন। মেয়র নির্বাচিত হওয়ার প্রথম বছরের মধ্যেই মেয়র কামরান সিলেট নগরীর উন্নয়নে শত কোটি টাকার প্রজেক্ট তৈরি করে তা মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন করে নিয়ে আসেন। ওই সময় সিলেট নগরীর জরাজীর্ণ রাস্তা সংস্কার ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ শুরু করেন তিনি। আর এসব কাজে তাকে সহাযতা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফ ও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

 

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close