Featuredব্রিকলেন টু জিন্দাবাজার

পূর্ণাঙ্গ রুপ পেতে যাচ্ছে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

 

 

 

 

 

 

 

 

 

শীর্ষবিন্দু নিউজ: সবশেষে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক মান পেতে যাচ্চে সিলেটি প্রবাসীদের বহু আকাংকিত বিমান বন্দর সিলেট এমএজি ওসমানী এয়ারপোর্ট। আর বেশি দিন বাকি নেই প্রবাসী অধ্যুষিত এই অঞ্চলের প্রবাসীরা সরাসরি বিদেশ থেকে সিলেটে আসা-যাওয়া করতে পারবেন সিলেটের এম এ জি ওসমানী বিমানবন্দরে মাধ্যমে। ৫১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে উড়োজাহাজের রিফুয়েলিং স্টেশন। এ বছরের অক্টোবরেই এর উদ্বোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

দীর্ঘদিন ধরে বিমানের জ্বালানি তেল জেড রিফুয়েলিং স্টেশন স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছিলে‍ন প্রবাসীসহ সিলেটবাসীরা। এ ব্যবস্থা না থাকায় বিমানের আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলোর প্রতিটি ঢাকা হয়ে সিলেটে আসা-যাওয়া করছে। রিফুয়েলিং স্টেশন স্থাপিত হলে এর পজিটিভ দিক তুলে ধরে সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বারের সহ সভাপতি হাসিন আহমেদ বলেন, রিফুয়েলিং সিস্টেম স্থাপিত হলে সিলেট থেকে বিদেশে বিভিন্ন প্রকার পণ্যসামগ্রী রফতানি সহজ হবে। সরকারের রাজস্বও বৃদ্ধি পাবে। বিমানযাত্রীদের বিড়ম্বনা কমে আসবে। এটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হতে চলেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জানা যায়, ওসমানী বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিকমানে উন্নীতকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয় ১৯৯৬ সালে। ১৯৯৮ সালের ২০ ডিসেম্বর ওসমানী বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে উন্নীত করা হয়। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর তৎকালীন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী প্রয়াত এম সাইফুর রহমানের উদ্যোগে বিমানবন্দরের উন্নয়ন শুরু হয়। উন্নয়ন কাজ শেষে ২০০৬ সালের ১২ মার্চ দুবাই থেকে আসা একটি এয়ারবাস (বিজি ০২০) অবতরণের মাধ্যমে ওসমানী বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়। প্রায় দেড় বছর ওসমানীতে বিদেশি ফ্লাইট উড্ডয়ন ও অবতরণ বন্ধ ছিল। ২০০৭ সালের ৯ নভেম্বর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ইফতেখার আহমদ চৌধুরীর প্রচেষ্টায় লন্ডন থেকে দুবাই হয়ে ওসমানীতে অবতরণ করে বাংলাদেশ বিমানের একটি সুপরিসর এয়ারবাস (ডিসি-১০)। ৩০১ জন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন এয়ারবাসটি ২৭৫ জন যাত্রী নিয়ে ওসমানীতে অবতরণ ও যাত্রী নিয়ে পুনরায় উড্ডয়ন করে।

সদ্য নির্মিত হতে যাওয়া রিফুয়েলিং স্টেশন সম্পর্কে জানা যায়, ২০১৪ সালের জুন পর্যন্ত রিফুয়েলিং স্টেশন নির্মাণ প্রকল্পের মেয়াদ হলেও অর্থমন্ত্রীর বিশেষ আগ্রহে কাজ দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।  ফলে সব কাজ শেষ করে অক্টোবরে উদ্বোধন করা হবে বলে আশাবাদ প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের। এর ফলে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিণত হবে এটি। এর আগে ১৯৯৮ সালে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করা হলেও রিফুয়েলিংয়ের ব্যবস্থা না থাকায় এতোদিন তা কার্যত অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরের মতো ব্যবহৃত হয়ে আসছিলো। প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্যনুয়ায়ী, ৫১ কোটি টাকা ব্যয়ে উড়োজাহাজে জ্বালানি তেল সরবরাহের জন্য অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হচ্ছে। কনস্ট্রাকশন এভিয়েশন রিফুয়েলিং ফ্যাসিলিটিজ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১ একর ভূমিতে রিফুয়েলিং স্টেশন নির্মিত হচ্ছে।

সিলেটে রিফুয়েলিং স্টেশন স্থাপনের প্রকল্প সূত্রে আরো জানা যায়, গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতিগুলোর মধ্যে দেশের বাইরে থেকে পিটবাল্প, পাইপলাইন, ফিল্টার, পিএলসি সিস্টেম আনার প্রক্রিয়া চলছে। জুলাই-আগস্ট মাসে চটগ্রামে এসব যন্ত্রপাতি এসে পৌঁছাবে। এরপরই এগুলো স্থাপন প্রক্রিয়া শুরু হবে। দক্ষিণ সুরমার জিঞ্জির শাহের মাজারসংলগ্ন এলাকার প্রকল্পের আওতায় ৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে তিনটি স্টোরেজ ট্যাংক, তিন তলা অফিস ভবন, বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র, রেস্ট হাউস, গ্যারেজ, অফিসার্স রুম ও স্টাফ রুম তৈরি হবে। আর বিমানবন্দরে ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে তিনটি স্টোরেজ ট্যাংক, পাইপলাইন, ডিসপেনসার, ফিল্টারিং স্থাপন করা হবে। এ ছাড়া দুটি ডিসপেনসার ও দুটি ট্যাংক লরি স্থাপন করা হবে। ২০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার জেট ফুয়েল পরিবহন করার জন্য অত্যাধুনিক ট্যাংক স্থাপন করা হবে।

 

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close