Featuredস্বদেশ জুড়ে

উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় সিটি নির্বাচন: পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, নাশকতা এড়াতে সেনা মোতায়েনের দাবি

 

 

 

 

 

 

 

 

চার সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের আর মাত্র দু’দিন বাকি। চলছে শেষ মুহূর্তের প্রচার-প্রচারণা। এর মধ্যে প্রধান দুই জোটের প্রার্থীদের পক্ষ থেকে উঠছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ। চার সিটিতেই নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের দাবি তুলেছেন ১৮ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থীরা। তবে এ বিষয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের প্রার্থীদের বক্তব্য ভিন্ন। তারা সেনা মোতায়েনের পক্ষে নন। তবে এ দুই জোটের বাইরে যে ক’জন মেয়র প্রার্থী আছেন তারাও নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের পক্ষে। এদিকে নির্বাচনী এলাকায় সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারীরা জড়ো হচ্ছে বলেও দুই পক্ষের তরফে অভিযোগ উঠছে। এতে উদ্বেগ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে সাধারণ ভোটারদের মাঝে। শেষ মুহূর্তে নির্বাচনে সংঘাত-সংঘর্ষেরও আশঙ্কা করছেন ভোটাররা। পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এবং দাবির কারণে শেষ মুহূর্তে সীমিত পরিসরে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আজ সকালে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে প্রস্তুতি বৈঠক করবে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন ও নির্বাচন পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গোয়েন্দা প্রতিবেদন এবং নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব পর্যবেক্ষণের আলোকে আজ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

সিলেটে সেনা মোতায়েন চান আরিফ, কামরানের ‘না’: সিলেট সিটি নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন চান ১৮ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী। এ দাবি তিনি নির্বাচনের শুরু থেকে জানিয়ে আসছেন। এমনকি নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে তিনি যতবারই বৈঠকে বসেছেন ততবারই এ দাবিটি জানিয়ে আসছেন। আরিফের আশঙ্কা, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হবে না। সন্ত্রাসীরা শুরু থেকে মাঠে রয়েছে। তারা ভোটবাক্স ছিনতাই করতে পারে। কেন্দ্রে ঘটাতে পারে গোলযোগও। কিন্তু ১৪ দলীয় জোটের সমর্থিত প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরান বলছেন, সেনা মোতায়েনের মতো অবস্থা তৈরি হয়নি। ২০০৩ সালে তিনি যখন প্রথম সিটি করপোরেশন নির্বাচন করেন তখনকার অবস্থান বেশ কঠিন ছিল। ওই সময়ের অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান ছিলেন নির্বাচনী প্রচারণায়। তার সঙ্গে বিএনপির সবাই নিজ দলের প্রার্থী এমএ হকের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় নেমেছিলেন।
সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে এবার শঙ্কা শুরু থেকেই। বর্তমান রাজনীতির এই ক্রান্তিকালে সিটি নির্বাচনকে টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে মনে করছেন প্রধান দুই জোটের নেতাকর্মীরা। এ কারণে এই নির্বাচন স্থানীয়ভাবে গুরুত্ব পাওয়ার পাশাপাশি জাতীয়ভাবেও আলোচনায় এসেছে। এদিকে, সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন ১৪ দলীয় জোটের মেয়র প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ। তার পক্ষে যুবলীগ নেতা পীযূষ কান্তিকে নির্বাচনী প্রচারণায় দেখা গেছে। এই তার নেতৃত্বে সিলেট নগরীতে মাত্র দুই মাস আগে প্রকাশ্য অস্ত্রের মহড়া দেয়া হয়। নগরীর বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর করা হয়। এ দৃশ্য দেখার পর আরিফুল হক চৌধুরী ও তাদের সমর্থকদের কাছে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবিটি আরও বেশি জোরেশোরে উচ্চারিত হচ্ছে। অন্যদিকে, মেয়রপ্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে একই অভিযোগ উঠেছে। কয়েক দিন আগে নির্বাচনী প্রচারণায় আরিফুল হক চৌধুরী খুনের মামলার আসামিদের নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন। যুবলীগ নেতা জগৎজ্যোতি হত্যা মালার আসামি ওবায়দুল্লাহ ও ফয়জুল হককে নিয়ে আরিফ মদিনা মার্কেট এলাকায় গণসংযোগ চালান। তবে, এই দু’টি ঘটনার পর থেকে মেয়রপ্রার্থীরা নিজ থেকে সতর্ক রয়েছেন। গত ৫ দিন ধরে তাদের সঙ্গে আর কোন চিহ্নিতদের নির্বাচনী প্রচারণায় পাওয়া যায়নি। তবে, উভয় মেয়র প্রার্থীর পক্ষে বিভিন্ন ভাবে বিতর্কিতরা সক্রিয় রয়েছেন। মেয়রপ্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী গতকালও জানিয়েছেন, নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে ততই শঙ্কা বাড়ছে। কেন্দ্র দখল, ব্যালট ছিনতাই, হুমকিসহ নানা ঘটনা ঘটার আশঙ্কা তার। এ কারণে তিনি এই নির্বাচনে সেনা মোতায়েন চান। মেয়রপ্রার্থী কামরান জানিয়েছেন, সিলেটের ধর্মীয় সমপ্রীতির মতো রাজনৈতিক সমপ্রীতিও বিরাজমান। সুতরাং অতীতে সবকটি নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হয়েছে। প্রার্থীদের সহায়তা থাকলে নির্বাচন অবশ্যই শান্তিপূর্ণ হবে।

রাজশাহীতে সন্ত্রাসীদের জড়ো করার অভিযোগ আওয়ামী লীগ-বিএনপির: রাজশাহীতে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ সিটি নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রধান প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ও বিএনপি নেতা মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। তারা বলছেন, চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা এখন নির্বাচনের মাঠ দখল করে নিয়েছে। এজন্য উভয়পক্ষই জেলা রিটার্নিং অফিসারের কাছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগও করেছেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিরোধী দল বিএনপির অর্ধশত কেন্দ্রীয় নেতা এখন রাজশাহীতে। পাশাপাশি উভয় দলের পক্ষে রাজশাহীর বাইরে থেকেও এসেছেন কয়েক হাজার বহিরাগত নেতাকর্মী। ইতিমধ্যে নগরীর প্রায় সব আবাসিক হোটেলে তাদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কোন হোটেলেই আসন ফাঁকা নেই। নাগরিক কমিটির মেয়রপ্রার্থী ও সদ্য সাবেক মেয়র লিটন আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, জামায়াত-শিবিরের চিহ্নিত ক্যাডাররা যারা পুলিশের বন্দুক ছিনিয়ে নিয়েছে, পুলিশের মাথা গুঁড়িয়ে দিয়েছে তারাই বুলবুলের পক্ষে নির্বাচনে কাজ করছে। তাদের গ্রেপ্তার করা না হলে নির্বচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট হবে। তবে এই পরিস্থিতিতে সেনা মোতায়েনের দাবি নাকচ করে লিটন বলেন, এই পরিস্থিতি এখনও সৃষ্টি হয়নি। এদিকে, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক স্থানীয় সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনের শান্ত পরিবেশকে অশান্ত করে তোলার পাঁয়তারা করছেন বিএনপির নেতারা। এই হীন উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে বিএনপি দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের রাজশাহীতে এনেছে। গতকাল বিকালে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ তুলে ধরেন। জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান বিএনপির প্রার্থী বুলবুলের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, একাধিক হত্যা মামলার আসামি হয়েও তিনি রাজশাহীতে এসেছেন। তাকে সন্ত্রাসী উল্লেখ করে গ্রেপ্তারেরও দাবি জানান। বাদশা বলেন, সুনিশ্চিত পরাজয় জেনেই বিএনপির নেতাকর্মীরা আসন্ন সিটি নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে গত সোমবার তারা নির্বাচন কমিশন অফিসে গিয়ে রিটার্নিং অফিসারকে হুমকি ধমকি দিয়েছে। শুধু তাই নয়, পুলিশ প্রশাসনের ওপরও তারা বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করছে।

মহাজোটের এই এমপি আরও বলেন, সমপ্রতি রাজশাহীতে জামায়াত-শিবিরের যেসব ক্যাডাররা নাশকতা ঘটিয়েছিল তারা এখন নির্বাচনী মাঠে বিএনপি প্রার্থী বুলবুলের পক্ষে ভোট চেয়ে বেড়াচ্ছে। শুধু তাই নয়, বাইরের চিহ্নিত ক্যাডারদের বিএনপি রাজশাহীতে এনেছে। এতে করে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে বলেও দাবি করেন বাদশা।
অপরদিকে, ১৮ দল সমর্থিত মেয়রপ্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বলেছেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা বিএনপি ও জামায়াতের ঘাঁটি। এই এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করতে ছাত্রলীগের ক্যাডাররা অস্ত্রধারীদের জড়ো করছে। তারা নির্বাচনে এই এলাকা থেকে সন্ত্রাস চালানোর পরিকল্পনা করছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে তিনি সেনা মোতায়েনের জোর দাবি জানিয়েছেন। গত সোমবার রাজশাহী আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয়ে গিয়ে জেলা রিটার্নিং অফিসার সুভাষ চন্দ্র সরকারের কাছে অভিযোগ করেছেন বুলবুলের পক্ষে সাবেক এমপি ও জেলা বিএনপির সভাপতি নাদিম মোস্তফা।

তবে রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার এসএম মনির-উজ-জামান এমন আশঙ্কার কথা উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, যে দল যেভাবেই তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করুক না কেন অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে যা করা দরকার তাই করবে পুলিশ। তবে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ কোন অভিযান পরিচালনা পরিকল্পনা আপাতত নেই বলেও জানান তিনি।

খুলনায় ২০৮টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ, সেনা মোতায়েনের দাবি: চরমপন্থি অধ্যুষিত খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় ভুগছেন প্রার্থী ও ভোটাররা। এখানে নির্বাচন আদৌ প্রভাবমুক্ত হবে কিনা এ আশঙ্কায় উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে তাদের। অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, প্রভাবমুক্ত নির্বাচন ও ভোটারদের  নিরাপত্তার জন্য সেনা মোতায়নের দাবি জানিয়েছেন  বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম। গতকাল নগরীর ডাকবাংলা মোড় এলাকায় ১৮ দলের মেয়র প্রার্থীর পক্ষে গণসংযোগে তিনি এ দাবি করেন। এ প্রশ্নে ১৪ দলের মেয়র প্রার্থীর প্রধান এজেন্ট মহানগর আওয়ামী লীগের সম্পাদক  মিজানুর রহমান বলেন, সেনা মোতায়নের মতো পরিস্থিতি খুলনায় তৈরি হয়নি। জাতীয় পার্টি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মধু’র উদ্বেগ রয়েছে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ  নির্বাচন নিয়ে। খুলনা সিটির মোট ২৮৯টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২০৮টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন রিটার্নিং অফিসার। কিছু বৈধ অস্ত্র  জমা পড়লেও অস্ত্র উদ্ধার ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের ব্যর্থতা এবং ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতাদের খুলনয় অবস্থান সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, প্রভাবমুক্ত নির্বাচনের অন্তরায় বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ। নির্বাচন উপলক্ষে বিজিবি মাঠে নামার আগেই প্রতিপক্ষ প্রার্থীরারা বহিরাগত লোক দিয়ে নির্বাচনী মাঠ দখল করতে পারে- এ অভিযোগে এনে সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন কাউন্সিলর প্রার্থী  হুমায়ুন কবির। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনে কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। খুলনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, তার ওয়ার্ডে প্রতিপক্ষরা  দেদার টাকা ছড়াচ্ছে। ভাড়া করা লোক দিয়ে মাঠ দখলের চেষ্টা করছে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, প্রশাসন এসব  জেনেও নীরব থাকায় হতবাক হয়েছি। ফলে কেসিসি’র অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে নতুন করে সংশয় দেখা  দেয়। সূত্র জানায়, খুলনা মহানগরীর দৌলতপুর, খালিশপুর, গল্লামারী, সাউথ সেন্ট্রাল রোড, বড় বাজার, রেলস্টেশন এলাকায়  পেশিশক্তি ব্যবহার বেশি হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, রাতের আঁধারে বৈঠক করে নেয়া হচ্ছে পরিকল্পনা। এসময় সংসদ সদস্য, প্রশাসন, স্থানীয় রাজনৈতিক দল ও অন্ধকার জগতের কর্মীদের সমন্বয়ে বৈঠক হচ্ছে। সমর্থিত প্রার্থীর ভোট আদায়ের জন্য দেয়া হচ্ছে আর্থিক ও প্রশাসনিক সাপোর্টের প্রতিশ্রুতি। পরিকল্পনা অনুযায়ী সমর্থকের পক্ষে ভোটের প্রচারাভিযানে নামতে শুরু করেছে কর্মীরা। এদের মধ্যে জামিনে মুক্ত হত্যা মামলা, অস্ত্র মামলা, চাঁদাবাজিসহ ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা রয়েছে। এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি হলেও ভয়ে  কেউ মুখ খুলতে নারাজ। ৩৫১টি বৈধ অস্ত্র জমা পড়েনি: নগরীর চারটি থানায় তালিকাভুক্ত  বৈধ অস্ত্রের সংখ্যা ৭২৩টি। এগুলোর মধ্যে জমা পড়েনি ৩৫১টি। সংশ্লিষ্ট থানা সূত্র জানায়, দৌলতপুর থানায় ৬২টি ও খালিশপুর থানায় ৪৮টি বৈধ অস্ত্রের মধ্যে শতভাগ জমা পড়েছে। তবে  সোনাডাঙ্গা থানায় ১৬৩টি অস্ত্রের মধ্যে জমা পড়েছে ৯১টি এবং সদর থানায় ৪৫০টি অস্ত্রের মধ্যে ১৭১টি। অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার রাশিদা বেগম জানান, যারা বৈধ অস্ত্র জমা দেয়নি। তাদের বিরুদ্ধে রিটার্নিং অফিসারের নির্দেশে ব্যবস্থা নেয়া হবে। রিটার্নিং অফিসার মোস্তফা ফারুক বলেন, নগরীতে ৫ বাহিনীর সমন্বয়ে বিশেষ বাহিনী অভিযান অব্যাহত রেখেছে। তার  নেতৃত্বে রয়েছে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। কেউ টাকা ছড়ানোর ব্যাপারে  কোন লিখিত অভিযোগ করেননি। তিনি বলেন, তার পরেও বিভিন্ন জায়গায় এ ব্যাপারে অভিযান চালানো হচ্ছে। গতকাল এক প্রার্থীর সংবাদ সম্মেলনে টাকা ছড়ানোর অভিযোগ তার জানা নেই দাবি করে বলেন, ১৩ই জুন থেকে ১৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট-এর  নেতৃত্বে অভিযান অব্যাহত থাকবে। এছাড়া মাঠে থাকছে র‌্যাব, পুলিশ। তার সঙ্গে বাড়তি যোগ হচ্ছে বিজিবি। সব মিলিয়ে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বরিশালে ২ প্রার্থীর দাবি সেনা মোতায়েন: সরকারি দলের সন্ত্রাসের আশঙ্কায় মেয়র পদে তিন প্রার্থীর মধ্যে ২ জনই বরিশালে নির্বাচনকালীন সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি করেছেন। যদিও বরিশালে এখন পর্যন্ত প্রচার-প্রচারণায় তেমন কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তারপরও নির্বাচন এবং নির্বাচন উত্তর সহিংসতার আশংকায় ১৮ দলীয় সমর্থিত প্রার্থী আহসান হাবিব কামাল ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মাহমুদুল হক খান মামুন  সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি করেছেন। রিটার্নিং অফিসার মো. মজিবর রহমান বরিশালে যে কোন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের আশ্বাস দিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলন করে আনারস প্রতীকের প্রার্থী আহসান হাবিব কামাল বরিশালে নির্বাচনের সময় সেনা মোতায়নের দাবি করেন। একইভাবে দোয়াত-কলম প্রতীকের মাহামুদুল হক খান মামুনও সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানান। প্রতিপক্ষ ১৪ দলের শওকত হোসেন হিরনের কর্মীদের দিকেই তাদের ইঙ্গিত। রিটার্নিং অফিসার মো. মজিবর রহমান জানান, সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের ওপর। বরিশালে এসে নির্বাচন কমিশনার শাহ নেওয়াজ জানান, সেনাবাহিনী নয়, চার সিটি নির্বাচনেই বিজিবি মোতায়েন হবে। এর সঙ্গে থাকবে র‌্যাব, পুলিশ ও আনসার। পুলিশের উপ-কমিশনার এটিএম মুজাহিদুল ইসলাম জানান,  সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বরিশালে প্রায় সাড়ে চার হাজার আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন হচ্ছে। এর মধ্যে ২৩১১ জন পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে। সাদা পোশাকে র‌্যাব থাকবে ৫০ জন। ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন ২৮ জন। ১৩টি চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।

 

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close