Featuredস্বদেশ জুড়ে

বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতে সংসদে সন্ত্রাসবিরোধী বিল পাস

 

 

 

 

 

 

 

 

 

স্বদেশ জুড়ে: মঙ্গলবার বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনে উত্থাপিত সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) আইনের তীব্র বিরোধিতা করেছেন বিরোধীদলীয় এমপিরা। বিরোধিতার মুখে বিলটি পাসের উদ্যোগ নেয়া হলে তারা সংসদ থেকে প্রতীকী ওয়াকআউট করেন। পরে সরকার দলীয় এমপিদের হ্যা ভোটে বিলটি পাস হয়। এর আগে বিলটির ওপর জনমত যাচাই-বাছাই ও অধিকতর সংশোধনে বিরোধী দলের এমপিদের আনা প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ হয়।

গতকাল স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশনে বিলটি পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর। ওই বিলের বিরোধিতা করে বিএনপি’র সিনিয়র এমপি ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ অভিযোগ করেন, বিরোধী দলকে দমনের পীড়নের জন্যই আইনটি আনা হয়েছে। এই বিলে পুলিশকে সর্বময় ক্ষমতা দেয়া হয়েছে শুধুমাত্র বিরোধী দলকে দমনের জন্য। ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের পর এ আইনটি হবে আওয়ামী লীগ সরকারের আরেকটি কালো আইন। তাই কালো এ আইনটি পাসের প্রতিবাদে আমরা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করছি। পরে বিকাল সাড়ে পাঁচটায় বিরোধী দল সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে মাত্র দুই মিনিট পরই আবার সংসদে ফিরে এসে বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নেন।

এ সময় বিরোধী দলের অন্য সদস্যরাও বিলটির বিরোধিতা করে বলেন, এই আইনটিতে সংশোধনী আনা হয়েছে সরকার বিরোধী যে গণআন্দোলন চলছে, তা দমন ও নিধনের জন্য। এ আইনে পুলিশকে সমস্ত ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। কোন জনগোষ্ঠীকে বা আন্দোলন দমনের জন্য এমন ধরনের আইন প্রণয়নের কোন প্রয়োজন নেই। বিলটি সম্পূর্ণ মানবাধিকার পরিপন্থি, গণতন্ত্র দমনের উদ্দেশ্যে। অতীতেও আইন করে কোন গণতান্ত্রিক আন্দোলনকেই দমন করতে পারেনি, বর্তমান সরকারও পারবে না। গত সাড়ে চার বছরে বিরোধী দলের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে সরকার হত্যা করেছে, গুম করেছে। প্রচলিত আইনে সন্ত্রাস দমন করা যায়, নতুন আইনের কোন প্রয়োজন নেই। আইনটি জনগণের কোন কাজে লাগবে না। বিলটি জোর করে পাস করা হলে ওয়াকআউট করা ছাড়া আমাদের কোন পথ থাকবে না।

বিরোধী দলের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর বলেন, বিরোধী দলের অভিযোগের কোন যৌক্তিকতা নেই। সংশোধনে তিনটি উপকরণ সংযোজন করা হয়েছে। সন্ত্রাসের অনুকূলে অর্থায়ন ও মানি লন্ডারিং রোধ করতে না পারলে সন্ত্রাস দমন করা যাবে না। তৃতীয়ত আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবিরোধী আন্দোলনকে সমন্বিত করা হয়েছে। সকল গণতান্ত্রিক দেশগুলোর সঙ্গে একসঙ্গে সন্ত্রাস দমনে কাজ করার জন্যই আইনটিতে সংশোধনী আনা হয়েছে। সন্ত্রাসী কার্যের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও সত্তার অপরাধী কর্মকাণ্ডের সংজ্ঞা ও সুনির্দিষ্টকরণে বিধানের প্রস্তাব করা হয়েছে বিলে। বিলে বিদ্যমান আইনে ২০ ক ধারার পরিবর্তে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের রেজুলেশন বাস্তবায়নে পদক্ষেপ শীর্ষক নতুন ২০ ক ধারা সন্নিবেশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া, অভিযুক্ত ব্যক্তির স্বীকারোক্তি রেকর্ড সম্পর্কিত বিশেষ বিধান, তদন্তকালীন সন্ত্রাসী সম্পত্তি জব্দ বা ক্রোকের বা বিশেষ বিধান এ বিলে সংযোজন করার প্রস্তাব করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কোনভাবেই বিরোধী দলের আন্দোলন দমন কিংবা গণতন্ত্রকে বিএনপি-জামায়াতের মতো টুঁটি চেপে ধরার জন্য বিলে সংশোধনী আনা হয়নি। কোন ভদ্রলোক বা ভদ্রমহিলার বিরুদ্ধে এই আইন ব্যবহার হবে না বলেও নিশ্চয়তা দেন তিনি।

এদিকে জাতিসংঘে সমকালীন বিভিন্ন রেজুলেশন ও কনভেনশন এবং আন্তঃরাষ্ট্রীয় আলোচনার আলোকে বিদ্যমান সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধিকতর সংশোধনের প্রস্তাব করে বিলে প্রস্তাব করা হয়। বিলে বিদ্যমান আইনে ধারা ৫-এর উপ-ধারা (২) নতুন উপ-ধারা (৩) সংযোজনের প্রস্তাব করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, যদি কোন ব্যক্তি কোন বিদেশী রাষ্ট্রে অপরাধ সংঘটন করে বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণ করে, যা বাংলাদেশে সংঘটিত হলে এই আইনের অধীন শাস্তিযোগ্য হতো, তাহলে উক্ত অপরাধ বাংলাদেশে সংঘটিত হয়েছে বলে গণ্য হবে এবং যদি তাকে উক্ত অপরাধ বিচারের এখতিয়ারসম্পন্ন কোন বিদেশী রাষ্ট্রে বহিসমর্পণ করা না যায়, তাহলে উক্ত ব্যক্তি ও অপরাধের ক্ষেত্রে এই আইনের বিধানাবলী প্রযোজ্য হবে। বিলে সন্ত্রাস কার্যে অর্থায়ন বিষয়ে তদন্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে সুনির্দিষ্ট বিধানের প্রস্তাব করা হয়েছে।

 

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close