Featuredপ্রচ্ছদ রচনা

গাজীপুরে ভোটের মাঠে আতঙ্ক

 

 

 

 

 

 

 

 

লায়েকুজ্জামান: ভোটের মাঠে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। দিন যত যাচ্ছে আতঙ্ক ততো বাড়ছে। গাজীপুরে বাড়ছে অচেনা মুখের সারি। রঙ-বেরঙের মানুষ আসছে এখানে। তারা ভোট প্রার্থনায় অংশ নিচ্ছে। যুবকদের নিয়ে মহড়া দিচ্ছে। এমনিতেই টঙ্গীতে শ্রমিকাধিক্য, দাঙ্গাপ্রবণ এলাকা। বাইরের ইন্ধন পেলে ঘটে যেতে পারে দুর্ঘটনা এমনটা মনে করছেন এখানকার সচেতন মানুষ। বিএনপির কর্মীরা প্রকাশ্যেই বলতে শুরু করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের জন্য আতঙ্ক হয়ে উঠতে পারে। এলাকায় চাউর আছে যে কোন মূল্যে গাজীপুর সিটি করপোরেশন দখলে রাখতে চায় আওয়ামী লীগ। সেভাবে  মরিয়া হয়ে মাঠে নেমেছে তারা। সিরিয়াস বিএনপিও। মেয়র তাদের চাই। আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডের হিসাব- ঢাকা লাগোয়া গাজীপুরে জিততে পারলে চার সিটির পরাজয় পুষিয়ে নেয়া যাবে। বিএনপিও চিন্তা করছে ঢাকার এত কাছে গাজীপুরে হেরে গেলে চার সিটির বিজয় অনেকটাই ম্লান হয়ে যাবে। হিসাব কষে গাজীপুরে ভোটযুদ্ধে নেমেছে দু’দল। গাজীপুর সিটি করপোরেশন এলাকা এখন যুদ্ধ ক্ষেত্র। এক ব্যাটল ফিল্ড। এখানে ভোট প্রার্থনার যুদ্ধ চলছে, একে অপারের বিরুদ্ধে কথামালার যুদ্ধ। লড়াই চলছে টাকার, আকারে আভাসে শক্তি প্রদর্শেনেরও। ভোট প্রার্থনার নামে এক ধরনের মহড়াও চলছে এখানে। গতকাল শুক্রবার থেকে স্রোতের মতো দু’দলের নেতাকর্মীরা আসতে শুরু করেছেন গাজীপুরে। আওয়ামী লীগের সঙ্গে ১৪ দলের বিএনপির সঙ্গে ১৮ দলের নেতাকর্মীরা। শুরু হয়েছে আলেম-ওলামাদের প্রদর্শনের প্রতিযোগিতাও। দলে দলে গাজীপুরে হাজির হচ্ছেন আওয়ামী ঘরানার সমর্থক ইসলাম ভাবাপন্ন সংগঠনগুলোর নেতারা। জামায়াত-হেফাজতের কর্মীরা অনবরত প্রচারে আছে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে। কেবল ঢাকা থেকেই নয় বলতে গেলে দুই প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইতে নেতারা আসছেন সারা দেশ থেকে, এখানে বসবাসরত বিভিন্ন জেলার ভোটারদের কাছে টানতে। আওয়ামী লীগের ৫৭ এমপিকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে সিটি করপোরেশনের ৫৭টি ওয়ার্ডে। সূত্রমতে কড়া হুকুম আছে তাদের ওপর। তাদের কাছ থেকে ফলাফল বুঝে নেবে হাইকমান্ড এমন কথাই জানিয়ে দেয়া হয়েছে তাদের। দুই মন্ত্রী পুরো নির্বাচনের তদারকি করছেন সিটি করপোরেশনের বাইরে সন্নিকটে বসে। এমপিদের বাইরেও ওয়র্ডভিত্তিক দায়িত্ব দেয়া হয়েছে যুবলীগ, ছাত্রলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের। বলতে গেলে পুরো সরকার এখন গাজীপুরে। পরিকল্পিতভাবে এগুচ্ছে আওয়ামী লীগ। বিএনপি ও কোমর বেঁধে নেমেছে। বিএনপি যাচ্ছে জনতার কাছে পৌঁছাতে, তাদের সঙ্গে কথা বলতে। সেভাবেই প্রচারণার ছক একেছেন তারা। সারা দেশ থেকে গাজীপুরে আসতে শুরু করেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। নেতাদের ওয়ার্ডভিত্তিক দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। গতকাল পুরো সিটি করপোরেশন এলাকা চষে বেড়িয়েছেন আওয়ামী লীগের এক ঝাক তরুণ এমপি ও সাবেক ছাত্রনেতারা। তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের মন গলানোর চেষ্টা করছেন। গতকাল গাজীপুরে দেখা গেছে আওয়ামী লীগের বগুড়ার এমপি আবদুল মান্নান, ঢাকার এমপি সানজিদা খাতুন, আসলামুল হক, নড়াইলের এমপি ব্রিগেডিয়ার আবু বাকের, শরিয়তপুরের এমপি বি এম মোজাম্মেল, পাবনার এমপি গোলাম খন্দকার প্রিন্স, সাবেক ছাত্রনেতা বর্তমানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা বাহাউদ্দিন নাসিম, আহমেদ হোসেন, এস এম কামাল হোসেন, ড. আওলাদ হোসেন, শফি আহমেদ, এনামুল হক শামীম, লিয়াকত শিকদার ছাড়াও বর্তমান ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ভোট প্রার্থনায় অংশ নিয়েছেন। লিয়াকত শিকদার গাজীপুরে পড়ে আছেন মনোনয়ন দাখিলের সময় থেকে। স্থানীয় ছাত্রলীগ, যুবলীগের প্রচারণার সমন্বয় করতে দেখা যাচ্ছে তাকে। আওয়ামী লীগ নেতারা জানিয়েছেন, প্রতিদিনই এখানে তাদের এমপি ও কেন্দ্রীয় নেতাদের স্রোত বাড়তে থাকবে। কেন্দ্রীয় নেতারাও ছাড়াও গাজীপুরের এমপি আ ক ম মোজাম্মেল হক দেখভাল করছেন পুরো নির্বাচনের। সিটি করপোরেশন এলাকার এমপি জাহিদ আহসান রাসেল সার্বক্ষণিক লেগে আছেন মেয়র প্রার্থী আজমত উল্লার সঙ্গে। বিদ্রোহী প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম এখন তার সমর্থকদের নিয়ে ভোটের মাঠে। গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে টানাহেঁচড়া চলছে জাতীয় পার্টি নিয়ে। জাতীয় পার্টির প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর দলের এখানকার কর্মীরা বুঝে নিয়েছে তাদের ঝোক ১৮ দলের দিকে। আবার ওপরের ইঙ্গিতে জাতীয় পাটির একাংশ সমর্থন দিয়েছে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে। সূত্রমতে টঙ্গীতে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরের সমর্থক বেশি। এখানে এরশাদের কথায়ও কাজ হবে না। জাপার ভোট পেতে হলে কাজী জাফরের ইঙ্গিত লাগবে। তবে এখনও গাজীপুরের কর্মীদের কাছে কেন্দ্রীয় কোন বার্তা এসে পৌঁছায়নি বলে সূত্রে জানা গেছে। সার্বক্ষণিক গাজীপুরে থেকে বিএনপির প্রার্থী এম এ মান্নানের নির্বাচনী প্রচারণা দেখাশোনা করছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আ স ম হান্নান শাহ এবং কেন্দ্রীয় নেতা ফজলুল হক মিলন। গতকাল সিটি করপোরেশন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ভাগ হয়ে। একেক জন কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে আছেন দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ স্থানীয় নেতারা। গতকাল প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতা এনাম আহমেদ চৌধুরী, টাঙ্গাইলের এমপি মাহমুদুল হাসান, সাবেক মন্ত্রী মেজর অব হাফিজউদ্দিন, আবদুল্লাহ আল নোমান, সেলিমা রহমান, আবদুল হাই, সাবেক এমপি অধ্যাপক শহিদুল ইসলামসহ বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এডভোকেট আহমেদ আযম। স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক শরাফত হোসেন সপু, কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা কবির মুরাদ, শিরিন সুলতানা, রাবেয়া সিরাজসহ ছাত্রদল যুবদলের নেতাকর্মীরা। গতকাল সিটি করপোরেশন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে এলাকার ওলিতে গলিতে দামি দামি সব গাড়ি এবং মোটরসাইকেলের বহর থেকে নেমে ভোট চাইছেন এলাকায় অপরিচিত লোকেরা। তাদের কোন গ্রপের সঙ্গে স্থানীয় নেতাকর্মীরা আছেন কোন গ্রপের সঙ্গে নেই। এছাড়াও ভোটের মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠেছে এলাকার বেশকিছু দাগি আপরাধী। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় নিস্ক্রিয় ছিল তারা। ওই সকল অপরাধীর চেহারা দেখে আরও আতঙ্ক বাড়ছে ভোটারদের।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close