Featuredস্বদেশ জুড়ে

দেশের ৬০টির মধ্যে ৫৪টি গার্মেন্টেসই ঝুঁকিপূর্ণ

সাভারের রানা প্লাজা ধসের পর রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও ব্যক্তিগত অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের বিশেষজ্ঞরা রাজধানী এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে ভবন পরিদর্শন করছেন। বিশেষজ্ঞরা এ পর্যন্ত ৬০টি গার্মেন্ট পরিদর্শন করেছেন। এর মধ্যে ৫৪টিই ঝুঁকিপূর্ণ। পর্যবেক্ষণের পর দু’টি গার্মেন্ট   তাৎক্ষণিক বন্ধের সুপারিশ করা হয়েছে।

এর মধ্যে রাজধানীর ২৬ মালিবাগে অবস্থিত আল হামরা গার্মেন্ট ও মানিকগঞ্জে অবস্থিত অপর আরেকটি গার্মেন্ট। পুরকৌশল বিভাগ গত মাসের শেষ দিকে এসব ঝুঁকিপূর্ণ গার্মেন্টের তালিকা দিয়েছে রাজউককে। বিষয়টি স্বীকার করেছেন বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মুজিবুর রহমান ও রাজউকের সদস্য (প্ল্যানিং) শেখ আবদুল মান্নান। তালিকা ও সুপারিশ পাওয়ার পর ইতিমধ্যে ব্যবস্থা নেয়া শুরু করেছে রাজউক। দু’টি গার্মেন্ট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বুয়েটের সুপারিশ অনুযায়ী দ্রুত এসব ভবন বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোডের (বিএনবিসি) আওতায় আনতে হবে। নিয়মিত মনিটরিং করে কমপ্লিট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মধ্যে আনতে হবে। এ ছাড়া ভবন অনুযায়ী নানা সুপারিশ করা হয়েছে। এ জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সুপারিশ বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে রাউজক কর্তৃপক্ষ।

বুয়েটের রিপোর্টের পর ইতিমধ্যে রাজধানীর মালিবাগে অবস্থিত আল হামরা গার্মেন্ট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজউকের সদস্য শেখ আবদুল মান্নান। রোববার চারতলার ওই গার্মেন্টটিতে সিলগালা করে দেয়া হয়। মানিকগঞ্জের ওই গার্মেন্টটিও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। বাকি ঝুঁকিপূর্ণ ৫২টি গার্মেন্ট রাজধানীর গাজীপুর, মহাখালী, সাভার, আশুলিয়া, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে অবস্থিত। বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের চেয়ারম্যান ও তদন্তের সমন্বয়ক অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, পরিদর্শনের পর আমরা রিপোর্ট দিচ্ছি। সেই সঙ্গে সুপারিশও দিচ্ছি। ব্যবস্থা নেয়ার দায়িত্ব রাজউকের। সাভারের রানা প্লাজা ধসে ব্যাপক প্রাণহানির পর পরিদর্শনের জন্য এ পর্যন্ত প্রায় ৫০০ আবেদন পড়ে বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগে। এর মধ্যে প্রায় ১৮০টি ভবন পরিদর্শন করা হয়েছে। প্রাথমিক পরিদর্শনে দেখা গেছে, বেশির ভাগ ভবনই কোন না কোনভানে ঝুঁকিপূর্ণ। বসবাস বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। সবচেয়ে বিপজ্জনক বিভিন্ন এলাকার গার্মেন্ট প্রতিষ্ঠানগুলো।

এসব গার্মেন্টের ভবন তৈরি করা হয়েছিল কমার্শিয়াল বা আবাসিক ভবন হিসেবে ব্যবহার করতে। কিন্তু এখন এসব ভবন ব্যবহার করা হচ্ছে ইন্ড্রাশিয়াল (শিল্প ভবন) ভবন হিসেবে। ফলে সেখানে ভারি ভারি যন্ত্র, জেনারেটর এবং লোকজনের উপস্থিতি অনেক বেশি। এসব ভবন ধসে যে কোন সময় রানা প্লাজার মতো ভয়াবহ পরিস্থিতি ঘটতে পারে। এ কারণে কমপ্লিট ইঞ্জিনিয়ারিং টেস্ট অর্থাৎ পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে মালিক পক্ষকে। এ পরীক্ষার পর্যায়ে ভবনের নিচের ফাউন্ডেশন যাচাই করে দেখতে হবে। রাজউকের সদস্য (প্ল্যানিং) শেখ আবদুল মান্নান বলেন, যেসব ভবন পরিদর্শন করা প্রয়োজন আমরা সেসব ভবনের নাম পাঠাচ্ছি। বাকি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন সম্পর্কে কি ব্যবস্থা নেয়া হবে জানতে চাইলে শেখ আবদুল মান্নান বলেন, এসব ভবন কর্তৃপক্ষকে একটি নির্দিষ্ট সময় দেয়া হয়েছে। উল্লিখিত সময়ের মধ্যে সুপারিশ বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গত ২৪শে এপ্রিল সাভারের রানা প্লাজা ধসে পড়লে অসংখ্য মানুষ নিহত ও পঙ্গুত্ব বরণ করেন। ফাটল-আতঙ্কে রাজধানী এবং এর বাইরে বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ও পোশাক কারখানা বন্ধ ঘোষণাও করা হয়েছে। কিছু ভবনের ক্ষেত্রে অনিয়ম পাওয়ায় মালিকের বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে। বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের চেয়ারম্যান ও পরিদর্শন দলের সমন্বয়ক অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, রাজউকের অনুরোধেই আমরা পরিদর্শন পরিচালনা করছি। এ ছাড়া ব্যক্তিগত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেও কিছু ভবন পরিদর্শন করেছি। তিনি জানান, ৬০টি গার্মেন্টের মধ্যে ৬টি সম্পূর্ণ সঠিক রয়েছে। বাকি ৫৪টিতে নানা ধরনের ত্রুটি রয়েছে। দ্রুত এসব ত্রুটি সংশোধনের সুপারিশ করা হয়েছে। তিনি বলেন, পরিদর্শনে যা আসছে আমরা তাই জানাচ্ছি রাজউককে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আরও দেখুন...

Close
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close