স্বদেশ জুড়ে

জিসিসি নির্বাচন: ১৮ দলীয় প্রার্থী এমএ মান্নান বেসরকারীভাবে প্রথম সিটি মেয়র নির্বাচিত

 

 

 

 

 

 

 

 

শীর্ষবিন্দু নিউজ: গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন (জিসিসি) নির্বাচন ছিল দেশের অন্যান্য চার সিটি কর্পোরেশনের তুলনায় আয়তনে সবচেয়ে বড় সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। আর বৃহৎ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বেসরকারীভাবে প্রথম নগরপিতা নির্বাচিত হয়েছেন ১৮ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী এম এ মান্নান। শনিবার দিনভর ভোটগ্রহণ শেষে প্রায় ১২ঘণ্টা লেগে যায় সবকটি কেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণায়।

চূড়ান্ত ফলাফলে টেলিভিশন প্রতীক নিয়ে মান্নান পেয়েছেন ৩৬৫৪৪৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আজমত উল্লা খান দোয়াত-কলম প্রতীক নিয়ে ২৫৮৮৬৭ ভোট পেয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে তার ভোটের ব্যবধান এক লাখ ৬ হাজার ৫৭৭ ভোট। আয়তনে দেশের সবচেয়ে বড় এই নগরে মোট ১০ লাখ ২৬ হাজার ৯৩৮ জন ভোটারের মধ্যে ৬৩ শতাংশে ভোট দিয়েছেন

ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দল সমর্থক দুই প্রার্থীসহ মোট সাতজন এ নির্বাচনে মেয়র পদে লড়েছেন। এছাড়া ৫৭টি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৪৫৬ জন এবং সংরক্ষিত ১৯ কাউন্সিলর পদে ১২৮ জন নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। মেয়র পদে অন্যদের মধ্যে তালা প্রতীক নিয়ে আমান উল্লাহ, ডা. নাজিম উদ্দিন আহমেদ ঘোড়া নিয়ে, মো. মেজবাহ উদ্দিন সরকার রুবেল হাঁস নিয়ে, রিনা সুলতানা প্রজাপতি এবং জাহাঙ্গীর আলম আনারস প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। এই সিটির ১০ লাখ ২৬ হাজার ৯৩৮ জন ভোটারের মধ্যে ৪ লাখ ৯৯ হাজার ১৬১ নারী এবং ৫ লাখ ২৭ হাজার ৭৭৭ জন পুরুষ।

১৯৯৬ সাল থেকে সংসদ নির্বাচনে গাজীপুরে আওয়ামী লীগের একচেটিয়া জয়ে রাজধানীর কাছাকাছি এই এলাকাকে নিজেদের ‘ঘাঁটি’ ভেবে আসছিলেন দলটির নেতারা। যে সব পৌরসভা ও ইউনিয়নের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ছিল আওয়ামী লীগের, সেগুলো নিয়ে গঠিত গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচনে বিপুল ভোটে হেরেছে এই দল সমর্থিত প্রার্থী। শুধু ইউনিয়ন ও পৌরসভাই নয়, সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন ৩৩০ বর্গ কিলোমিটারে দুটি সংসদীয় এলাকায়ও দীর্ঘদিন ধরে দুই সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের।

আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনে মেয়র পদে সমর্থন দিয়েছিল আজমতকে, যিনি ১৯৯৫ সাল থেকে টঙ্গী পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে আসছিলেন। তবে দলের সিদ্ধান্তের বিপরীতে সাবেক সাবেক ছাত্রলীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম মেয়র পদে প্রার্থী হলেও দলের শীর্ষ পর্যায়ের হস্তক্ষেপে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। টঙ্গীতে প্রত্যাশিত উন্নয়ন না হওয়ার অভিযোগ উঠলেও দুর্নীতির কোনো অভিযোগ আজমতের বিরুদ্ধে তুলতে দেখা যায়নি বিরোধী শিবিরকেও। মহাজোটের অন্যতম শরিক জাতীয় পার্টির প্রার্থী দিয়ে সরিয়ে নিলেও অনেক নাটকের পর দলটির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ শেষ মুহূর্তে আওয়ামী লীগের আজমতকেই সমর্থনের ঘোষণা দেন।

 

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close