দুনিয়া জুড়ে

রমজানে টিভিতে ফান্ডরেইজিং: ব্রিটিশ চ্যারিটি কমিশনের কঠোর নজরদারি

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

শীর্ষবিন্দু নিউজ: পবিত্র রমজানকে উপলক্ষ হিসেবে টেলিভিশন চ্যানেলসহ অন্যান্য মাধ্যমে বিভিন্ন সংগঠনের তহবিল সংগ্রহ প্রোগ্রাম এবার পড়েছে ব্রিটিশ চ্যারিটি কমিশনের কঠোর নজরদারিতে। গত বছরগুলোতে এতো নজরদারী না থাকলেও এবার মূলত বিভিন্ন কারণ সামনে নিয়ে আসা হয়েছে। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় মৌলবাদের সাম্প্রতিক উত্থান ও জঙ্গি সহিংসতার করণেই এ কঠোর নজরদারি বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

সম্প্রতি মানি ট্রান্সফারের সুযোগ ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ এমপি রোশনারা আলী যখন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন, ঠিক তখনই রমজানের চ্যারিটি কার্যক্রমে শুরু হয়েছে আলাদা নজরদারি। আর তাই মানি ট্রান্সফার বন্ধ ও চ্যারিটি তহবিল সংগ্রহে নজরদারির বিষয় দু’টির মধ্যে যোগসূত্র আছে বলেও মনে করছেন কেউ কেউ। ব্রিটেনের বার্কলেজ ব্যাংক দক্ষিণ এশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে মানি ট্রান্সফার কোম্পানিগুলোর মানি ট্রান্সফারের সুযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। আর এর কারণ হিসেবেও জঙ্গি কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট জঙ্গি সংগঠনগুলোর কাছে অর্থপাচারের অভিযোগ বেশ আলোচিত হচ্ছে। চ্যারিটি তহবিল সংগ্রহের বিষয়টি নজরে রাখা চ্যারিটি কমিশনের নিয়মিত কাজ হলেও এবার এ নজরদারি আরো কঠোর করার সিদ্ধান্তকে অনেকেই অন্য চোখে দেখছেন।

বিভিন্ন ধর্মীয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও দারিদ্র্যবিরোধী সংগঠনের ফান্ড রাইজিং নতুন কোনো বিষয় নয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এ সমস্ত আয়োজনকে বিভিন্ন দুর্যোগ কিংবা দুঃসময়ের জন্যে তুলে রাখা হয়। বিভিন্ন নামি-দামি চ্যারিটি প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনে ফান্ড রেইজিং এর আয়োজন করে। কিন্তু প্রচলিত এ ধারণাকে পাল্টে দিয়ে বিগত কয়েক বছর ধরে দেখা যাচ্ছে, চ্যারিটি সংগঠনের নামে বিপন্ন বা দুর্গত মানুষের জন্য নয়, বরং  বিতর্কিত মৌলবাদী সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে। এরা পবিত্র রমজান মাসকে ফান্ড রেইজিং বা চাঁদা সংগ্রহের মাস হিসেবে পরিচিত করে তুলছে। আর এজন্যেই চ্যারিটি কমিশন রমজান মাসের চ্যারিটি আবেদনকে কেন্দ্র করে এখন শুরু করেছে নজরদারি।

রমজানে টেলিভিশনের পর্দায় মসজিদ-মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কর্তা ব্যক্তিরা ঘন ঘন উপস্থিত হন। নানা অনুনয়-বিনয় করে তারা ধর্মভীরু মানুষের কাছে এসব অবকাঠামোগত উন্নয়নের নামে সাহায্য প্রার্থনা করেন। এভাবে তারা প্রতি বছর লাখ লাখ পাউন্ড সংগ্রহ করছেন। কিন্তু  এ উন্নয়ন কাজ’ আর শেষ হয় না। শেষ হয় না তাদের আবেদনও।

চ্যারিটি কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর তহবিল সংগ্রহকারী প্রতি ১০টি সংগঠনের মধ্যে একটি জালিয়াতি করেছে। অর্থাৎ ওই একটি সংগঠনের সংগ্রহকৃত অর্থ নির্ধারিত খাতে ব্যয় না করে নিজেদের প্রয়োজনে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই এ অভিযোগকে সামনে রেখেই এবারের রমজানে চ্যারিটি তহবিল সংগ্রহ কার্যক্রমটি কঠোর ভাবে নজরদারিতে নিয়ে এসেছে চ্যারিটি কমিশন।

কমিশনের প্রধান নির্বাহী বলেন, এবারের রমজানে যদি কেউ দান করতে চান, তবে সংগ্রহকারী চ্যারিটি সংগঠনের কাছে আগে জানা উচিত, তার এই দানকৃত অর্থ কোন খাতে ব্যয় হবে। দাতাদের নিশ্চিত হতে হবে, তাদের দানের অর্থ জনকল্যাণেই যাতে ব্যয় হয়। প্রকৃত চ্যারিটি সংগঠনগুলো খুশি মনেই দাতাদের প্রশ্নের যথাযথ উত্তর দেবেন বলেও আমরা আশা করি- যোগ করেন সাম ইয়াংগার।

ব্রিটেনে শুধু টিভি চ্যানেল নয়, রাস্তাঘাট ও আন্ডারগ্রাউন্ড স্টেশনের সামনেও বালতি বা বাক্স হাতে স্ট্রিট চ্যারিটি সংগ্রহ করা হয় ব্যাপকভাবে। এসব সংগ্রহ স্বচ্ছভাবে কতোটুকু সঠিক খাতে ব্যবহৃত হয় তা নিয়ে বিতর্ক অনেক দিন থেকেই চলছে। মঙ্গলবার রাত থেকেই ব্রিটেনের বাংলা ও পাকিস্তানি টিভি চ্যানেলগুলোতে শুরু হয়েছে চ্যারিটি তহবিল সংগ্রহের অভিযান। অন্যান্য বছরের মতোই রমজানের পুরো মাসব্যাপী এ তহবিল সংগ্রহের অভিযান চলবে। এ সময়ে টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে দেখা যাবে না কোনো বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান।

টিভি চ্যানেল কর্তৃপক্ষ অবশ্য বলছেন, তারা অফকম এর নিয়ম-কানুন মেনেই বিভিন্ন সংগঠনকে এই চ্যারিটি সংগ্রহের সুযোগ দিচ্ছেন। চ্যারিটি তহবিল সংগ্রহের বিষয়ে চ্যারিটি কমিশনের নজরদারি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। প্রতি বছরই টিভি চ্যানেলগুলোর সঙ্গে এ বিষয়ে কমিশনের মিটিং হয়, কমিশন বিভিন্ন নিয়ম-কানুনও বেধে দেয় ফান্ড রেইজিংয়ের জন্য। এসব নিয়ম-কানুন এবং পাশাপাশি অফকম নিয়ম মেনেই তারা চ্যারিটি সংগঠনগুলোকে তহবিল সংগ্রহের সুযোগ দেন।

লন্ডনপ্রবাসী অনেকের অভিযোগ, দেশে এসব অর্থ কিভাবে ঢোকে তা দেখার কোনো ব্যবস্থা নেই। কোরবানি, সিডর আক্রান্তদের সহায়তা, ঈদ-গিফট কিংবা এতিমখানার নামে তহবিল সংগ্রহ করা হচ্ছে। সংগ্রহ শুধু টেলিভিশন চ্যানেলের ফান্ড রেইজিং অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই হচ্ছে না, রাস্তায় রাস্তায় চ্যারিটি বক্স হাতে নিয়েও এ সংগ্রহ অভিযান চলে। বিভিন্ন ইসলামী সংগঠন অথবা প্রতিষ্ঠানের নামে এগুলো করা হচ্ছে। দেশে মৌলবাদী জঙ্গি তৎপরতায় অর্থের জোগান দিতে তাদের সংগ্রহ করা তহবিল ব্যবহার করা হচ্ছে কি-না তাও নিশ্চিত হতে চান লন্ডন প্রবাসীরা। যুক্তরাজ্যে বসবাসরত ধর্মভীরু সাধারণ বাংলাদেশিদের কাছ থেকে ধর্মের দোহাই দিয়ে অসহায় মানুষকে সাহায্যের নামে এসব অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে। সংগৃহীত এই লাখ লাখ পাউন্ড আদৌ সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌছে কি-না এটি নিয়ে লন্ডনের কমিউনিটিতে ব্যাপক সন্দেহ রয়েছে।

 

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close