স্বদেশ জুড়ে

অনেকটা এক ঘরে হয়ে যাচ্ছেন সরকার দলীয় এমপি রনি

 

 

 

 

 

 

 

 

 

শীর্ষবিন্দু নিউজ: একে তো সংসদ সদস্য, তার ওপর গায়ে এটেঁছিলেন সাংবাদিকের তকমা। ঢাকা বারের তালিকাভুক্ত আইনজীবীও তিনি বটে। এমনকি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকারের নানা ‘কীর্তি’ ফাঁস করে ও দেদারছে জ্ঞান বিলিয়ে এলেও নানা কাজের এই কাজীর টিকিটিও ছুঁতে পারছিলো না কেউ। সরকারে থাকা দোর্দণ্ড প্রতাপশালীদের সঙ্গেও বেশ দহরম-মহরম তার। তাই হয়তো রনির ধারণা হয়েছিলো, সব ধরাছোঁয়ার ঊর্ধ্বে উঠে গেছেন। যা ইচ্ছা তাই করবেন। করে পারও পেয়ে যাবেন।

বস্তুত এই ভিডিও ফুটেজটাই সম্ভবত তার ক্ষয়িষ্ণু ক্ষমতার কফিনে পেরেক ঠুকতে শুরু করলো। তার এমন কাজে বিব্রত হলো আওয়ামী লীগ, অস্বস্তিতে পড়লো সরকার, ক্ষুব্ধ হলেন খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও। এমনকি নিজের নির্বাচনী এলাকা গলাচিপায় বিক্ষোভ শুরু হলো রনির বিরুদ্ধে। প্রতিবাদ সভা করলো দশমিনা প্রেসক্লাব। সোমবার মানববন্ধন হলো ঢাকাতেও। তার দলের লোকেরাই বলতে শুরু করলেন, সাংবাদিক পেটানো রনির নেশায় পরিণত হয়েছে। তিনি দলকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে দিয়েছেন। দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছেন। কিন্তু বারবার সাংবাদিক পেটানোর ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না। তার কঠোর বিচার হওয়া জরুরি।

ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের সাংবাদিক ইমতিয়াজ সনি ও ক্যামেরাম্যান মহসিন মুকুলকে বেধড়ক পেটানোর পরও তাই অবলীলায় বলেছিলেন, ‘ঘটনাস্থলে আমি ছিলাম না।’ ভেবেছিলেন, ক্যামেরা আর বুম তো ভাঙা হলোই। খুলে নেওয়া হলো মেমোরি কার্ডও। মেরেছি যে তার প্রমাণ কি? তাই ফিল্মি স্টাইলে এসে আটকে ফেলা দুই সাংবাদিককে লাথি দিতে শুরু করলেন। তার লাথি আর ক্যাডারদের কিল-ঘুষিতে শার্ট ছিঁড়লো সংবাদিকদের। কালসিটে দাগ পড়লো শরীরে। মারের চোটে শুয়ে পড়েও তারা পার পেলেন না এমপি রনির পায়ের আক্রমণ থেকে। সাংবাদিক পেটানো যে কতো নিরাপদ কাজ তা রনির চেয়ে বেশি কেই বা জানে!

কিন্তু সব কিছুরই শেষ আছে। কোনো দাম্ভিকতা আর স্বেচ্ছাচারিতাই অনন্তকাল চলে না। রনিরটাও চললো না। উপুর্যপরি মারের মুখেও ফুটেজ ধারণ করলেন দুই সাংবাদিক। ক্যামেরা-বুম ভেঙে আর মেমোরি কার্ড খুলে নিয়ে রনি তো তখন ‘আমি নিরাপদ’ এই আত্মতুষ্টিতে ভুগছেন। কিন্তু তার সেই গলাবাজি অসার করে দিল ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনে প্রচারিত ভিডিও ফুটেজ। তাতে দেখা গেলো-কেমন ঠাণ্ডা মাথায় কি করে এসে মানুষকে ফুটবলের মতো কিক ‍মারতে শুরু করলেন রনি।

এদিকে রনিকাণ্ডে দলের হাইকমান্ডও নড়েচড়ে বসলো যেন। যদিও সদস্য না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলো আওয়ামী লীগ, কিন্তু পার্লামেন্টারি বোর্ডে তীব্র হয়ে উঠলো আগামী নির্বাচনে রনিকে মনোনয়ন না দেওয়ার দাবি। পার্লামেন্টারি বোর্ডের ৯ সদস্যের অধিকাংশই অবস্থান নিলেন রনিকে আর মনোনয়ন না দেওয়ার ব্যাপারে।    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের অধিকাংশই এখন রনিকে আওয়ামী লীগের রাজনীতি থেকে মাইনাস করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন বলে আভাস দিচ্ছে দলীয় সূত্র। দলীয় কর্তাদের আনুকুল্য হারানো ছাড়াও এ মুহূর্তে সাংবাদিকদের সমর্থনও হারিয়ে ফেলেছেন বহুল বিতর্কিত এই সংসদ সদস্য।

গত ২০ জুলাই সাংবাদিক পেটানোর ওই ন্যক্কারজনক ঘটনার পরদিন রোববার বিভিন্ন টেলিভিশনের সিনিয়র সম্প্রচার সাংবাদিকরা বিবৃতিতে দিয়ে অনুষ্ঠানে রনিকে আমন্ত্রণ না জানানোর আহবান জানিয়েছিলেন টেলিভিশনগুলোকে। অধিকাংশ টিভি চ্যানেল ওই আহবানে সাড়া দিলেও অজ্ঞাত কারণে দু’একটি টিভি চ্যানেল সাংবাদিকদের মূলস্রোতের বিপরীতে অবস্থান নিলো। এসএ টিভিতে রোববার রাতেও দেখা গেলো রনিকে। এতে মর্মাহত সাংবাদিক প্রতিনিধিরা ক্ষেপেছেন ভালোই। যদিও দু’এক দিনের মধ্যেই রনিকে টিভিতে আমন্ত্রণ জানানোর ঘটনা একেবারেই বন্ধ হয়ে যাবে বলেই মনে করছেন তারা।

এবার বেশ ফাঁপড়েই পড়েছেন গলাচিপার এমপি গোলাম মাওলা রনি। একের পর এক সাংবাদিক পিটিয়ে, ‍কাগুজে প্রতিষ্ঠানের নামে কোটি টাকা আত্মসাৎ করে, নদী দখল করে বরাবরই পার পেয়ে যাচ্ছিলেন পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনের সরকারদলীয় এই এমপি।

[youtube id=”3RP0ODO2azw” width=”600″ height=”350″]

[youtube id=”08ufPSoI” width=”600″ height=”350″]

 

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close