প্রচ্ছদ রচনা

রাশিয়ার গোয়েন্দা এডওয়ার্ড স্নোডেন

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: এবারে এডওয়ার্ড স্নোডেনের সাহায্য-প্রত্যাশী হয়েছে রাশিয়া। আন্তর্জাতিক কূটনীতি বিশেষজ্ঞদের অনেকেই বলছেন দেশটির সাইবার নিরাপত্তার জন্য কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে তার জন্য স্নোডেনকে কাজে লাগানো হতে পারে। এদিকে, রাশিয়ান পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক এই কর্মীকে কাজের যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে বলে জানিয়েছে খ্রিস্টান সায়েন্স মনিটর। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেসবুক, ইয়াহু, গুগল ও অন্যান্য ইন্টারনেটনির্ভর প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে তথ্য সংগ্রহ করছে মার্কিন গোয়েন্দারা-এ তথ্য ফাঁস করেন স্নোডেন। এখন সেই স্নোডেনকেই রাশিয়ার নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য নিরাপত্তার বিষয়টি দেখাশোনার প্রস্তাব দেবে রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। যুক্তরাষ্ট্রের গোপন নজরদারির খবর ফাঁস করে হইচই ফেলে দেওয়া স্নোডেনকে গত বৃহস্পতিবার সাময়িক আশ্রয় দেয় রাশিয়া। রাশিয়ায় এক বছরের জন্য আশ্রয় পেয়েছেন তিনি। ওই দিনই তিনি মস্কোর শেরেমেতিয়েভো বিমানবন্দর ছেড়ে রাশিয়ার ভূখণ্ডে প্রবেশ করেন। ভ্রমণের জন্য পাসপোর্ট বা কোনো কাগজপত্র না থাকায় গত ২৩ জুন থেকে স্নোডেন বিমানবন্দরেই আটকে ছিলেন তিনি। এর আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেফতার এড়াতে প্রথমে হংকং যান। সেখান থেকে গত ২৩ জুন রাশিয়ায় পৌঁছান। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র তাঁর পাসপোর্ট বাতিল করে। এরপর বহু দেশে আশ্রয়ের আবেদন জানালেও মূলত লাতিন আমেরিকার কয়েকটি দেশই কেবল স্নোডেনের আবেদনে সাড়া দিয়েছিল। কিন্তু ভ্রমণের বৈধ কাগজপত্র না থাকায় গ্রেপ্তার এড়িয়ে শেরেমেতিয়েভো বিমানবন্দর ছেড়ে যাওয়াটাই তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।
দেশে-বিদেশে মার্কিন সরকারের গোয়েন্দা নজরদারির তথ্য ফাঁস করে দেওয়ার অভিযোগে স্নোডেনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মামলা হয়েছে। তাঁকে আশ্রয় দেওয়ার কারণে মস্কো-ওয়াশিংটন সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে আর এ অবস্থায় রাশিয়া স্নোডেনকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করায় দেশ দুটির কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। রাশিয়ার সিনেটর রুজলান গ্যাটারভ জানিয়েছেন, কীভাবে ব্যক্তিগত তথ্য গোপনে সংগ্রহ করা হচ্ছে সে বিষয়ে স্নোডেন সবচেয়ে ভালো জানেন। রাশিয়া থেকে কীভাবে তথ্য ফাঁস হচ্ছে তা খতিয়ে দেখতে তাঁকে নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। তবে গোয়েন্দাগিরির চেয়ে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তার ওপর জোর দিতেই স্নোডেনকে কাজে লাগানোর পক্ষে রুজলান।

স্নোডেনকে কাজে লাগানোর জন্য যাঁরা সমর্থন দিচ্ছেন তাঁদের দাবি, সাইবার গেট গলে যাতে তথ্য বেরিয়ে যেতে না পারে সেজন্য রাশিয়ার পক্ষে শক্ত সাইবার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে স্নোডেনকে প্রয়োজন পড়বে। অবশ্য বিপক্ষের যারা; তাঁরা দাবি করছেন, স্নোডেনকে কাজে লাগিয়ে ইন্টারনেটের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় রাশিয়ার সরকার।

রাশিয়ার তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার চেয়েও রাশিয়ার গোয়েন্দারা ইন্টারনেটভিত্তিক গোপন কর্মসূচি বেশি চালান। তাই স্নোডেনের নিয়োগ নিয়ে বর্তমানে প্রশ্ন উঠেছে যে, আসলে সাইবার নিরাপত্তার প্রয়োজনেই তাঁকে নিয়োগ দেওয়া হবে নাকি রাশিয়ান নাগরিকদের তথ্যে নজরদারি বা গোয়েন্দাগিরির ক্ষেত্রে কাজ করবেন স্নোডেন?

 

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আরও দেখুন...

Close
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close