দুনিয়া জুড়ে

রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগের বিরোধীতা করে সিরিয়ার উদ্দ্যেশে ওবামা ও ক্যামেরনের কঠোর হুঁশিয়ারি

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: সিরিয়ার প্রতি কঠোর হুশিঁয়ারি উচ্চারণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে আসাদ বাহিনীর রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগের প্রমাণ পেলে এ ব্যাপারে  তারা খুবই গুরুতর প্রতিক্রিয়া দেখানোর হুমকি দিয়েছেন।

আসাদ বিরোধী বিদ্রোহীরা অভিযোগ করেছিলেন, সরকারি বাহিনী গত ২১ আগস্ট দামেস্কের পূর্বাঞ্চলে রাসায়নিক অস্ত্র হামলা চালিয়েছে। আবার একই সময়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম এ অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেয়। সরকার ও বিদ্রোহী পক্ষ উভয়ই একে অপরের বিরুদ্ধে এ অস্ত্র হামলার অভিযোগ করছে। সরকার বলছে, যুদ্ধে নিজেদের পরাজয় নিশ্চিত জেনে বিদ্রোহীরাই এ কাজ করেছে। এ নিয়ে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ জরুরি বৈঠক ডাকে।

এদিকে, পেন্টাগন সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে শনিবার সকালে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলো জানিয়েছে, রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের পর সিরিয়ায় ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় ভূ-মধ্য সাগরে সিরিয়া উপকূলের কাছে চতুর্থ ক্রুজ-মিসাইলবাহী যুদ্ধ জাহাজ মোতায়েনসহ শক্তি বৃদ্ধি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী। জাতিসংঘের দেয়া তথ্যানুযায়ী, দুই বছরেরও বেশি সময় আগে থেকে শুরু হওয়া আসাদ বিরোধী আন্দোলনে এখন পর্যন্ত ১ লক্ষেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।

অন্য দিকে, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে তথ্য জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন এ ব্যাপারে শনিবার ফোনে ৪০ মিনিট কথা বলেন। তথ্য ও প্রমাণে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসছে দামেস্কের পূর্বাঞ্চলে গত সপ্তাহে আসাদ বিরোধীদের ওপর রাসায়নিক অস্ত্র হামলা হয়েছিল। আর এটা নিয়ে রীতিমতো শঙ্কিত ওবামা ও ক্যামেরন। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে আরো জানানো হয়, প্রেসিডেন্ট আসাদ এ ব্যাপারে জাতিসংঘকে সাহায্য করতে ব্যর্থ হয়েছে। এবং আরো হুশিয়রিী দিয়ে ক্যামেরন সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, আবারও যদি রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের পুনরাবৃত্তি ঘটে, তাহলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এক্ষেত্রে গুরুতর প্রতিক্রিয়া জানাবে। ওবামা ও ক্যামেরন উভয়ই এ ব্যাপারে তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন।

হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তা সংবাদ সংস্থা এএফপিকে বলেন, প্রেসিডেন্ট এ ব্যাপারে তথ্য-প্রমাণাদি সংগ্রহের জন্য গোয়েন্দা সংস্থাকে নির্দেশ দিয়েছেন। যাতে আমরা নিশ্চিত হতে পারি সিরিয়ায় কি ঘটেছিল। এদিকে সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগে মৃত্যুর প্রমাণ পেয়েছে আন্তর্জাতিক মেডিকেল দাতব্য সংস্থা মেডিসিনস সানস ফ্রন্টিয়ার্স (এমএসএফ)। তারা জানিয়েছে, রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগের কারণে হাসপাতালে ভর্তি ৩ হাজার ৬’শ রোগীর মধ্যে ৩’শ ৫৫ জনের মৃত্যু ঘটেছে।

হাসপাতালের তথ্য মতে, ২১ আগস্ট বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগের পর ওই দিনই দামেস্কের তিনটি সরকারি হাসপাতালে তাদের ভর্তি করা হয়। তারা জানিয়েছে, বৈজ্ঞানিকভাবে পুরোপুরি সঠিক কারণ সম্পর্কে যতক্ষণ না নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত মনে করা হচ্ছে এটা রাসায়নিক পদার্থের বিষক্রিয়ার ফলেই ঘটেছে।

পশ্চিমা দু’দেশের প্রধানই এ ব্যাপারে একমত হয়েছেন যে, এ ঘটনা বিশ্বে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞাকে উস্কে দেয় এবং এ ধরনের সন্ত্রাসীমূলক কর্মকাণ্ডকে প্রতিহত করতে হবে। তারা এ ব্যাপারে সজাগ থাকবেন। ওবামা সিরিয়া ইস্যুতে আলোচনার জন্য তার দেশের নিরাপত্তা পরিষদকে নিয়ে  সভা আহ্বান করেছেন।

 

 

 

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আরও দেখুন...

Close
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close