Featuredস্বদেশ জুড়ে

সুযোগের অপেক্ষায় এরশাদ

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

এরশাদ বিএনপিবিহীন পাতানো নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণা দিলেও শেষ পর্যন্ত কি করেন তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েই গেছে। দলের মধ্যে প্রবল চাপ থাকলেও আঞ্চলিক শক্তির ইচ্ছার বাইরে তার পক্ষে কিছু করা সম্ভব কিনা সে প্রশ্ন বড় হয়ে এসেছে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রভাবশালী এই শক্তি এখানে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ বিরোধী উদার গণতান্ত্রিক, অসামপ্রদায়িক মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে ক্ষমতায় দেখতে চায়।

এ জন্য বিএসএফ-এর গুলিতে নিহত বাংলাদেশীদের আর্থিক ক্ষতিপূরণ দান, ঋণের অর্থ দ্রুত ব্যবহারসহ তারা শেষ সময়ে হলেও জনমনে প্রভাব সৃষ্টিকারী কিছু করার চেষ্টা করছে। যদিও স্থল সীমান্ত চুক্তি ও তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তির ব্যাপারে নয়াদিল্লি নানাভাবে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে। এরশাদের বিশ্বস্ত জাতীয় পার্টির নেতৃস্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশের ঘটনাপ্রবাহ বিশেষ করে ধর্মীয়, সামপ্রদায়িক শক্তির তৎপরতা, তাদের ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনার দিক প্রতিবেশীসহ পশ্চিমা শক্তি সতর্ক পর্যবেক্ষণে রেখেছে।

এরশাদ এখন যত কথাই বলুন আর যত কলাকৌশলই করুন তার শেষ সিদ্ধান্ত প্রতিবেশীর ইচ্ছার বাইরে হবে না। এমনকি বিএনপিবিহীন নির্বাচন হলেও বর্তমান সরকারের ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা কম বলেই এরশাদ ও জাতীয় পার্টির নেতারা মনে করেন। বিদেশী মাধ্যমেও তাদেরকে এরকম পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। এই সুযোগটাই নিতে চান এরশাদ। মহাজোট থেকে বেরিয়ে এসে তিনি একক নির্বাচনের কথা বলছেন। শেষ পর্যন্ত বিএনপির সঙ্গে সরকারের সমঝোতা হলেও এরশাদ আগামীতে সরকার গঠনে নিয়ামক অবস্থানে থাকতে চান। আওয়ামী লীগ দলীয় এমপিদের উল্লেখযোগ্য সংখ্যকই নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় নানা কারণে ব্যাপকভাবে সমালোচিত। জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর চেষ্টা করলেও তারা তেমন সাড়া পাচ্ছেন না। বিরোধী দল থেকে বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকা গ্রহণযোগ্য প্রার্থী পেলে ভোটাররা সাধারণত সেদিকে ঝুঁকতে পারেন। এই কারণেই বিএনপিতে নির্বাচনে অংশ নেয়ার পক্ষ মত জোরালো হচ্ছে।

তবে শেখ হাসিনাকে অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান রেখে নির্বাচনে না যাওয়ার পক্ষে বিএনপির অবস্থান কঠোর। স্পিকার বা প্রেসিডেন্টকে অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান হিসেবে মেনে নেয়া না নেয়ার ব্যাপারে বিএনপির সিদ্ধান্তের উপরই নির্ভর করবে আগামী নির্বাচনের রূপ। জাতিসংঘ মহাসচিব ও তার প্রতিনিধির মধ্যস্থতায় কোন সমঝোতা যদি না-ও হয় সরকার নির্বাচনী প্রক্রিয়া এগিয়ে নেবে। এরশাদ ও তার জাতীয় পার্টি তাতে অংশ নেবে। যদিও এখন তিনি বলছেন, বিএনপিবিহীন পাতানো নির্বাচনে জাতীয় পার্টি যাবে না।

এরশাদের ঘনিষ্ঠজনেরা মনে করেন, মানুষ সরকার পরিবর্তনের জন্য উন্মুখ হয়ে আছে। আওয়ামী লীগ বিরোধী যোগ্য ও সৎ প্রার্থী পেলে মানুষ তাকেই নির্বাচিত করবে। এই সুযোগ নেয়ার অপেক্ষায় আছেন এরশাদ। সমস্যা হচ্ছে বেশির ভাগ নির্বাচনী এলাকায় তার যোগ্য প্রার্থী নেই। হেফাজত, খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলনসহ ছোট ছোট ধর্মীয় সংগঠনগুলোকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনী জোট করার চেষ্টা করছেন এরশাদ। এখন পর্যন্ত তাতেও তেমন একটা সাড়া পাচ্ছেন না।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close