Featuredস্বদেশ জুড়ে

দুর্নীতি রোধ হলে পদ্মা সেতু করা সম্ভব

 

 

 

 

 

 

 

 

 

স্বদেশ জুড়ে নিউজ: বাংলাদেশের দুর্নীতি রোধ করা গেলে প্রতি দু’ বছরে একটি করে পদ্মা সেতু নির্মাণ করা সম্ভব। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যখাতের ব্যয় দ্বিগুণ করাও সম্ভব। গতকাল লন্ডনের প্রভাবশালী ম্যাগাজিন দ্য ইকোনমিস্ট এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলেছে।

ডিউটি ডজিং ইন বাংলাদেশ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, যে পরিমাণ অর্থ দুর্নীতি হয় তার পরিমাণ বিপুল। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিবিদ ও বাংলাদেশের অর্থনীতি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ফরেস্ট কুকসন বলেছেন, বাংলাদেশে শুধু আমদানি খাতে চালান (ইনভয়েস) থেকে যে পরিমাণ রাজস্ব হারায় তার পরিমাণ বার্ষিক জাতীয় প্রবৃদ্ধির শতকরা কমপক্ষে এক ভাগ। তিনি বলেছেন, যদি এই চর্চা বাতিল করা যেতো তাহলে বাংলাদেশ ট্যাক্স থেকে জাতীয় প্রবৃদ্ধিকে শতকরা ১.৫ ভাগ বেশি এগিয়ে নিতে পারতো।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৫ সাল পর্যন্ত ৫ বছরে বাংলাদেশ দুর্ভাগ্যজনকভাবে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের দুর্নীতির সূচকের একেবারে নিচে ছিল। তারপর থেকে অবস্থার সামান্য উন্নতি হয়েছে। এ বছরের শুরুর দিকে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম পুঁজিবাদ কমিয়ে আনা নিয়ে একটি বিবৃতি দেন। সেখানে তিনি উদাহরণ হিসেবে বাংলাদেশকে তুলে ধরেন। বলেন, সরকার দুর্নীতির বিষয়ে অপর্যাপ্ত সাড়া না দেয়ায় বিশ্বব্যাংক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। এ ব্যাংক তখন সবেমাত্র দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় অবকাঠামো পদ্মা সেতুতে প্রস্তাবিত অর্থ সহায়তা বাতিল করেছে। তারা তখন এর কারণ হিসেবে বাংলাদেশের সরকারি পর্যায়ের কর্মকর্তারা দুর্নীতিতে জড়িত বলে অভিযোগ তুলে ধরে।

তবে বিস্ময়ের বিষয় হলো, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রকম ঘুষ-দুর্নীতির পরও দাতারা এদিকে খুব কমই নজর দিয়েছে। যদি এই দুর্নীতি রোধ করা যেতো তাহলে সরকারের হাতে এতটাই টাকা থাকবে যা দিয়ে স্বাস্থ্যখাতে দ্বিগুণ খরচ করা যাবে এবং প্রতি দু’ বছর পর পর পদ্মা সেতুর মতো বড় একটি করে অবকাঠামোর অর্থ দেয়া সম্ভব। ব্যবসার ইনভয়েসের ক্ষেত্রে যে প্রতারণা হয় সেই দুর্নীতি প্রশ্নের সৃষ্টি করে। উদাহরণ হিসেবে একটি চশমার কথাই ধরুন। চীন থেকে এই চশমা বাংলাদেশে আমদানি করা হচ্ছে। বাংলাদেশের যে আমদানিকারক আছেন তিনি চীনা রপ্তানিকারকদের প্রতিটি চশমার জন্য ইনভয়েস করলেন মাত্র এক ডলার, যদিও এক্ষেত্রে ১০ ডলার দেয়ার সম্মতি দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশের এই আমদানিকারক নিজের রাষ্ট্রকে আমদানি করের মাত্র একটি খণ্ডিতাংশ পরিশোধ করলেন। চীনা রপ্তানিকারক কম ইনভয়েসে কাজ করে দিতে রাজি হন। এর কারণ, এর মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ বাজারে তার পণ্যকে পৌঁছে দিচ্ছেন। একই সঙ্গে তারা বৈদেশিক বিনিময় বিষয়ক আইন লঙ্ঘনের চেষ্টা করেন। বস্তুতপক্ষে সরকারি চ্যানেল (লেটার অব ক্রেডিট) ব্যবহার করে বাংলাদেশী আমদানিকারক পরিশোধ করে মাত্র এক ডলার। বাকি ৯ ডলারের ব্যবস্থা হয় হুন্ডি ব্যবস্থায়। আমদানিকারক ওই হুন্ডির টাকা বাংলাদেশী ডিলারের হাতে তুলে দেন।

ধরুন, দুবাইতে আরেকজন ডিলার সেই অর্থ পরিশোধের জন্য একজন মানি ট্রান্সফার এজেন্টকে ব্যবহার করেন। যাতে তিনি তার ব্যাংকের একাউন্ট ব্যালেন্স করতে পারেন। এই এজেন্ট ওই ৯ ডলার আমদানিকারকের বিদেশের একাউন্টে পাঠিয়ে দেন। সেখান থেকে তিনি চীনা রপ্তানিকারকের অর্থ পরিশোধ করেন। আসলে কোন অর্থই বাংলাদেশের বাইরে যায় না। অর্থের যে হাতবদল তার রেকর্ড বলে আসল বাণিজ্যিক লেনদেনের সঙ্গে ওই অর্থ সম্পর্কযুক্ত নয়। এভাবে যে অর্থ দুর্নীতি হয় তা বিরাট অঙ্কের।

২০০২ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে শুধু চীনের সঙ্গে বাণিজ্য বেড়েছে সাত গুণ। এর পরিমাণ ৮৫০ কোটি ডলার। চীন থেকে আমদানির ক্ষেত্রে শুধু ইনভয়েস বেড়ে দাঁড়াতে পারে ৩০০ কোটি ডলার। বাংলাদেশে এই দুর্নীতির জন্য অংশত বাংলাদেশের শাসকগোষ্ঠীর বাণিজ্যিক খাতের একটি গ্রুপ দায়ী। এশিয়ার মধ্যে এটি সবচেয়ে প্রকট। কাস্টমস কর্মকর্তারা পণ্যের ক্ষেত্রে ইনভয়েসে সবচেয়ে খারাপ ঘটনার কথা উল্লেখ করে রিপোর্ট করেছেন।

এমন ঘটনা ঘটে কস্টিউম জুয়েলারির ক্ষেত্রে। এর মূল দামের মাত্র শতকরা ৫ ভাগ ইনভয়েস দেয়া হয় মাঝে মধ্যে। কস্টিউম কন্ট্রোলকে শিথিল করে ট্যাক্স ফাঁকির পথ সহজ করা হয়েছে। বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি হয় বলে ধরে নেয়া হয় এমন প্রতিষ্ঠানগুলো হলো পুলিশ, বিচার বিভাগ ও রাজনৈতিক দলগুলো। এসব প্রতিষ্ঠান সংস্কার করার চেয়ে দুর্নীতি থেকে বেরিয়ে আসা সহজসাধ্য। এরই মধ্যে কিছু প্রচেষ্টা নেয়া হয়েছে। এই গ্রীষ্মে সরকার বেনাপোল, চট্টগ্রাম ও ঢাকায় তিনটি বন্দরে নতুন সফটওয়্যার ব্যবস্থা চালু করেছে। এর সাহায্যে কাস্টমস কর্মকর্তারা বর্তমান বাজার মূল্যের চেয়ে কম মূল্য দেখিয়ে কোন পণ্য নেয়া হচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে পারেন।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close