Featuredব্রিকলেন টু জিন্দাবাজার

সাবধান! বন্ধু যদি হয় খুনি

 

 

 

 

 

 

 

 

 

শীর্ষবিন্দু নিউজ: টাকার লোভে হাতুড়ির ধারালো অংশ দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে সোহেলকে খুন করেছি। মাথার বামপাশে আঘাত করার পর সে জেগে উঠে চিৎকার দেয়ার চেষ্টা করে। এ সময় তার মুখে গামছা গুঁজে দিয়ে মাথাসহ গলায় এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকি। একপর্যায়ে সোহেলের শরীর নিস্তেজ হয়ে পড়ে।’ এভাবেই সিলেটের ট্রাভেল ব্যবসায়ী সোহেল আহমদের ঘাতক আবুল হোসেন র‌্যাব কার্যালয়ে খুনের বর্ণনা দেন।

সে জানায়, রাতের মধ্যভাগে ঘুম থেকে উঠেছিল সোহেলকে খুন করতে। কিন্তু ওই সময় তাকে খুন করার সাহস পায়নি। শেষে ভোররাতের দিকে খুন করে। ২৮শে আগস্ট সিলেট নগরীর তাঁতীপাড়া ৫৩/১নং বাসা থেকে সোহেল আহমদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তবে এ ঘটনায় পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। র‌্যাব ঘটনার ৫ দিন পর খুনের মূল হোতা আবুল হোসেনকে গ্রেপ্তার করে।

র‌্যাব ৯-এর কমান্ডিং অফিসার রাশেদ সাত্তার মঙ্গলবার রাতে ইসলামপুরস্থ র‌্যাব ৯-এর কার্যালয়ে এ উপলক্ষে  এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, র‌্যাব সদস্যরা অনুসন্ধান চালিয়ে সিলেট নগরীর বন্দরবাজার থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে। আর গ্রেপ্তারের পর আবুল হোসেন র‌্যাবের কাছে খুনের ঘটনার পুরো বিবরণ দিয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আবুল (৩০) সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা উপজেলার উকিলপাড়ার আবদুল ওহাবের পুত্র। ২০০৬ সালে ব্যবসায়ী সোহেল আহমদের সঙ্গে পরিচয় হয় তার। এরপর থেকে তারা দু’জন ঘনিষ্ঠ বন্ধু। দু’জনই পাশাপাশি উপজেলার বাসিন্দা। সোহেলের বাড়ি জামালগঞ্জ উপজেলায়। স্থানীয় সংবাদপুর গ্রামের রফিকুল ইসলামের পুত্র সে। সিলেটের তাঁতীপাড়ায় একটি মেসে সে থাকতো। আর আবুল হোসেন থাকতো নিজ বাড়িতে। তবে সোহেলের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। আবুল হোসেন সিলেটে এলে সোহেলের এখানেই রাত কাটাতো। ঘটনার আগের দিন ২৬শে আগস্ট বিকালে আবুল হোসেন ফোনে সোহেলকে জানায় সে ধর্মপাশা থেকে সিলেটে আসছে। রাতে তার ওখানে থাকবে। সোহেলের মেসে রাত কাটাবার সময়ই হত্যা করবে এ পরিকল্পনা নিয়ে সুনামগঞ্জের মধ্যবাজার থেকে কেনা হয় হাতুড়ি।

এরপর জিন্দাবাজার পয়েন্টে এসে ২৭শে আগস্ট রাত ৮টায় সোহেলকে ফোন করে সে। বলে, বন্ধু এসে গেছি। তোমার এখানেই আজ থাকবো। সেখান থেকে আবুলকে সোহেল নিয়ে যায় তাঁতীপাড়ার বাসায়। বন্ধুকে ভাল কিছু খাওয়াতে হবে তাই পানসি রেস্টুরেন্ট থেকে গরুর গোশতের তরকারি ও গরম ভাত মেসে নিয়ে আসে। এরপর একত্রে খাওয়া দাওয়া শেষে আবুলকে খাটে ঘুমানোর ব্যবস্থা করে ফ্লোরে শুয়ে পড়ে সোহেল। কিন্তু ঘুম বাদ দিয়ে মধ্যরাত পর্যন্ত চলে দু’বন্ধুর প্রাণবন্ত আলাপ। পরে দু’জন ঘুমিয়ে পড়ে। রাত ২টায় আবুল ঘুম থেকে জেগে উঠলেও সাহস করতে না পারায় আবারও ঘুমিয়ে পড়ে। ভোররাত ৫টায় আবার জেগে ওঠে। তখন ঘুমে বিভোর সোহেল। প্রথমে আবুল হাতুড়ি দিয়ে সোহেলের মাথার বাম দিকে আঘাত করে। তখন জেগে উঠে নিজেকে বাঁচাতে চিৎকার দেয়ার চেষ্টা করে সে। এ সময় আবুল একটি গামছা সোহেলের মুখের ভেতর ঢুকিয়ে হাতুড়ির ধারালো অংশ দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে। এক সময় ঘটনাস্থলেই মারা যায় সে।

সোহেলের মৃত্যু নিশ্চিত করে কক্ষের সকল ব্যাগসহ পুরো কক্ষ তছনছ করে আবুল। কিন্তু কক্ষে কোন টাকা নেই। অথচ সোহেল বলেছিল তার কক্ষে সব সময় লাখ দুয়েক টাকা থাকে’। টাকা না পেয়ে সোহেলের দু’টি মোবাইল সেট নিয়ে সকাল ৯টায় কক্ষ থেকে বেরিয়ে যায় আবুল। পরে মামুন পরিবহনের একটি বাসে করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয়। পথে সুরমা নদীতে ফেলে যায় সেই হাতুড়িটি।

র‌্যাব জানায়, আবুল ঘটনার দিন সন্ধ্যায় ঢাকায় পৌঁছে ফকিরাপুলের হোটেল রওশনে রুম ভাড়া নেয়। সঙ্গে টাকা না থাকায় সোহেলের ব্যবহৃত একটি মোবাইল সেট ২৫০০ টাকায় বিক্রি করে। দু’দিন পর টাকা শেষ হয়ে গেলে নতুন করে ফন্দি আঁটে আবুল। সেদিন শুক্রবার ময়না তদন্ত শেষে সোহেলের লাশ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে। এমন সময় সোহেলের পিতার কাছে ফোন করে আবুল।

ফোনে আবুল বলে, চাচা আমার কাছে সোহেলের মার্ডার নিয়ে খবর আছে। তবে টাকা দিতে হবে। এলাকায় বখাটে হিসেবে পরিচিত আবুল এক যুগের প্রণয় শেষে নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা উপজেলার বাসিন্দা মাস্টার্স পাস করা এক যুবতীকে বিয়ে করে। বর্তমানে তার স্ত্রী সন্তানসম্ভবা। এজন্য টাকার তো প্রয়োজন। এই টাকার প্রয়োজন মেটাতেই সে একাই খুন করে বন্ধু সোহেলকে। পরে ঢাকার শান্তিনগর থেকে আবুলের বিক্রি করা মোবাইল সেট উদ্ধার করে র‌্যাব। আর এরই সূত্র ধরে গ্রেপ্তার করা হয় আবুলকে। এদিকে, গ্রেপ্তার করা আবুল হোসেনকে মঙ্গলবার রাতেই সিলেটের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close