Featuredস্বদেশ জুড়ে

ভাড়া করা কাবোর ফ্লাইট না আসায় হজ ফ্লাইটের শুরুতেই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

শীর্ষবিন্দু নিউজ: হজ্জ্ব যাত্রী বহন করতে বাংলাদেশ বিমানের ভাড়া করা বিতর্কিত কাবো এয়ারলাইন্সের বোয়িং ৭৪৭ উড়োজাহাজ না আসায় হজ ফ্লাইটের শুরুতেই বিমানের নিয়মিত ফ্লাইট শিডিউলেও দেখা দিয়েছ বিশৃঙ্খলা। ফলে ফ্লাইট শুরুর প্রথম দিন থেকেই  চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে হজযাত্রীদের। শুক্রবার বিমান সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, শনিবার দুপুর দেড়টায় সুবিশাল ৫৮২ আসনের বোয়িং ৭৪৭ উড়োজাহাজের মাধ্যমে হজ ফ্লাইটের নির্ধারিত শিডিউল ছিল। কিন্তু হজ কেলেঙ্কারির দায়ে অতীতেও অভিযুক্ত কাবো এয়ারলাইন্সের ভাড়া করা উড়োজাহাজটি বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত ঢাকায় পৌঁছায়নি।

কাবোর যত কেলেঙ্কারি মধ্যে ২০০৯ সালে কাবোর কাছ থেকে উড়োজাহাজ নেওয়ার পর জালিয়াতি করে চুক্তির টাকা নিয়ে যায় এয়ারলাইন্সটি। এ কারণেই কাবোকে কালো তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো বিমানের পরিচালনা পর্ষদ। পরবর্তীতে জামাল উদ্দিন আহমেদের কারণে ওই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা যায়নি। কাবোর পক্ষে অবস্থান নিয়ে তৎকালীন বিমানমন্ত্রী জিএম কাদেরের সঙ্গেও বাদানুবাদে জড়িয়ে ছিলেন তিনি। ২০১০ সালেও বিমানকে ত্রুটিপূর্ণ একটি উড়োজাহাজ গছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল কাবো। ওই সময় কাবোর পক্ষে নগ্নভাবে অবস্থান নিয়েছিলেন বিমান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির এক সদস্য ও বিমানের চেয়ারম্যান। পরবর্তীতে ২০১১ সালেও অন্য একটি প্রতিষ্ঠান থেকে উড়োজাহাজ আনার কথা বলে বিমানের সঙ্গে বড় ধরনের জালিয়াতি করে কাবো এয়ারলাইন্স।

জানা গেছে, কাবোর উড়োজাহাজ না আসায় পুরো বিমানের সিডিউল এলোমেলো হয়ে গেছে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী গন্তব্যে যেতে পারছেন না যাত্রীরা। দুর্ভোগে পড়ছেন যাত্রীরা। বিশেষ করে সবচেয়ে বেশি বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন বয়স্ক হজযাত্রীরা। তাদের অনেকেই নির্ধারিত ফ্লাইটসূচির দুই তিন দিন আগেই হজক্যাম্পে চলে এসেছেন। কিন্তু হজ ক্যাম্পে খাবার, থাকা-খাওয়ার পরিবেশ ভালো না হওয়ায় দিনের পর দিন অবস্থান করা তাদের অধিকাংশের জন্য কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চলতি বছর ৮৯ হাজার বাংলাদেশি পবিত্র হজ পালনের জন্য সৌদি আরব যাচ্ছেন। ৪৪ হাজার হজযাত্রী পরিবহন করবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। হজযাত্রী পরিবহন করতে বিমান বোয়িং ৭৪৭ ও বোয়িং ৭৬৭ উড়োজাহাজ ভাড়া করেছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, হজ মৌসুম আসলেই বিমানের চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন আহমেদ কাবোর উড়োজাহাজ ভাড়া নেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন। মূলত কমিশন বাণিজ্যের কারণেই জামাল উদ্দিন প্রতিবছর কাবোর উড়োজাহাজ ভাড়ায় আনতে তৎপরতা শুরু করেন।এবারও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। এছাড়া কাবোর উড়োজাহাজ ভাড়া নিতে বারবার দরপত্র বাতিলের ঘটনাও ঘটেছে। শেষ পর্যন্ত নানা কৌশলে কাবোর উড়োজাহাজ ভাড়া করে তবেই ক্ষান্ত হন জামাল উদ্দিন আহমেদ।

এদিকে কাবোর উড়োজাহাজ না আসায় লেজেগোবরে পরিস্থিতি সামাল দিতে বিমান তাদের নিয়মিত ফ্লাইটের ৪১৯ আসনের বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর দিয়ে হজ ফ্লাইট শুরু করছে শনিবার। ফলে বোয়িং ৭৭৭ দিয়ে ওইদিন রাত সাড়ে ১০টায় জেদ্দার নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে না। এমন অবস্থায় ৩১৪ আসনের ডিসি-১০ উড়োজাহাজ দিয়ে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করতে হচ্ছে। এতে করে বিমানের নিয়মিত ফ্লাইটের যাত্রীদের সবাই তাদের পূর্ব নির্ধারিত ফ্লাইটে জেদ্দা যেতে পারছেন না।

 

 

 

লেজেগোবরে অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে বিমানের মহাব্যবস্থাপক (পিআর) খান মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে বাংলনিউজকে জানান।

 

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close