Featuredস্বদেশ জুড়ে

নির্বাচনের সর্বাত্মক প্রস্তুতি শুরু আ.লীগের

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

শীর্ষবিন্দু নিউজ: দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি শুরু করেছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। এ লক্ষ্যে প্রার্থী বাছাই, নির্বাচনী প্রচার ও ইশতেহার লেখার কাজও শুরু করেছে দলটি। আওয়ামী লীগের একাধিক নীতিনির্ধারক পর্যায়ের নেতা প্রথম আলো ডটকমকে দলটির এই প্রস্তুতির বিষয়গুলো নিশ্চিত করেছেন।

সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের তিন মাসের মধ্যে অর্থাত্ আগামী ২৭ অক্টোবর থেকে ২৪ জানুয়ারির মধ্যে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই অন্তর্বর্তী সময়ে জাতীয় সংসদ বহাল থাকলেও অধিবেশন বসবে না। গতকাল সচিবদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর এমন ঘোষণার বিষয়ে দলটির কয়েকজন নীতিনির্ধারক প্রথম আলো ডটকমকে জানান, প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর আওয়ামী লীগ আজ থেকে নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু করেছে।

প্রার্থী বাছাই: দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী বাছাই করতে গোয়েন্দা, সাংগঠনিক সম্পাদক এবং জেলার আস্থাভাজন নেতাদের মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে প্রায় তিন হাজার প্রার্থীর তালিকা করেছে আওয়ামী লীগ। তবে চূড়ান্ত প্রার্থী বাছাইয়ে আগামীকাল থেকে জেলা ও জেলাধীন থানা, উপজেলা, প্রথম শ্রেণীর পৌর আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় শুরু করবেন দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা। এরপর দলীয় গঠনতন্ত্র অনুুযায়ী সংসদীয় বোর্ড প্রার্থিতার চূড়ান্ত মনোনয়ন দেবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ প্রথম আলো ডটকমকে বলেন, নির্বাচনের আগে প্রার্থী বাছাই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ ক্ষেত্রে তৃণমূলের মতামত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তাঁরা ওই নির্দিষ্ট এলাকার প্রকৃত অবস্থা জানেন।

সাংগঠনিক সফরে নির্বাচনী প্রচার: আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয় নিশ্চিত করতে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছেন দলটির নেতা-কর্মীরা। ইতিমধ্যে দলটির ১৫ টিম ফেনী, নওগাঁ, রংপুর এলাকায় সাংগঠনিক সফরের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছে। আজও বিভিন্ন জেলায় সফর করছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। তাঁদের এ প্রচার চলবে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। দলটির কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা জানান, সফরে কেন্দ্রীয় নেতারা দলের সাংগঠনিক অবস্থা, সরকার ও দলের জনপ্রিয়তা কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা, দলীয় কোন্দল নিরসন, বিদ্রোহী প্রার্থী ঠেকানোসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে কাজ করছেন।

এ ছাড়া জেলায় জেলায় জনসভার মাধ্যমে গত বিএনপি-জামায়াত জোটের শাসনামলের দুঃশাসন, দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরা হচ্ছে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরা হচ্ছে সফরগুলোতে। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতা, সাংসদ বা মন্ত্রীদের সঙ্গে তৃণমূলের নেতাদের মধ্যে নানা সময়ে তৈরি হওয়া দূরত্ব ঘুচিয়ে ফেলার চেষ্টাও হচ্ছে এই সফরে। সাংগঠনিক সফরে কয়েকটি জেলার সমন্বয়কের দায়িত্বে থাকা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী প্রথম আলো ডটকমকে বলেন, ‘বিভিন্ন জেলায় আমরা জনসভা ও কর্মিসভা করছি। সেখানে তৃণমূলের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। আশা করি, সব ভেদাভেদ ভুলে দেশবাসী আওয়ামী লীগকে আবার ক্ষমতায় আনবে।’

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের উপপ্রচার সম্পাদক অসীম কুমার উকিল প্রথম আলো ডটকমকে বলেন, ‘নির্বাচনে প্রচার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের সাফল্য ও বিরোধী দলের অপপ্রচারের জবাব দেওয়ার জন্য সমাবেশ, কর্মী বৈঠক ও তৃণমূলের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে দেশের সব জেলার ১৫ টিম কার্যকরভাবে সফর শুরু করেছে।’ এই টিমগুলোর সঙ্গে নির্বাচনী প্রচারে ৪০ টিম নিয়ে ৬ সেপ্টেম্বর মাঠে নামবে যুবলীগ। এ বিষয়ে যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক প্রথম আলো ডটকমকে বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করবে অপপ্রচার। আমাদের কাজ হচ্ছে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত জনগণকে বিরোধীদের অপতত্পরতার জবাব দেওয়া।

ইশতেহার লেখা শুরু: বিদ্যুৎ, জ্বালানি খাত ও দুর্নীতিপ্রতিরোধকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে লেখা শুরু হয়েছে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার। এ ছাড়া সুশাসন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং প্রযুক্তি খাতকে এবারের ইশতেহারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে এখনো পর্যন্ত নির্বাচনী স্লোগান চূড়ান্ত করেনি দলটি। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, অর্থ উপদেষ্টা মশিউর রহমান, অর্থনীতিবিদ আবুল বারাকাত, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নূহ-উল আলম লেনিনসহ একটি বিশেষজ্ঞ দল এই ইশতেহার লেখার কাজ করছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নূহ-উল আলম লেনিন প্রথম আলো ডটকমকে বলেন, ‘ইশতেহার লেখার কাজ শুরু হয়ে গেছে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্ব পাবে দুর্নীতিপ্রতিরোধ। কারণ দুর্নীতি দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে।’ তিনি জানান, গতবারের মতো এবারও তথ্যপ্রযুক্তি খাত উন্নয়ন করার প্রতিশ্রুতি ইশতেহারে থাকবে।  এ ছাড়া ২০০৮-এর মতো এবারও ২০২১ সালকে লক্ষ্য করেই উন্নয়ন পরিকল্পনা স্থির করা হবে। প্রতিটি ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে নির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। দলের একজন নীতিনির্ধারক জানান, আওয়ামী লীগের নির্বাচনী স্লোগান এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে প্রধানমন্ত্রী যেহেতু নির্বাচনের সময় নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। সুতরাং অচিরেই নির্বাচনী স্লোগান নির্দিষ্ট করা হবে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close