Featuredবিনোদন

ক্যাটরিনার জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত রণবীর

বিনোদন ডেস্ক: বলিউড অভিনেতা রণবীর কাপুর তাকে নিয়ে ছড়ানো সাম্প্রতিক নানান খবর আর গুজব নিয়ে মুখ খুললেন অবশেষে। কথা বললেন ক্যাটরিনা এবং দীপিকার সাথে সম্পর্ক আর ভবিষ্যত নিয়েও। টাইমস অব ইন্ডিয়া অবলম্বনে সাক্ষাৎকারটি অনুবাদ করেছেন সিয়াম আনোয়ার।

সম্প্রতি আপনার এবং ক্যাটরিনার স্পেনে হলিডে’র ছবি প্রকাশ পেয়েছে। আপনাদের মধ্যে কি কোন সম্পর্ক আছে?
এই মুহুর্তে আমি আমার জীবন নিয়েই আছি।  আমার পরিবার, ভালোবাসা, বন্ধুত্ব, আমার সিনেমা এবং যা কিছু আমাকে সুখী করে তা নিয়ে গঠিত ছাতাটি আমি খুলছি। গত কয়েক মাস ধরে আমার ‘সম্পর্ক’ নিয়ে অনেক কথা-ই হচ্ছে। কিন্তু রিয়েলিটি শো’র আগে আমি আমার ব্যক্তিগত জীবন নিয়েই ভাবি। নিজেকে যতটা পারি রক্ষা করে চলি। এটা শুধু একজনের ব্যপার নায়, দুইজন মানুষ জড়িত এখানে। আমি ছাড়া অন্যজন একটা মেয়ে। এবং আমার চেয়ে তার বেশি হারানোর আছে। আমার মনে হয়, সবকিছু নিয়ে বলার এটাই সঠিক সময়। কিন্তু ঠিক এখন, আমি আমার জীবন নিয়ে বেশ ঝামেলায় আছি। আমার পেশাগত এবং ব্যক্তিগত দুদিক থেকেই। আমি এদিকে খুব বেশি আলো ফেলতে চাই না। সৌভাগ্যজনকভাবে, গত দেড় মাস যাবত আমি শ্রীলংকায় শুটিংয়ে ছিলাম। যখন এত কিছু হচ্ছিল, তখন আমি আমি আমার কাজে ডুবে ছিলাম। katrina-kaif-01

বর্তমান সময়ে পাপারাজ্জিরা শুধু ফটোগ্রাফারই না। সবার হাতেই ক্যামেরা ওয়ালা মোবাইল ফোন আছে। যদি তারা একজন অভিনেতাকে দেখে, তখন তারা বন্ধুদেরকে দেখানোর জন্য অথবা ফোনে রাখার জন্য ছবি তুলে। একজন অভিনেতা হিসেবে এতে ভুল কিছু আমি দেখি না। কিন্তু বলতে হচ্ছে, এখানে সীমা অতিক্রম করা হয়েছে। এখানে ঠিক-ভুলের কিছু নেই। একজন ব্যক্তি হিসেবে বিষয়টি ভাবলে আপনারও খারাপ লাগবে। এটা আরো খারাপ, যখন আপনি একজন অভিনেতা। আপনি যেটি ঘটাতে চান না কিন্তু ঘটে যায়। সেটিতে আসলে সত্যিকারভাবেই কিছু করা সম্ভব হয় না। আপনার সিনেমায় আপনি কেমন আর একজন ব্যক্তি হিসেবে কেমন এটাই হচ্ছে আসল।

আপনার বাবা বলেছেন তার কোন আলাদা চাপ নেই। যাকে আপনি বিয়ে করতে চান। আপনাকে শুধু সুখী দেখতে চান। বিয়ের কোন পরিকল্পনা?
অনেকগুলো তত্ত্ব আছে এমন যে আমার বাবা মা আমার উপর অনধিকার চর্চা করেন। আমার বাবা মা জীবনে অনেক পরিশ্রম করেছেন। তারা এমন এক অবস্থানে দাঁড়িয়ে যেখানে তারা শুধু সম্মান দাবি করেন না; তারা নির্দেশ করেন। তারা অমুক মেয়েকে পছন্দ করেন অমুককে করেন না এমনও প্রচুর কথা লেখা হয়েছে। কিন্ত সত্যি কথা হচ্ছে তারা কখনোই আমাকে কোন মেয়ের ব্যপারে কিছু বলেননি। তারা সুখী যদি আমি সুখী থাকি। তারা কখনো কারো সম্পর্কেই কোন কঠোর মন্তব্য করেননি। আমার সাথে খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তাদের। কখনো কোন সমস্যা হলে তাদের সাথে আমি সরাসরি-ই কথা বলি। আর বিয়ে একটা স্বাভাবিক ব্যাপার। আমার বয়স চলছে ৩১।

আমি বিশ্বাস করি একটি শিশুর জন্য বাবা মা দুজনই দরকার। সুতরাং আমি তখনই বিয়ে করব যখন সন্তান নিতে পারব। আমি অবশ্যই বিয়ে করতে চাই তবে এখনই নয়। একটা পত্রিকা লিখেছে আমার জন্মদিনে নাকি বাগদান করেছি। অথচ এ বিষয়ে আমি কোন কথা-ই বলিনি। এ ব্যপারে কিছু কথা বলার আছে। প্রথমত জন্মদিনকে আমি সিরিয়াসলি নিই না। দ্বিতীয়ত আমি যখন বিয়ে করব সেটি হবে আমার জন্য বিশেষ একটা মুহুর্ত। আমি চাই প্রপোজ করার সময় মেয়েটি বিশেষভাবে সারপ্রাইজড হোক, যাতে তার জীবনে এটা বড় এক স্মরণীয় ঘটনা হয়ে থাকে। যেটি জন্মদিনের সময়ে করলে থাকে না। আমি চাইব পত্রিকাটি যেন তার সারপ্রাইজ হওয়াটাকে নষ্ট না করে। আমি যখন প্রপোজ করব তখন সত্যিকারভাবেই যেন সারপ্রাইজড হয়।
katrina-kaif-02

সম্পর্কে জড়িয়ে বা মেয়েদের সাথে ডেটিং করে তাদের মধ্যে স্ত্রী হওয়ার কোন গুণগুলো খোঁজেন আপনি?
বয়স এবং অভিজ্ঞতায় আমি বুঝি যে একটা মেয়েকে মেয়ে হিসেবেই দেখি। তাকে আমার সম্মান করতে হবে যাতে সে আমার জীবনে আমার চেয়েও অনেক বেশি ভালোভাবে যুক্ত হবে। প্রত্যেক মানুষই আলাদা। আর আপনাকে অপরের সাথে মানিয়ে চলতে হবে। আমি কোন উগ্র চিন্তার পুরুষ নই। আমি চাই আমার স্ত্রী তার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে চলবে। তার জন্য আমি সবই করতে চাই। মেয়েদের জন্য শুধু গৃহকর্ত্রী আর পুরুষদের ব্যক্তিত্ব ধারণ করার দিন শেষ হয়ে গেছে।

আপনার পিতাকে মনে করা হয় ডমিনেটিং ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। আপনি কি তাকে পছন্দ করেন?
আমি আমার বাবার সম্পূর্ণ বিপরীত। আমি ভিন্ন একটা প্রজন্মে বেড়ে উঠেছি। বিভিন্ন সংস্কৃতিতে মিশে আমি দেখেছি কোন গুলো সমাজ করবে আর কেনগুলো করবে না। দুনিয়ার সবচেয়ে বড় রোগ হচ্ছে ‘লোকে কী বলবে?’ আমরা ভয়ে থাকি লোকে কী না কী বলবে। তাই আমরা নির্দিষ্ট একটা পথে আচরণ করে থাকি। একে অপরের সাথে ভাগাভাগির দৃষ্টিভঙ্গি আপনার জীবনকে সুখী করতে পারে।

বাবা-মা দুজনের সাথে প্রথম বারের মত অভিনয় করতে যাচ্ছেন। কাকে দেখে আপনি অভিনেতা হওয়ার ইচ্ছে নিয়ে বড় হয়েছেন? (বলিউড অভিনেতা-অভিনেত্রী ঋষি কাপুর এবং নীতু সিং রণবীরের বাবা-মা)M1
অবশ্যই আমার বাবা। আমি ছিলাম মা ভক্ত। তাকে কোন হিরোর সাথে রোমান্স করা দেখতে আমি পছন্দ করতাম না। বাবাকেই দেখতাম। তার অভিনয় অনেক ভাল। যখন তিনি আপনার সাথে অভিনয় করবেন তখন আপনার মনেই হবে না তিনি অভিনয় করছেন। একদম সাধারণ এবং স্বাভাবিক অভিনয়। কিন্তু যখন পর্দায় দেখবেন, তখন ভিন্ন ব্যাপার। তার অভিজ্ঞতা, তার স্বতস্ফুর্ততা অনায়াসেই চলে আসে।

বাবার কাছ থেকে কোন কৌশল শিখেছেন?
রকস্টার মুভি করার আগে তিনি আমাকে বলেছিলেন, ‘রণবীর, তোমার নিজের মতো করেই কাজ কর’। এর আগে আমি আমার মুখটাকে ঘুরিয়ে রাখতাম। আমি সচেতন থাকতাম যে আমার সামনের অভিনেত্রী আমাকে বিচার করবে। কিন্তু নিজের হৃদয় উজাড় করে কিছু করাটাই গুরুত্বপূর্ণ।  ভারতীয় সিনেমায় গান খুব গুরুত্বপূর্ণ যেটা আপনাকে উপভোগ করতে হবে এবং নিজের মতো করেই। আপনি দেব আনন্দ, শাহরুখ বা সালমান খানের স্টাইল ফলো করতে পারেন না। আমার বাবার ছিল গান গাওয়ার স্বাভাবিক স্টাইল। আমিও চেষ্টা করি। আর এখনতো উচু গলায় গাই। আমার অভিনেত্রীরা এখনো আমাকে বিচার করে এবং মুখে প্রতিক্রিয়া দেখায় কারণ আমার উচু গলা বেশ খারাপ। তাদেরকে এটা সহ্য করতে হয়।

আপনার বাবা এবং অয়ন দুজনই বলেছেন ছবি রিলিজের পর আপনি ডিটাচড হয়ে যান। এটা কি সত্যি?
এমন না যে আমি আবেগী নই। কিন্তু আমি খুবই ভেঙ্গে পড়া থেকে আমি নিরাপদ দূরত্বে থাকি। তাই আমি আমাকে জীবন থেকে সম্পর্কহীন করে রাখি। বিশেষভাবে যখন চলচ্চিত্র জড়িত। আমার বড় লক্ষ্য আছে। যদি সেটিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হই, অথবা সফলতা খুব তাড়াতাড়ি এসে ধরা দেয় তবে এটি আমাকে পতনের দিকেই নিয়ে যাবে। আমার জীবনে অল্প কজন মানুষের সাথে আমি সম্পর্ক যুক্ত। আর তাদের জন্যই আমি আমার জীবনটা দিতে পারি। সত্যিকারভাবে আমি বিশ্বাস করি স্রষ্টা আমাদের কিছু ব্রেইন কোষ দিয়েছেন, যেগুলোকে সঠিকভাবে পরিচালিত করলে আমরা সুখী হব।
katrina-kaif-04কার জন্য আপনি জীবন দিতে পারবেন?
আমার পরিবার, অয়ন এবং ক্যাটরিনা, কারণ সে আমার জীবনে খুব বিশেষ একজন। রোহিত ধাওয়ান, যার সাথে আমি বেড়ে উঠেছি; আমার স্কুল বন্ধু আইশা দিবেত্রী। এছাড়া ইমতিয়াজ আলী ও অনুরাগ বসু যারা আমার জীবনে অনেক কিছু বয়ে এনেছে।

বর্তমানে আপনাকে দেখা হয় সালমান, শাহরুখ আর আমিরের কাতারের সুপারস্টার হিসেবে। কেমন লাগে আপনার?
আপনি ভালো একটা প্রশ্ন করেছেন। কিন্তু এটা বিশ্বাস করা খুবই কঠিন যে আমাকে তাদের মত বড় তারকাদের সাথে তুলনা করা হচ্ছে। আমি আমার ছবিতে একই রকমভাবেই কাজ করি। যেমনটি সেই শুরুর দিকে সাওয়ারিয়া’তে ছিল। ইয়ে জওয়ানী হ্যায় দিওয়ানী জনপ্রিয় হওয়ার অনেকগুলো কারণ ছিল। গান, আমার আর দীপিকার জুটি, ছবির সময়, ধরণ এবং ভালো পরিকল্পনায় নির্মাণ। যখন আমি একটা খারাপ ছবির অংশ হব, আমার তারকা শক্তি যেটিকে এগিয়ে নিতে পারবেনা তখন মনে হবে আমি সুপারস্টার নই। আমি এভাবে ভাবি যে একজন সুপারস্টারও একটা খারাপ চলচ্চিত্রের অংশ হতে পারে। আমার কাছে একজন তারকা কখনোই সিনেমার উপরে নয়। যখন সবকিছু ভালোভাবে হয় তখন সিনেমাও ভালো করে। এবং তারকা ভ্যালূ বাড়ে ব্যক্তি হিসেবে। আমি বিশ্বাস করি সত্যিকারের সুপারস্টার হচ্ছে অমিতাভ বচ্চন, শাহরুখ খান, সালমান খান এবং আমির খান।

আপনার বড় লক্ষ্য কী?
এটা অনেক বড়। একজন ভালো অভিনেতা, বড় তারকা হওয়ার জন্য আমি ক্ষুধার্ত। একেকটা ছবি মুক্তির সাথে সাথে আমার ক্ষুধা বাড়ে। আমি সিনেমা প্রযোজনা এবং পরিচালনা করতে চাই। ৩০ বছর বয়সে আমি প্রযোজনা করেছি। ৩৫ বছর বয়সে আমি পরিচালনায় করতে চাই। এ সবই অর্জন করতে চাই। যাতে ৮০ বছর বয়সে আমার স্ত্রীর জন্য একটা আঙ্গুর ক্ষেত কিনতে পারি। আমি যেকোন জায়গা থেকে আপনাকে যেন বলতে পারি, হ্যাঁ, এখন আমি নিজেকে সুপারস্টার মনে করছি।

আপনার কী মনে হয় আজকে যদি আমার সফলতা দাদা দেখে যেতে পারতেন?
আমার যখন ছয় বছর, তখন তিনি মারা যান। একজন দাদার চেয়ে রাজকাপুরের সাথেই আমার পরিচয় বেশি। তার সিনেমাগুলো আমাকে অনুপ্রাণিত করে এবং শেখায়। তার নাতি হিসেবে আমি গর্বিত। কিন্তু তিনি জনগণের সম্পদ। তিনি আমার যতটা না তার চেয়ে সবার। তিনি আমার আইডল। আমার স্বর্ণালী লক্ষ্য তিনি। তার মতো সত্যিই যদি কিছু অর্জন করতে পারতাম!

‌‌‌বেশরম চলচ্চিত্রের ট্রেলার-এ দেখা গেল আপনি শাহরুখ খান এবং সালমান খানকে নিয়ে মজা করছেন?
katrina-kaif-03আমি বড় হয়েছি এই দুই আইকনের ছবি দেখে। ছবিটিতে একটা দৃশ্য ছিল, আমি মাঠের মধ্যে প্রস্রাব করছি। পরিচালককে জিজ্ঞেস করলাম, আমি কি ডিডিএলটি গানটি গাইতে পারি যাতে কমিক একটা দৃশ্য দাঁড়াবে। এটা করে আমরা কাউকে আঘাত দিতে চাইনি। আমি শাহরুখ খানের ভক্তদের কাছে ক্ষমা চাইছি। শাহরুখ খান একজন বিশাল মাপের সেন্স অব হিউমার ওয়ালা মানুষ। আমি নিশ্চিত তিনি মাইন্ড করবেন না। তবু দেখা হলে তার কাছে মাফ চেয়ে নেব যদি তিনি কিছু মনে করেন। আর ছবিটাতে আমার বাবার নাম চুলবুল চৌতালা। যখন আমি বলি যে ‘চুলবুল নাম রাখলেই কেউ সাহসী হয়ে যায় না’। এতে উপহাস বোঝায় না। এর মাধ্যমে আমরা কাউকে উপহাস করতে চাইওনি। আমি কারো স্থান নিতে চাই না।

দীপিকাকে জড়িয়ে আপনাকে নিয়ে এখন আর তেমন খবর দেখা যায় না?
দীপিকা আর আমি সৌভাগ্যক্রমে একটি ভালো ছবি করতে পেরেছি। আমরা অতীতে একসময় সম্পর্কের মধ্যে ছিলাম। কিন্তু মানুষের পক্ষে এখন বোঝা কঠিন কত সুন্দরভাবে আমরা নিজেদের মধ্যে ফিরে গেছি। সে ভালো করছে। আমি তার কৃতিত্বের জন্য গর্বিত বোধ করি। কিন্তু ইয়ে জওয়ানি হ্যায় দিওয়ানীর পর তার সাথে আমার কোন সংযোগ নেই। আশা করি মানুষজন এখন আমাদের মধ্যকার পার্থক্যটা বুঝবে। আমরা কাজ করি পেশাদারিত্বের দিক দিয়ে। আমাদের জীবনে কোন কিছুই এক রকম নয়। আমি ইমতিয়াজ আলীর চলচ্চিত্রে অভিনয় করছি নায়িকা বাছাই ছাড়াই। যদি তিনি পাঁচ বছর বয়সী ছেলেকেও আমার বিপরীতে নেন, আমি তা-ই করব।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close