Featuredঅন্য পত্রিকা থেকে

ইলেকশন, নো ইলেকশন, ওয়ান পার্টি ইলেকশন

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

সাজেদুল হক: কোথাও আলো নেই। টেলিফোন অথবা চিঠি কোন কিছুতেই বদলাচ্ছে না পরিস্থিতি। বরফ গলার কোন লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না। রুদ্ধশ্বাসে মানুষ অপেক্ষা করছে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের জন্য। কেউই আসলে জানেন না কি হবে?

যে কারণে সর্বত্র প্রশ্ন এটাই। তবে বাংলাদেশের রাজনীতি আপাত ঘুরছে তিনটি সম্ভাবনাকে ঘিরে। প্রথমত, ইলেকশন; দ্বিতীয়ত, ওয়ান পার্টি ইলেকশন এবং তৃতীয়ত, নো ইলেকশন।

যদিও এটা নিশ্চিত করেই বলা যায়, দৃশ্যপট শিগগিরই পরিষ্কার হতে শুরু করবে। আপাত মনে হচ্ছে ওয়ান পার্টি ইলেকশনের দিকেই এগোচ্ছে দেশ। তবে পর্দার অন্তরালে সমঝোতার চেষ্টাও চলছে। জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন কথা বলার পর রোববার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি দুই নেত্রীর কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন। নিজের উদ্বেগ প্রকাশ করে দুই নেত্রীকে সংলাপে বসার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

ঢাকার কূটনীতিকপাড়াও সরব। তবে এখন পর্যন্ত সংলাপের কোন আভাস পাওয়া যাচ্ছে না। বিরোধী নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বারবার সংলাপ আর সমঝোতার আহ্বান জানালেও সরকার অনঢ় অবস্থা নিয়েছে। বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্কটের কারণেই দুই দলের সমঝোতার প্রচেষ্টা এগোচ্ছে না।

একটি সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার একটি দূতাবাসকে এ ব্যাপারে মধ্যস্থতা করতে বলা হলেও ওই দূতবাস এতে সাড়া দেয়নি। একটি আলোচিত মামলা আর প্রতিহিংসা, প্রতিশোধের রাজনীতির ধারাবাহিকতাই সমঝোতা প্রচেষ্টায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যদিও নরসিংদীর সর্বশেষ সমাবেশে বিরোধী নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, প্রতিশোধ আর প্রতিহিংসার রাজনীতি করবেন না। তবে দুই জোট নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে যদি কখনও সমঝোতায় পৌঁছতেও পারে তবুও জট পুরো কাটবে না। পঞ্চদশ সংশোধনীতে সৃষ্ট সাংবিধানিক জটিলতা দূর করতে এর পরও অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে।

নানা সূত্রে জানা গেছে, ক্ষমতাসীন মহলের একটি অংশ ওয়ান পার্টি ইলেকশনের পক্ষে রয়েছে। ওই অংশ বিশ্বাস করে সরকারের বিরুদ্ধে কোন ধরনের কার্যকর আন্দোলন গড়ে তোলার ক্ষমতা বিএনপির নেই। এ ক্ষেত্রে রাজপথের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে জামায়াতকে বিবেচনা করে সরকারের ওই অংশ। এ কারণে জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ হওয়া সময়ের ব্যাপার বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ হওয়ার পর জামায়াত ও বিএনপির ওপর সর্বাত্মক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সরকারের ওই অংশের ধারণা, বিএনপি নির্বাচনে না এলেও জাতীয় পার্টি নির্বাচনে আসবে। আরও কিছু দল নির্বাচনে অংশ নেবে বলেও তাদের ধারণা। জামায়াতের সঙ্গে সরকারের একটি মহল নির্বাচনে অংশ নেয়া নিয়ে আলোচনা শুরু করলেও তা বেশি দূর এগোয়নি। সে আলোচনা এরই মধ্যে ভেস্তে গেছে। পানি এত দূর গড়ানোর পর আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোন ধরনের সমঝোতার পক্ষে নয় জামায়াতের তরুণ নেতৃত্ব।

অন্যদিকে, আওয়ামী লীগও মনে করে জামায়াতের সঙ্গে অন্দর মহলে কোন ধরনের সমঝোতাও তরুণ প্রজন্ম ভালভাবে নেবে না। কাদের মোল্লার রায়ের পর তরুণ প্রজন্মের প্রতিক্রিয়াও স্মরণ রাখছে দলটি। তবে ওয়ান পার্টি ইলেকশনের পথে আপাতত বড় বাধা হিসেবে দেখা দিয়েছে আন্তর্জাতিক মহল। জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক মহল থেকে একটি বিষয়ে পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেয়া হয়েছে, সব দলের অংশগ্রহণে বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন দেখতে চায় আন্তর্জাতিক বিশ্ব। এমনকি ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূতও দুই নেত্রীকে সংলাপে বসার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। রাজনৈতিক ইস্যুতে চীনা রাষ্ট্রদূতের মুখ খোলার ঘটনা এটাই প্রথম।

মূলত একদলীয় নির্বাচনে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিঘিত আশঙ্কাতেই দেশ-বিদেশে এ উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। ৫ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পর যে কোন নির্বাচনে জয়ী হওয়ার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী বিএনপি। এ কারণে দলের একটি অংশ যে কোন পরিস্থিতিতে নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষে। তা ছাড়া, এখনই শক্তির অপচয় করতে চাইছে না দলটি। অপেক্ষা আর কূটনীতিক প্রচেষ্টার নীতিই অবলম্বন করছে বিএনপি। শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করবে দলটি। সরকার কিছুটা ছাড় দিলেই দলটির নির্বাচনে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। সে ক্ষেত্রে নির্বাচন হবে সব দলের অংশগ্রহণে।

জামায়াত নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে অংশ নিতে না পারলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সে ক্ষেত্রে দলটির নেতারা নির্বাচনে অংশ নেবেন। নির্বাচনের প্রস্তুতি এরই মধ্যে শুরু করেছে আত্মগোপনে থাকা দলটি। ইলেকশন অথবা ওয়ান পার্টি ইলেকশনের বাইরে তৃতীয় একটি বিকল্প নিয়েও আলোচনা রয়েছে। নো ইলেকশনও বাংলাদেশে নতুন কিছু নয়। ২০০৭ সালের ২২শে জানুয়ারিতে নির্ধারিত নবম সংসদ নির্বাচনও কিন্তু সেই সময় অনুষ্ঠিত হয়নি। এর আগেই বঙ্গভবনে এক দল অতিথি প্রেসিডেন্ট ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদকে বাধ্য করেছিলেন নির্বাচন স্থগিত করতে। এ কারণে নো ইলেকশনের আশঙ্কাও বাতিল করছেন না পর্যবেক্ষকরা। সঙ্কটের সমাধানে সবাই চাইছেন সংলাপ। তবে সংলাপের চেয়েও জরুরি সমঝোতা, যা পর্দার আড়ালেও সম্ভব।

 

সৌজন্য: মানবজমিন

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close