Featuredঅন্য পত্রিকা থেকে

জয়ের চমক অভিযান

 

 

 

 

 

 

 

 

 

তিন দিনের মধ্যে চমক দেখতে পাবেন। বৃহস্পতিবার এমন তথ্য জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। তবে চমকের বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। ইঙ্গিত দিয়েছিলেন নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচার-প্রচারণার বিষয়টি। আগামীকাল থেকে নির্বাচনী প্রচারণায় নামছেন তিনি।

রাজনীতিতে অভিষেক হওয়া জয় এর আগে রংপুরে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য রাখেন। অংশ নেন যুবলীগের একটি আলোচনা সভায়। বিভিন্ন সেমিনার ও আলোচনা সভায়ও অংশ নেন। তবে তৃণমূল পর্যায়ে যাওয়ার কর্মসূচিকে চমক বলেই ভাবছেন দলের নেতাকর্মীরা। দলকে চাঙ্গা করা, তৃণমূলে ঐক্যের বার্তা পৌঁছে দেয়া এবং ভোটের আগে নির্বাচনী প্রচার কৌশল বাতলে দেয়াই জয়ের এই চমক অভিযানের লক্ষ্য বলে মনে করছেন নেতাকর্মীরা।

দলীয় সূত্র জানিয়েছে, প্রথম তৃণমূলমুখী এ সফরে জয় একাই পথসভায় বক্তব্য দেবেন। নিজের চিন্তা ও ভাবনাগুলো তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছে পৌঁছে দেবেন। দলীয় সূত্র জানায়, নির্বাচনকে সামনে রেখে জয় ইতিমধ্যে একটি প্রচারণা কৌশল তৈরি করেছেন। এতে তরুণদের সম্পৃক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। আওয়ামী লীগের প্রচার কৌশলের অংশ হিসেবে মসজিদের ইমাম ও ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করারও লক্ষ্য রয়েছে। ইতিমধ্যে বিরোধী দল বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, হেফাজতে ইসলাম, ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিষয়ে একটি বুকলেট তৈরি করে মসজিদে মসজিদে বিলি করা হচ্ছে একটি সংগঠনের নামে। এই বুকলেটের কয়েক লাখ কপি ছাপানো হয়েছে বলে ইসলামী ফাউন্ডেশন সূত্র জানিয়েছে।

আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানায়, নির্বাচনী প্রচারণায় প্রধানমন্ত্রী পুত্র জয় অংশ নিয়ে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন চিত্র ডিজিটাল মাধ্যমে প্রচার করবেন। অনলাইনে এই প্রচারণা চলবে সমানতালে। এজন্য প্রত্যেক সংসদ সদস্য প্রার্থীদের জন্য আলাদা প্রচারণা গ্রুপ করা হবে বলে সূত্র জানিয়েছে। আর ডিজিটাল এই প্রচারণায় সমন্বয় ও নেতৃত্ব দেবেন ক্লিন ইমেজের তথ্যপ্রযুক্তিবিদ জয়।

জয় প্রথম তৃণমূল সফরে ময়মনসিংহে যাচ্ছেন। এ উপলক্ষে জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ময়মনসিংহ শহরে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়েছে। রোববার দুপুরে গাজীপুর চৌরাস্তায় পথসভা শেষে ময়মনসিংহের উদ্দেশে রওনা হবেন তিনি। ময়মনসিংহ সার্কিট হাউজে দুপুরের খাবার শেষে ওইদিন বেলা সাড়ে ৩টায় মুক্তাগাছা আরকে উচ্চ বিদ্যালয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক কর্মীসভায় যোগ দেবেন। এরপর বিকাল সাড়ে ৪টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে জেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে এক কর্মী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন।

এ সময় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ জয়ের সঙ্গে থাকবেন। সজীব ওয়াজেদ জয় ময়মনসিংহে সার্কিট হাউজে রাত যাপন শেষে ১৬ই সেপ্টেম্বর মধুপুর ও টাঙ্গাইলে কর্মীসভায় অংশ নেবেন। ফেরার পথে গাজীপুরে সভা করবেন। ‘অসমাপ্ত বিপ্লব’ শেষ করার সুযোগ দিন : জয় এদিকে গতকাল এক সেমিনারে অংশ নিয়ে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, অসমাপ্ত বিপ্লব সমাপ্ত করার জন্য আওয়ামী লীগকে আবার সুযোগ দিতে হবে। নতুন ও আধুনিক একটি বাংলাদেশের জন্য উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে।

আগামী নির্বাচন সামনে মারাত্মক সময় উল্লেখ করে জনগণের উদ্দেশে জয় বলেন, আপনাদের দেখতে হবে কি সুযোগ এবং কি ভয় সামনে আছে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ভেবে দেখুন আমরা কোথায় ছিলাম, আর এখন কোথায় আছি। বাংলাদেশের এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই নির্বাচন ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। এই নির্বাচনের ওপরই নির্ভর করবে দেশের ভবিষ্যৎ কি হবে।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সুচিন্তা ফাউন্ডেশন নামের একটি সংগঠন ‘রূপকল্প ২০২১, গত ৫ বছরের অর্জন, আগামী ৫ বছরের অঙ্গীকার’ শীর্ষক অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে। এতে মুখ্য বক্তা ছিলেন জয়। বক্তব্য শেষে তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি। ওই অনুষ্ঠানে অর্থনীতিবিদ আবুল বারকাত, জাতীয় দলের ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান, ব্যান্ডশিল্পী মাকসুদুল হক বক্তব্য রাখেন।

জয় তার বক্তব্যে বলেন, বিগত জাতীয় নির্বাচনে দেশের জনগণ যে আশা নিয়ে আওয়ামী লীগকে ম্যান্ডেট দিয়েছিল, তাতে আমরা ব্যর্থ হইনি। পাঁচ বছরে আমরা যে উন্নয়ন করেছি বিগত কোন সময়ে এতো উন্নয়ন হয়নি। দুর্নীতি অর্ধেকে নেমে এসেছে। দুই দলের মধ্যে পার্থক্য করে দেখে একটি দল বেছে নিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা বিচার করুন, দুই দলই দুইবার ক্ষমতায় এসেছে। কোন দল দেশকে কি দিয়েছে। কারা দেশকে এগিয়ে নিয়ে গেছে। কারা পিছিয়েছে। আওয়ামী লীগ যদি ভাল করে তাহলে আবারও ভোট দিন সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখুন।

বিএনপির সমালোচনা করে জয় বলেন, বিএনপির সময়ে আমরা ছিলাম ‘ফেইলর স্টেট’। আর এখন বলা হয়, বাংলাদেশ হচ্ছে ‘নেক্সট ইলেভেন’, রাইজিং স্টার। আর এটা হয়েছে মাত্র পাঁচ বছরে। আমাদের বিরুদ্ধে বিরোধী দলের অনেক সমালোচনা রয়েছে। কিন্তু তারা কখনও বলে না ভবিষ্যতে কি করবে? তারা ভবিষ্যতের কোন পরিকল্পনা দেয় না। তারা বলে না, অর্থনীতি, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসের জন্য কি করবে? কারণ দুর্নীতিবাজ ও সন্ত্রাসীরা তাদের সঙ্গেই আছে। তারা রাজাকারদের নিয়ে রাজনীতি করছে। তারা কিভাবে বলবে যে জঙ্গিবাদ দমন করবে? তিনি বলেন, আমাদের বিরোধী দলের পরিবর্তন হয়নি। তাদের চেহারা এক, নেতৃত্ব এক, পলিসিও একই রয়ে গেছে।

তিনি বলেন, আওয়ামী  লীগ না এলে যে পরিমাণ উন্নয়ন হয়েছে তা আবার শেষ হয়ে যাবে। এই যে আজকের বিদ্যুৎ তা দুই বছরে শেষ হয়ে যাবে। সন্ত্রাসীরা লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। বিএনপি এলেই আবার তারা চলে আসবে। এজন্য দেশের মানুষকে সচেতন হতে হবে। বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে এসে ‘রূপকল্প ২০২১’ নিয়ে কথা বলেন জয়। তিনি বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে আওয়ামী লীগ দেশকে মধ্যআয়ের দেশে পরিণত করতে চায়। গত ৫ বছরে দেশের মাথাপিছু আয় দ্বিগুণ হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে আরও দ্বিগুণ করা হবে। একমাত্র আওয়ামী লীগ সরকারই এটা পারবে। জয় আরও বলেন, আমাদের জিডিপি বাড়াতে হবে। গত পাঁচ বছরে জিডিপি ৬.৫ শতাংশ হয়েছে। এটা আগামী পাঁচ বছরে বেড়ে হবে ১০ শতাংশ।

জয় বলেন, থ্রিজি আনা আমাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল। ক্ষমতায় আসলে ফোরজি আনা হবে। তিনি বলেন, পাঁচ বছর আগে দেশের মানুষ প্রশ্ন করতো, ডিজিটাল বাংলাদেশ কি? অনেকে এটা নিয়ে টিটকারি মারতো। কিন্তু আজ আর কেউ প্রশ্ন করে না ডিজিটাল কি? তখন অনেক বলেছে, গ্রামের মানুষে তো আর কম্পিউটার কিনবে না। তারা ডিজিটাল দিয়ে করবে। আমি বলেছিলাম, তাদের কম্পিউটার কিনতে হবে না। আমরা তাদের কাছে কম্পিউটার পৌঁছে দেবো।

প্রধানমন্ত্রী পুত্র বলেন, আমাদের ১৬ বছর সময় লেগেছিল স্বৈরাচারদের হাত থেকে মুক্ত হতে। গণতন্ত্র ফিরে পেতে। আমাদের আন্দোলন করতে হয়েছে। একটি রাজনৈতিক দল সেই গণতন্ত্রকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল। তাদের জন্যে ২০০৭ সালে আবার স্বৈরাচারী শক্তি ক্ষমতায় আসার সুযোগ পায়। কিন্তু তখন দেশের তরুণ প্রজন্ম জেগে উঠেছিল তাই তারা আর ১৬ বছর ক্ষমতা দখল করে থাকতে পারেনি। দুই বছরেই ক্ষমতায় ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, গণতন্ত্রে ফেরার পরও কেন আমরা এগোতে পারলাম না। কারণ তারা দুইবার ক্ষমতায় ছিলেন। তারা দেশকে এগিয়ে নেয়ার চিন্তা করেননি। তারা চিন্তা করেছেন ক্ষমতায় থাকার। জোর করে ভোট চুরি করে ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করেছে। তারা বাংলাদেশের ভাল চায় না। মৌলবাদী এবং সন্ত্রাসীরা তাদের সঙ্গে। ২০০৬ সালে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় বাংলাদেশকে একটি ফেইলিং স্টেট বলা হতো। সারাদেশে আদালতের ওপর হামলা হয়েছে। বাংলাদেশ আরেকটা পাকিস্তান হতে চলেছে বলে বিশ্বমিডিয়া উল্লেখ করতো।

গত ৫ বছরে এরকম কোন হামলা হয়েছে? ৫ বছরে মৌলবাদিরা, জঙ্গিবাদীরা কোথায় আছে? আমরা প্রতি সপ্তাহে জঙ্গি ধরছি। বিএনপির আমলে বাংলাদেশ দুর্নীতিতে প্রথম স্থানে ছিল। এখন চল্লিশতম হয়েছে। এটা একটা মারাত্মক পরিবর্তন। প্রধানমন্ত্রী পুত্র জয় বলেন, আওয়ামী লীগ ও ‘স্বাধীনতার পক্ষের’ শক্তি প্রচারে পিছিয়ে  আছে। এটিই আমাদের দুর্বলতা। এই দুর্বলতার কারণে স্বাধীনতার ইতিহাস পর্যন্ত বিকৃত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বারবার বলা হয় দুই দল, দুই নেত্রী। কিন্তু একবারও তুলনা করে দেখা হয় না, দুই দলের মধ্যে তফাৎ কোথায়। কারা দেশকে এগিয়ে নিয়ে গেছে। আর কারা দেশকে পিছিয়েছে। অনুষ্ঠানের শুরুতে সঞ্চালক মোহাম্মদ এ আরাফাত বলেন, বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার যারা সফল এবং ভবিষ্যতে যারা নেতৃত্বে আসবেন, তাদের সঙ্গে জয়কে মুখোমুখি করতেই এ অনুষ্ঠানের আয়োজন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম, আমাদের অর্থনীতি সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান, ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক জাফর সোবহান, তথ্য কমিশনার অধ্যাপক সাদেকা হালিম, শেখ রেহানার ছেলে রেজোয়ান সিদ্দিকী ববী দর্শক সারিতে ছিলেন।

সুত্র: মানবজমিন।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close