Featuredঅন্য পত্রিকা থেকে

সংবিধান নিয়ে নানা বিতর্ক আলোচনা

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

দীন ইসলাম: সংবিধান নিয়ে সরকারের ভেতরে-বাইরে চলছে আলোচনা, পর্যালোচনা। দেশের প্রশাসনযন্ত্র সচিবালয়ে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবরা নতুন করে সংবিধান নিয়ে পড়াশোনা করছেন। সংবিধানের কয়েকটি ধারায় বিশেষ মনোযোগ দিয়েছেন। সংবিধানের দু’টি ধারা উল্লেখ করে তাদের মধ্যে এখনও একটাই আলোচনা, নির্বাচন ২৪ শে জানুয়ারির মধ্যে হচ্ছে তো।

তাই এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে বিতর্ক ও আলোচনার বিষয়বস্তু হলো দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। কারণ স্বাধীনতার পর গত চার যুগের রাজনীতিতে দলীয় সরকারের অধীনে সফলভাবে কোন জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের ইতিহাস নেই।

বিভিন্ন সূত্রে আলাপ করে জানা গেছে, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী বছরের জানুয়ারির শেষে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে কারা থাকবেন এ নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে? স্বাধীনতার পর এখন পর্যন্ত কোন জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে, বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না।

২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর পর নির্বাচনের বিষয়ে যা বলা হয়েছে: সংসদ-সদস্যদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে। (ক) মেয়াদ-অবসানের কারণে সংসদ ভাঙ্গিয়া যাইবার ক্ষেত্রে ভাঙ্গিয়া যাইবার পূর্ববর্তী নব্বই দিনের মধ্যে ; এবং (খ) মেয়াদ-অবসান ব্যতীত অন্য কোন কারণে সংসদ ভাঙ্গিয়া যাইবার ক্ষেত্রে ভাঙ্গিয়া যাইবার পরবর্তী নব্বই দিনের মধ্যে: তবে শর্ত থাকে যে, এই দফার (ক) উপ-দফা অনুযায়ী অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচিত ব্যক্তিগণ, উক্ত উপ-দফায় উল্লিখিত মেয়াদ সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত, সংসদ-সদস্যরূপে কার্যভার গ্রহণ করিবেন না।

সংসদ ভাঙ্গিয়া যাওয়া ব্যতীত অন্য কোন কারণে সংসদের কোন সদস্যপদ শূন্য হইলে পদটি শূন্য হইবার নব্বই দিনের মধ্যে উক্ত শূন্যপদ পূর্ণ করিবার জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে: তবে শর্ত থাকে যে, যদি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মতে, কোন দৈব-দুর্বিপাকের কারণে এই দফার নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে উক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব না হয়, তাহা হইলে উক্ত মেয়াদের শেষ দিনের পরবর্তী নব্বই দিনের মধ্যে উক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে। নির্বাচন না দিয়েও কি সরকারের মেয়াদ বাড়ানো সম্ভব: আরেকটি বিতর্ক দেখা দিয়েছে, নির্বাচন না দিয়েও কি সরকারের মেয়াদ বাড়ানো সম্ভব?

এ বিষয়ে সংবিধানের প্রাসঙ্গিক অনুচ্ছেদ ১২৩ নম্বর। এই অনুচ্ছেদ অনুসারে দুইভাবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রয়োজন দেখা দিতে পারে। প্রথমত, একটি সরকার গঠনের পর যদি সেই সরকার পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করে ফেলে তাহলে। দ্বিতীয়ত, কোন সরকার গঠিত হওয়ার পর পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই যদি কোন কারণে সংসদ ভেঙে যায় অর্থাৎ সরকারের পতন ঘটে। উল্লিখিত প্রথম কারণে যদি সংসদ ভেঙে যায় তাহলে নির্বাচন দিতে হবে পাঁচ বছর মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে।

আর উল্লিখিত দ্বিতীয় কারণে যদি সংসদ ভেঙে যায় তাহলে নির্বাচন দিতে হবে সংসদ ভেঙে যাওয়ার দিন থেকে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে। তাই জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময়সীমা সম্বন্ধে সংবিধানে বিন্দুমাত্র কোন ফাঁক রাখা হয়নি। যেভাবেই সংসদ ভেঙে যাক না কেন সংসদ ভেঙে যাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন দিতেই হবে। সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচন না দিয়ে সরকারের মেয়াদ বাড়ানোর প্রসঙ্গটি একটি প্রচারণা মাত্র। সংবিধান এ জাতীয় কোন লুকোচুরির আশ্রয় গ্রহণের সুযোগ রাখা হয়নি। পূর্ববর্তী ৯০ দিন পরবর্তী ৯০ দিন বিতর্ক: প্রচলিত বিতর্কের আরেকটি দিক হলো ৯০ দিন সময়সীমা নিয়ে অনেকের আপত্তি।

সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান সরকারের মেয়াদ অবসানের অর্থাৎ পাঁচ বছর পূর্তির আগের ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে। এই বিধান বিএনপি সরকারের আমলে আনীত ১৯৯১ সালের দ্বাদশ সংশোধনীতেও একই রকম ছিল। লক্ষণীয় বিষয় হলো দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন ব্যবস্থার বর্তমান যে সাংবিধানিক পরিস্থিতি এটি ১৯৯১ সালের বিএনপি’র সময়ের সঙ্গে হুবহু মিল রয়েছে। নির্বাচন পেছানোর দ্বৈত ক্ষমতায় প্রেসিডেন্ট ও নির্বাচন কমিশন: জাতীয় নির্বাচন ৯০ দিনের মধ্যে না করার একমাত্র কারণ রাষ্ট্রের যুদ্ধাবস্থা। দৈব-দুর্বিপাক বা দুর্যোগের কারণে জাতীয় নির্বাচন স্থগিত করা বা ৯০ দিনের বেশি সময় নেয়ার কোন সুযোগ সংবিধানে রাখা হয়নি। ফলে, এই দু’টি বিষয়কে সংবিধান আলাদা আলাদা দৃষ্টিতে বিবেচনায় নিয়েছে বলে খুব সতর্কতার সঙ্গে লক্ষ্য রাখতে হবে।

এছাড়া নির্বাচন পেছানোর কর্তৃত্বও সংবিধান ভিন্ন ভিন্ন কর্তৃপক্ষের কাছে ন্যস্ত করেছে। যুদ্ধের কারণে নির্বাচন পেছানো যাবে কিনা এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে প্রেসিডেন্টের হাতে এবং এই বিষয়টি আলোচিত হয়েছে সংবিধানের ৭২ নম্বর অনুচ্ছেদের ৩ নম্বর দফায়। অন্যদিকে, সংসদের কোন শূন্য আসন পূরণের জন্য ৯০ দিনের যে সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে তার ব্যতিক্রম হতে পারে কোন দৈব-দুর্বিপাক বা দুর্যোগের কারণে। এবং এই কারণে কোন নির্বাচন পিছানো দরকার কিনা ওই বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে নির্বাচন কমিশনের হাতে। এবং তা আলোচিত হয়েছে সংবিধানের ১২৩ নম্বর অনুচ্ছেদের ৪ নম্বর দফায়।

প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও মন্ত্রীরা পদে থেকেই এমপি নির্বাচনে প্রার্থী হবেন: সংবিধানে দলীয় সরকার রেখে জাতীয় নির্বাচনের যে বিধান করা হয়েছে এ নিয়েও চলছে আলোচনা। আলোচনার অন্যতম কারণ- প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, মন্ত্রী ও এমপিরা তাদের নিজ নিজ পদে বহাল থেকেই জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবেন। অর্থাৎ সরকারের সুযোগ-সুবিধা, প্রটোকল ইত্যাদির মধ্য থেকে তারা নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেবেন। ফলে তা বিরোধীদলের প্রার্থীদের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হবে না।

এ কারণে ‘সমতার নীতি’ লঙ্ঘিত হবে বলে অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভারত, ইংল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রে মন্ত্রী-এমপিরা নিজ দায়িত্বে বহাল থেকেই সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন। এজন্য কোন বিতর্ক দেখা দেয় না। এর কারণ, ওইসব দেশে পদে থেকে নির্বাচন করলেও নির্বাচনী কাজে সরকারি প্রভাব খাটানোর নজির দুর্লভ।

দ্বিতীয় কারণ, ওইসব দেশের নির্বাচন কমিশনের শক্তিশালী ভূমিকা। কোন প্রার্থী অন্যায্য ও অন্যায়ভাবে কোন নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ন্যূনতম প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছেন কিনা ওই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার একক ও নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব নির্বাচন কমিশনের।

সূত্র: মানবজমিন।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close