Featuredঅন্য পত্রিকা থেকে

দুর্নীতিপটু কোম্পানির দেশ কানাডা

বাংলাদেশের পদ্মাসেতু প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্র মামলায় অভিযুক্ত সিএনসি লাভালিনের কারণে ‘হোম অব দ্য করাপ্ট কোম্পানিজ” বা ‘দুর্নীতিবাজ কোম্পানির দেশ’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে কানাডা।

সম্প্রতি বিশ্বব্যাংক দুর্নীতি ও প্রতারণার দায়ে বাংলাদেশিসহ আড়াইশোরও বেশি প্রতিষ্ঠানকে ১০ বছর বা তার বেশি সময়ের জন্য কালো তালিকাভুক্ত করার পর বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। কানাডার কুইবেকভিত্তিক এসএনসি লাভালিনই কার্যত তাদের দেশ কানাডাকে বিশ্বব্যাংকের কালো তালিকার শীর্ষে নিয়ে গেছে। এ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির কালো তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৪৪টি। আর ৪৩টি প্রতিষ্ঠান নিয়ে এ তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে ইন্দেনেশিয়া।

এদিকে বাংলাদেশের পদ্মাসেতু প্রকল্পের দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত সিএনসি লাভালিনকে সেটেলমেন্টের মাধ্যমে ১০ বছরের জন্য শর্তযুক্ত প্রবেশন দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

বিশ্বব্যাংকের প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, বিশ্বের কালো তালিকাভুক্ত ২শ’ ৫০টিরও বেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মোট ১১৭টি কানাডীয় প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেগুলোর মধ্যে ১১৫টিই এসএনসি লাভালিনের সঙ্গে ‘এফিলিয়েটেড’ বা সহযোগী প্রতিষ্ঠান। এছাড়া দু’টি কানাডীয় প্রতিষ্ঠানকে স্থায়ীভাবেই বিশ্বব্যাংক ক‍ালো তালিকাভূক্ত করেছে। বিশ্বব্যাংক তাদের গ্লোব্যাল প্রজেক্টে দরপত্র অংশগ্রহণে এসব প্রতিষ্ঠানের উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

২০১২ সালে কোন কানাডীয় প্রতিষ্ঠান এ তালিকায় আসে নি। তারা এ-ও বলেছে, এসএনসি লাভালিন এবং তাদের  সহযোগী ১১৫টি প্রতিষ্ঠানই বাংলাদেশের পদ্মা বহুমুখী প্রজেক্টে দুর্নীতির সড়যন্ত্রের সাথে যুক্ত।

বিশ্বব্যাংক বলেছে, লাভালিনের ৮৯টি সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে শর্তযুক্ত ১০ বছর প্রবেশন  দিয়েছে, যাতে করে তারা এ ব্যাপারে জরুরি বাধ্যবাধকতা মেনে চলে।   এ প্রসঙ্গে বিশ্বব্যাংকের ডেভিড জেমস ফিল্ডার বলেন, বাংলাদেশের পদ্মা বহুমুখী প্রজেক্টে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের  অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়েই বেরিয়ে এসেছে, বিশ্বব্যাংকের কালো তালিকায় শীর্ষে রয়েছে কানাডীয় প্রতিষ্ঠানগুলো। এগুলোর অধিকাংশই এসএনসি লাভালিনের সহযোগী প্রতিষ্ঠান।

তিনি আরো বলেন, দুর্নীতিবিরোধী সমন্বিত এই কঠোর পদক্ষেপ নিতে বিশ্বব্যাংকের তদন্ত কাজে রয়েল মাউন্টেড পুলিশ ঘনিষ্ঠভাবে সহযোগিতা করছে। কানাডীয় রয়াল মাউন্টেড পুলিশও বলেছে, রয়াল পুলিশ বিশেষ করে এ ধরনের দুর্নীতি রোধে আরো বেশি সক্রিয় ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এদিকে বাংলাদেশের যে সব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান বিশ্বব্যাংকের কালো তালিকায় আছে তারা আগামী ২০১৫ সাল পর্যন্ত কালো তালিকাভূক্ত থাকবে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে- বিত্তহীন চাষী সমাজ কল্যাণ সংস্থা, ইশ্বরদী,পাবনা, চুয়াডাঙ্গার ডেভেলপমেন্ট অ্যাকশন সেন্টার, ঢাকার ধানমন্ডির হিউম্যান রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন, সামাজিক সংস্থা, ধানমন্ডি।
যে সব ব্যক্তি ২০১৫ সাল পর্যন্ত কালোতালিকাভূক্ত হয়েছেন তারা হলেন- ঈশ্বরদীর এমডি আব্দুর রাজ্জাক, চুয়াডাঙ্গার মিসেস শামছুন্নাহার, ধানমন্ডির কেএম রহমান ও এমডি শামছুল আলম এবং দিনাজপুরের বীরগঞ্জের বুলবুল এম আখতার।

পদ্মা বহুমুখী প্রজেক্টের দুর্নীতি ষড়যন্ত্রের মামলায় পরামর্শক হিসেবে বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে বলে কানাডীয় সংবাদমাধ্যমগুলো খবর দিয়েছে। তার বিরুদ্ধে কানাডীয় আদালত থেকে সমনও জারি করা হয়েছে।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

আরও দেখুন...

Close
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close