Featuredস্বদেশ জুড়ে

জাতিসংঘের উদ্যোগ ব্যর্থ হয়েছে কেবল সরকারের কারণে

শীর্ষবিন্দু নিউজ: দেশের রাজনৈতিক সংকট নিরসনে জাতিসংঘ সংলাপের প্রস্তাব দিলেও আওয়ামী লীগের সাড়া না মেলায় তা হয়নি বলে দাবি করেছে বিরোধী দল বিএনপি। দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সোমবার দুপুরে নয়া পল্টনে নিজের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

নয়া পল্টনে নিজের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি-মুন গত ২৫ অগাস্ট টেলিফোনে বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। সংকট নিরসনে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুইজন করে প্রতিনিধিকে নিয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠানেরও প্রস্তাব করেন। আমাদের নেত্রী ওই প্রস্তাবে আপত্তি নেই বলে মহাসচিবকে জানিয়েছিলেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফর প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, বিরাট বহর নিয়ে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ গেছেন। সেখানে তিনি জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে বৈঠক করবেন। আমরা আশা করি, চলমান সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রী উদ্যোগ নেবেন। সংকট সমাধানে তারা আন্তরিক হবেন।

দেশের রাজনৈতিক সংকট সমাধানে সরকারকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির মুখপাত্র বলেন, “আমরা এখনো আশা করি, সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে। তারা চলতি সংসদ অধিবেশনেই নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের একটি বিল নিয়ে আসবেন। আর তা না হলে ২৪ অক্টোবর সংসদের অধিবেশন শেষ হওয়ার পর দেশে কোনো রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হলে তার দায় সরকারের ওপরই বর্তাবে বলে হুঁশিয়ার করেন তিনি।
কিন্তু গত ১০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ফার্নান্দেজ তারাঙ্কো আমাদের ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরীকে জানিয়েছেন,  ওই মিটিংয়ের প্রস্তাবে আওয়ামী লীগ সাড়া দেয়নি। ক্ষমতাসীন দলের এ মনোভাবের কারণেই  জাতিসংঘ মহাসচিবের সংলাপের উদ্যোগ ফলপ্রসূ হয়নি বলে মন্তব্য করেন ফখরুল।

তিনি বলেন, জাতিসংঘে বিএনপিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে যে মন্তব্য বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. আবদুল মোমেন করেছেন- তা  সঠিক নয়। তিনি সঠিক কথা না বলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছেন। মোমেন সাহেব সঠিকভাবে বিষয়টি জাতির কাছে তুলে ধরেননি।

সরকার সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করার পর থেকেই তা পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছে বিরোধী দল বিএনপি ও তাদের শরিকরা। সংবিধান অনুযায়ী, ২৫ অক্টোবর থেকে ২৪ জানুয়ারির মধ্যে ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনেই আগামী  নির্বাচন হবে, যা নিয়ে বিরোধী দলের আপত্তি।

নির্বাচনকালীন সরকার পদ্ধতি নিয়ে দেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের মুখোমুখী অবস্থানের মধ্যেই গত ২৫ আগস্ট টেলিফোনে প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেতার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন জাতিসংঘ মহসচিব বান কি-মুন ।

এরপর গত ৭ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপের তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়াকে চিঠি দেন। খালেদা গত ১৮ সেপ্টেম্বর জন কেরির চিঠির জবাব পাঠান।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close