Featuredঅন্য পত্রিকা থেকে

মন্ত্রীদের ক্ষমতায় থেকে নির্বাচনের বিধান চূড়ান্ত

মন্ত্রীদের ক্ষমতায় থেকে নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিধান করে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও)-এর সংশোধনী প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে। আইনমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন কমিটি আরও কয়েকটি প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে। এদিকে পরস্পরবিরোধী অবস্থানে থাকা সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সমঝোতার দুয়ার দৃশ্যত রুদ্ধ। সংসদ বহাল রেখে এবং মন্ত্রীদের পদে থেকেই নির্বাচন করার আইনগত সুযোগ সৃষ্টির উদ্যোগ সঙ্কট বাড়িয়েছে।

সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের একজন নীতিনির্ধারক পর্যায়ের নেতা মানবজমিনকে বলেন, বিরোধী দলের সঙ্গে দর কষাকষির অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের জন্যই সংসদ বহাল রাখা ও মন্ত্রীদের পদে থেকে নির্বাচনের ব্যবস্থা করার বিষয়টি আনা হচ্ছে। বিএনপি নির্দলীয় নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দাবি থেকে সরে এসে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ব্যবস্থা মেনে নিলে পরিস্থিতি ভিন্নতর হবে।

সে ক্ষেত্রে বর্তমান সংসদ ভেঙে দিয়ে নতুন সংসদ নির্বাচন হতে পারে। তখন সংসদ সদস্যদের এমপি পদে থেকে নির্বাচনের অবকাশ থাকবে না। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়েও কারও কোন সংশয় থাকবে না। সীমিতসংখ্যক মন্ত্রী থাকবেন শুধু রুটিনমাফিক কাজের জন্য। বিরোধী দল রাজি হলে মেয়াদ-পূর্ববর্তী সংসদের কয়েকজন, এমনকি সমসংখ্যক সদস্যদের মন্ত্রিসভায় নিতে সরকারের আপত্তি না-ও থাকতে পারে। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ মানবজমিনকে বলেন, সংবিধানে কোন সংশোধনী আনা হবে না। তার প্রয়োজনও নেই। অস্পষ্টতা দূর করার জন্য আরপিওতে কিছু সংশোধনী আনা হবে।

আরপিও সংশোধনী প্রস্তাব চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় জড়িত একজন আভাস দিয়েছেন, মন্ত্রীদের পদে থেকে নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিধান সংবিধানে থাকলেও আরপিওতে নেই। আরপিওতে তা যুক্ত করা হবে। নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার জন্য ১৪ দিন নির্দিষ্ট করে দেয়া হবে। মন্ত্রীরা প্রচার-প্রচারণাসহ নির্বাচনী কোন কাজে বাড়তি কোন সুযোগ-সুবিধা পাবেন না। মন্ত্রীদের নিরাপত্তার দিকটিই কেবল নিশ্চিত করা হবে। তারা প্রজাতন্ত্রের কোন জনবল, যানবাহন ব্যবহার করতে পারবেন না।

সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতির পাশাপাশি সংসদ ভেঙে দেয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সম্ভাবনার দিকটিও সরকারের নীতিনির্ধারকদের বিবেচনায় রাখা হয়েছে। একজন মন্ত্রী জানান, বিএনপির সঙ্গে সমঝোতার ওপরই তা নির্ভর করবে। সরকার একতরফাভাবে কিছু করতে চায় না। সংসদ ভেঙে দেয়ার মতো অবস্থা বিরাজমান নয়। অকারণে একটি খারাপ দৃষ্টান্ত সরকার রাখতে আগ্রহী নয়। বিরোধী দল সম্মত থাকলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন হতে পারে। সে ক্ষেত্রে অক্টোবরের পরও মন্ত্রীদের থেকে যেতে সমস্যা নেই।

তবে নীতিনির্ধারকরা সর্বোচ্চ ১৫ সদস্যের নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের পক্ষে। বিরোধী দলকেও এতে আমন্ত্রণ জানানো হবে। বিদ্যমান সঙ্কটের সমাধানে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা এ মাসে হওয়ার সম্ভাবনা নেই। অক্টোবরের প্রথম দিকে উভয়ের মধ্যে আলোচনা হতে পারে। আনুষ্ঠানিক আলোচনা না হলেও তৃতীয় মাধ্যমে যোগাযোগ, মতবিনিময় হচ্ছে।

এ ক্ষেত্রে কয়েক কূটনীতিক অন্যতম মাধ্যম হিসেবে কাজ করছেন। উভয়কে একটা পারস্পরিক সম্মানজনক, গ্রহণযোগ্য অবস্থায় আনার অব্যাহত চেষ্টা করছেন তারা। বিরোধী দল নির্বাচনে আসবে বলেই মনে করে সরকার। যে কোন পরিস্থিতিতে নির্বাচন হলে তারা বিপুলভাবে জয়ী হবেন, এমন আত্মবিশ্বাস থেকেই বিরোধী দলের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাবও কাজ করছে। নৈরাজ্যকর, অনাকাক্সিক্ষত শক্তির ক্ষমতায় আসার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি তাদেরও কাম্য নয়।

কিন্তু প্রভাবমুক্ত অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচনের পূর্ণ নিশ্চয়তা না পেলে বিরোধী দল নির্বাচনে অংশ নেয়ার ঘোষণাও দেবে না। যদিও নির্বাচনের প্রস্তুতি ভেতরে ভেতরে তারাও নিচ্ছেন। বিদ্যমান তীব্র আস্থার সঙ্কট দূর করার পথ খুঁজছেন বিদেশী কূটনীতিকরা।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

আরও দেখুন...

Close
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close