Featuredবেড়ানো

শরতে কক্সবাজার

ম. মামুন: নীল আকাশের নিচে বিস্তীর্ণ সৈকত। এখন শরত, তারপরও মাঝেমধ্যে বৃষ্টি পেয়ে বসে। এ সময়ে পর্যটক ঠাসা ভিড়ও নেই সৈকতে। এছাড়া ভ্রমণের ফাঁকে আন্তর্জাতিক সমুদ্রসৈকত পরিচ্ছন্নতা দিবস-এর অনুষ্ঠানেও অংশ নিতে পারেন।

এ সময়ে কক্সবাজার ভ্রমণে বাড়তি কিছু সুবিধাও রয়েছে। অন্যান্য সময়ের চেয়ে এখন ভ্রমণ খরচ অনেকটা কম। অফ সিজন বলে হোটেলে ছাড় পাওয়া যাবে। পর্যটক কম, তাই কক্সবাজারের আশপাশের জায়গাগুলোতে পরিবহনের অতিরিক্ত ভাড়াও গুনতে হবে না।

সৈকত থেকে কক্সবাজার ভ্রমণ শুরু করতে পারেন। এখানকার লাবনী, সুগন্ধা কিংবা কলাতলী পয়েন্টে, সৈকতে পেতে রাখা আরাম-চেয়ারে বসে সমুদ্র উপভোগ করতে পারবেন। ঘণ্টা হিসেবে খরচ পড়বে ৫০ থেকে ১০০ টাকা। তবে দর কষাকষি করতে ভুলবেন না। চাইলে নোনা পানিতে কিছুক্ষণ দাপাদাপি করেও নিতে পারেন। তবে সৈকতে লাল পতাকা নির্দেশিত সময়ে সমুদ্র স্নানে নামবেন না। অন্যান্য সময়ে নামলেও বেশ সাবধানতার সঙ্গে, সৈকতের খুব কাছাকাছি থেকে স্নান শেষ করুন।

এ সময়ের সূর্যাস্তের দৃশ্যও সুন্দর। ভাগ্য সহায় থাকলে আকাশে রংয়ের খেলা আর লাল থালার মতো সূর্য ডোবার দৃশ্য এই মৌসুমেই দেখতে পাবেন।

প্রথম দিনটি সৈকতে কাটিয়ে পরের দিন যেতে পারেন হিমছড়ি কিংবা ইনানি। এসব জায়গায় যাওয়ার জন্য ব্যাটারিচালিত রিকশা, বেবিট্যাক্সি কিংবা জিপ আছে। রিকশায় গেলে পুরো পথটাই হবে আপনার জন্য অনেক মজার।

 

হিমছড়ির পাহাড়, ঝরনা আর ইনানির সৈকতে ঘুরে বেড়াতে ঘণ্টা পাঁচেক সময় লাগবে। দিনের বাকি সময়ে কক্সবাজার শহরের পার্শ্ববর্তী থানা রামু ও চকরিয়ার বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে যেতে পারেন।

রামুতে আছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের বেশ কিছু কেয়াং ও প্যাগোডা। গত বছরের সন্ত্রাসী হামলার পর রামুর সব বৌদ্ধমন্দিরগুলো নতুন করে নির্মাণ করা হয়েছে। কক্সবাজারের কলাতলী থেকে জিপ কিংবা মাইক্রোবাসে রামু যাওয়া যায়।

কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে, কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পূর্বপাশে রয়েছে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক। চট্টগ্রামের দক্ষিণ বনাঞ্চলের ডুলাহাজারা ও হারগোজা ব্লকের প্রায় ৯শ’ হেক্টর জায়গাজুড়ে এই পার্কে রয়েছে নানান রকম বন্যপ্রাণী। প্রতিদিন সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত খোলা থাকে।

রামুর বৌদ্ধমন্দির ও বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক ভ্রমণের জন্য মাইক্রোবাস রিজার্ভ নেওয়া ভালো। সারাদিনের জন্য একটি মাইক্রোবাসের ভাড়া পড়বে ৪ হাজার ৫শ’ থেকে ৬ হাজার টাকা। তবে এ জায়গাগুলোতে যাওয়ার জন্য কক্সবাজার বাস টার্মিনাল থেকে লোকাল বাসও পাওয়া যায়।

সমুদ্র সৈকত পরিচ্ছন্নতা দিবস

পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার এক সময় ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছিল। পরে একদল তরুণের প্রচেষ্টায় পরিচ্ছন্ন সমুদ্রসৈকতে রূপ নেয়।

বিশ্বের ১২০টি দেশের মতো ‘আন্তর্জাতিক সমুদ্রসৈকত পরিচ্ছন্নতা দিবস’ বা ‘ইন্টারন্যাশনাল কোস্টাল ক্লিনআপ ডে’ বাংলাদেশের কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতেও উদযাপিত হয়।

আমেরিকাভিত্তিক সংগঠন ‘ওশান কনজারভেন্সি’র সহায়তায় ২০০৬ সাল থেকে বাংলাদেশের সেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘কেওক্রাডং বাংলাদেশ’ এই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের আয়োজন করে।

 

কক্সবাজারে বেড়াতে আসা পর্যটকদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ঢাকা থেকে একদল তরুণ সেচ্ছাসেবক কক্সবাজারে গিয়ে সৈকতের ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার অভিযানে শামিল হন। সঙ্গে যোগ দেন বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী আর সৈকতে বেড়াতে আসা পর্যটকদের একটি অংশ। প্রতিবছর সেপ্টেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে পালিত হয় হয় এ ‘আন্তর্জাতিক সমুদ্রসৈকত পরিচ্ছন্নতা দিবস’।

এবারের পরিচ্ছন্নতা দিবসের মূল কার্যক্রমের শুরু ২১ সেপ্টেম্বর। সকালে কক্সবাজার শহরে শোভাযাত্রার পর লাবনী পয়েন্টে সৈকত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলবে।

যেভাবে যাবেন

সড়ক ও আকাশ পথে সরাসরি কক্সবাজার যাওয়া যায়। ঢাকা থেকে সরাসরি কক্সবাজার যায় এস আলম, সৌদিয়া, শ্যামলী, ইউনিক ইত্যাদি পরিবহন। নন এসি বাসের ভাড়া ৬শ’-৭শ’ টাকা।

গ্রীন লাইন, সোহাগ, টি আর, সৌদিয়া, এস আলম ইত্যাদি পরিবহনের এসি বাসে ভাড়া ১৬শ’-১ হাজার ৯শ’ ৫০ টাকা।

এছাড়া ইউনাইটেড, রিজেন্ট ও নভো এয়ারের বিমান চলে ঢাকা-কক্সবাজারের আকাশে।

যেখানে থাকবেন

কক্সবাজারে থাকার জন্য এখন প্রচুর হোটেল রয়েছে। ধরন অনুযায়ী এসব হোটেলের প্রতিদিনের রুম ভাড়া ৮শ’ থেকে ২০ হাজার টাকা। তবে এই মৌসুমে সব হোটেলেই আছে বিভিন্ন রকম মূল্যহ্রাস। হোটেলের রকমভেদে মিলবে ২০-৬০ ভাগ ছাড়। এবারের অফ সিজন ডিসকাউন্ট চলবে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

কক্সবাজারের উল্লেখযোগ্য হোটেল হল— বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের হোটেল শৈবাল, মোটেল উপল, মোটেল প্রবাল, মোটেল লাবনী ইত্যাদি।

 

এছাড়া অন্যান্য হোটেলের মধ্যে আছে— হোটেল সি গাল। ওশান প্যারাডাইস। লং বিচ হোটেল। সি কুইন। হোটেল সাগরগাঁও। সুগন্ধা গেস্ট হাউস। হোটেল সি হার্ট। হোটেল ডায়মন্ড প্লেস অ্যান্ড গেস্ট হাউজ। হোটেল সি ক্রাউন। হোটেল কোরাল রিফ ইত্যাদি।

 

 

আলোকচিত্র: মুস্তাফিজ মামুন

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close