Featuredঅন্যকিছু

বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগামী ১০টি ট্রেন

বিশ্বে সবচেয়ে দ্রুতগামী ট্রেনগুলোর মধ্যে চীনের সাংহাই মাগলেড ট্রেন ও সিআরএইচ ৩৮০, জার্মানীর আইসিই (আইস) থ্রি, জাপানের শিংকানসেন ই-৫, স্পেনের এভিই (এইভ) সিরিজ ১০৩, ফ্রান্সের টিজিভি পিওসি (পোস), দক্ষিণ কোরিয়ার সানচিয়ন (কেটিএস-২) ব্রিটেন, ফ্রান্স ও বেলজিয়ামের ইউরোস্টার ক্লাস-৩৭৩ এবং তাইওয়ানের টিএইচএসআর ৭০০ টি সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য।

কিন্তু এই ধারণা পাল্টে দিয়ে বিগত বছরগুলোতে বেশ কিছু হাইস্পিড ট্রেন অর্থাৎ দ্রুতগামী রেল আবিস্কৃত হয়েছে। এগুলোর গতি রীতিমত বিস্ময়কর। বেশ কিছু দেশ অল্পসময়ে দীর্ঘপথ ভ্রমণের উপযোগী ট্রেন বা রেল তৈরী করতে সমর্থ হয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালীর আবিষ্কারক ও ব্যবসায়ী ইলোন মাস্ক ঘন্টায় ৭০০ মাইল অতিক্রমে সক্ষম সৌরশক্তি চালিত হাইপারলুপ ট্রেন উন্নয়নের কথা ঘোষণা করেছেন। লসএঞ্জেলেস থেকে সান ফ্রানসিসকোর দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করতে আধ ঘন্টার কিছু বেশী সময় লাগবে।

জানা যায়, ইতালীর ডিজাইন ফার্ম পিনিনফারিনা সব ক’টি ইওরোস্টার-৩৭৩ ট্রেনের অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা আধুনিকায়নের কাজ শুরু করেছে। তাইওয়ানের টিএইচএসআর ৭০০ টি ট্রেনটির ঘন্টায় গতিবেগ ১৮৬ মাইল। এই অ্যারোডিনামিক্যালী অপটিমাইজড্ অর্থাৎ রকেট শক্তির ট্রেনগুলো দ্বীপদেশটির রাজধানী তাইপে ও শিল্পনগরী কাওশিউংয়ের মধ্যে চলাচল করে। এতে সময় মাত্র ৯০ থেকে ১০০ মিনিট। এই ট্রেন বিজনেস ও স্ট্যান্ডার্ড এই ক্লাসে প্রায় ১ হাজার যাত্রী পরিবহন করে থাকে।

চীনের তৈরী সাংহাই মাগরেড ট্রেনটির ঘন্টায় গতিবেগ ২৬৮ মাইল। এটি বিশ্বের সবচেয়ে  দ্রুতগামী চৌম্বক শক্তির ট্রেন, যা লাসকার, ইন্ডি কিংবা ফরমূলা ওয়ান-এর মতো রেইস কারের চেয়েও দ্রুতগামী। এটা সাংহাই মেট্রোসিস্টেমের পুডং আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর লংইয়াং রোড স্টেশনের মধ্যে চলাচল করে। এই বিস্ময়কর ট্রেন সম্পর্কে জানতে আগ্রহী দর্শনার্থীরা লংইয়াং স্টেশনের মাগরেড মিউজিয়ামে ভিড় করেন।

ব্রিটেন, ফ্রান্স ও বেলজিয়ামের মধ্যে চলাচলকারী ‘ইওরোস্টার ক্লাস-৩৭৩’ ট্রেনটির ঘন্টায় গতি ১৮৬ মাইল। এই দীর্ঘতম ও দ্রুতগামী ট্রেনটি ব্রিটিশ দ্বীপসমূহ সহ ছাড়াও চ্যানেল টানেল দিয়ে তিনটি আন্তঃদেশীয় সুন্দর স্টেশনের মধ্যে চলাচল করে। চমৎকার এই স্টেশনসমূহ হচ্ছে লন্ডনের সংস্কারকৃত ‘প্যাংক্রাস স্টেশন’, প্যারিসের ‘গেয়ার দ্যু নর্দ’ এবং ব্রাসেলসের ‘সাউথ স্টেশন।’ এছাড়া ট্রেনটি প্যারিসের ভিজনী ল্যান্ড-এ থামে। অ্যাভিগনন ও ফ্রেঞ্চ আপ্লস-এ এর মৌসুমী রুটও রয়েছে।

চীনের অপর দ্রুতগামী ট্রেন হচ্ছে সিআরএইচ ৩৮০। এর গতিবেগ ঘন্টায় ২১৭ মাইল। এটি বিশ্বের বৃহত্তম ট্রেন হিসেবে এটা ৫৮০০ মাইল দীর্ঘ পথে চলাচল করে। বছরে যাত্রী পরিবহন করে ৫০ কোটি। এই ট্রেন চীনের ব্যস্ততম নগরী বেইজিং, সাংহাই, গুয়াংঝু, ইউহান, নানজিং ও হ্যাংঝু দিয়ে চলাচল করে। জার্মানীর আইস-থ্রি ট্রেনটির ঘন্টায় গতিবেগ ১৯৯ মাইল। রেকর্ড স্পিড-২২৯ মাইল এই সুপার সুইফট্ ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনটি রাইন উপত্যকা, মিউনিখ ও ব্যাভেরিয়ার ন্যুরেমবার্গ হয়ে ফ্রাংকফুর্ট ও কোলন নগরীর মধ্যে চলাচল করে।

জাপানের শিংকানসেন ই-৫ ট্রেনটির ঘন্টায় গতিবেগ ১৯৯ মাইল। এর সম্মুখভাগ প্লাটিপাস প্রাণীর আকৃতির মতো হওয়ায় এটাকে ‘ডাক-বিলড প্লাটিপাস’ও বলা হয। এই স্লিক ট্রেনের অভ্যন্তরভাগ ইন্ডাষ্ট্রির অভিজাত অভ্যন্তরভাগের ন্যায়। এখানে রয়েছে বিদ্যুৎ চালিত ৪৫ ডিগ্রী কোণে ঘুরতে সক্ষম গ্র্যান ক্লাস লেদার শেল চেয়ারসমূহ। এটা হনশু দ্বীপের উত্তরাঞ্চলীয় আওমরি ও টোকিওর মধ্যবর্তী ৪১৯ মাইল ব্যাপী টি হকু চলাচল করে। ফ্রান্সের টিজিভি পোস-এর গতিবেগ ঘন্টায় ১৯৯ মাইল। এই হাইস্পিড ব্যান্ড ওয়াগন যাত্রীবাহী ট্রেনটি ১৯৮১ সালে চালু হয়। এই ট্রেনের উন্নততর সংস্করণ ২০০৭ সালে পরীক্ষামূলক চলাকালে ঘন্টায় ৩৫৭-২ মাইল অতিক্রম করে বিশ্ব রেকর্ড সৃষ্টি করে।

স্পেনের এইভ সিরিজ ১০৩ ট্রেনের গতিবেগ ঘন্টায় ১০৩ মাইল। তবে এর রেকর্ড স্পীড ২৫০ মাইল। স্পেনের এক সময়ের সবচেয়ে শ্লথ ও কম দক্ষ রেলওয়ে এখন ইওরোপের সর্ববৃহৎ দ্রুতগামী নেটওয়ার্ক-যা ১৯০০ মাইল ব্যাপী চলাচল করে। স্পেনের সবচেয়ে বড়ো নগরীতে তার নেটওয়ার্ক বিস্তৃত। দক্ষিণ কোরিয়ার সানচেন (কেটিএক্স-টু)-এর গতি ঘন্টায় ১৯০ মাইল। এর রেকর্ড গতিবেগ ২১৭ মাইল। বিশ্ববিখ্যাত হিউন্দে কোম্পানীর তৈরী এই ট্রেন প্রায় ৭ মিনিটের মধ্যে শূন্য থেকে ১৯০ মাইল গতিতে উন্নীত করতে পারে এবং ১.২ মিনিটে সম্পূর্ণ থামতে সক্ষম। এটি মাত্র ৩ ঘন্টারও কম সময়ে সিউল থেকে দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর নগরী বুশান ও মকপোতে পৌঁছতে পারে। প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ২০১৫ সাল নাগাদ এই ট্রেনের গতি ঘন্টায় ২৫০ মাইলে উন্নীত করা হবে জানা গেছে।

 

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close