Featuredস্বদেশ জুড়ে

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য আদালতে রিট আবেদন

শীর্ষবিন্দু নিউজ: সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের পর সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে বিলুপ্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি আগামী দুই মেয়াদের জন্য ফিরিয়ে আনতে হাই কোর্টে একটি রিট আবেদন হয়েছে। নির্বাচনকালীন এই নির্দলীয় সরকার পদ্ধতি ফেরাতে বিরোধী দলের আন্দোলনের মধ্যে বৃহস্পতিবার উচ্চ আদালতের দ্বারস্ত হন সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে দুই প্রধান রাজনৈতিক জোটের মুখোমুখি অবস্থানের মধ্যেই ইউনুস আকন্দ হাই কোর্টে এই রিট আবেদন করলেন। সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় ওই রিট আবেদন দায়ের পর আইনজীবী ড. ইউনুস আলী আকন্দ সাংবাদিকদের বলেছেন, রিটে নম্বর পড়েছে। এখন যে কোনো একটি বেঞ্চে শুনানির চেষ্টা করব।বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিলুপ্ত করার পক্ষে আপিল বিভাগের রায়কে ভিত্তি হিসেবে ধরার কথা জানিয়ে আসছে।

সংবিধানের ওই সংশোধনের ফলে এখন নির্বাচিত অর্থাৎ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় আগামী ২৫ অক্টোবর থেকে ২৪ জানুয়ারির মধ্যে দশম সংসদ নির্বাচন হবে। তবে রায়ের পর্যবেক্ষণের কথা উল্লেখ করে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবিতে আন্দোলন করছে বিএনপি। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন বয়কটে তাদের হুমকির কারণে দেশে রাজনৈতিক সঙ্কটের আশঙ্কা করছেন অনেকেই।

আদালতের ওই পর্যবেক্ষণকে ভিত্তি ধরে করা এই রিট আবেদনে সাবেক প্রধান বিচারপতি বা আপিল বিভাগের বিচারপতিকে নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান রাখার বিধান বাদ দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আগামী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি অবৈধ ঘোষণা করার পাশাপাশি মত প্রকাশ করা হয়, আরো দুই মেয়াদে তা চলতে পারে।

এতে বিবাদি করা হয়েছে- প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব, জাতীয় সংসদের স্পিকার, আইন সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, ১৪ দলীয় জোটের নেতা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা এবং ১৮ দলীয় জোটের নেতা বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে।

আপিল বিভাগের রায়ের পর্যবেক্ষণ অনুসারে দশম ও একাদশ সংসদ নির্বাচন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠানে বিবাদিদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না- এই রুল দিতে আদালতের কাছে আবেদন রেখেছেন তিনি।

২০১১ সালের ১০ মে তত্কালীন প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির বেঞ্চ সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় দেয়। আওয়ামী লীগের আন্দোলনের মুখে ১৯৯৬ সালে সংবিধানে ওই সংশোধনের মাধ্যমে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি যোগ হয়। এরপর দুটি নির্বাচন ওই ধরনের সরকারের অধীনে হলেও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে ২০০৬ সালে গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংবিধান মেনে তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন করতে ব্যর্থ হয়।

রাজনৈতিক ওই সঙ্কটের মধ্যে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি জরুরি অবস্থা জারি হয়, সেনাবাহিনীর মদদে গঠিত হয় আরেকটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার, যাদের দুই বছরের দেশ শাসনে দুই প্রধান নেত্রীসহ বহু রাজনৈতিক নেতাকে কারাগারে যেতে হয়। এরপর ক্ষমতায় গিয়ে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিলের পক্ষে আওয়ামী লীগের আরেকটি যুক্তি, এর মধ্য দিয়ে অসাংবিধানিক কারো ক্ষমতা দখলের পথ বন্ধ করা হল।

আপিল বিভাগের সংক্ষিপ্ত রায়ে আগামী দুটি সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হতে পারে বলে মত দেয়ার পাশাপাশি বলা হয়, বিদায়ী প্রধান বিচারপতি এবং আপিল বিভাগের বিচারপতিদের বাদ রেখে সংসদ এ সরকার পদ্ধতি সংস্কার করতে পারে। এরপর আদালতের রায়ের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হয়, গঠিত হয় সংসদীয় একটি কমিটি। ওই কমিটির প্রতিবেদনের পর ২০১১ সালে ২৫ জুন সংবিধান সংশোধনের বিল সংসদে উত্থাপিত হয়।

এর চারদিন পর বিলটি পাসের মধ্য দিয়ে অবসান ঘটে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতির। তবে সংবিধান সংশোধনের এই প্রক্রিয়ায় বিরোধী দল অংশ নেয়নি। সংবিধান সংশোধনের পর ২০১২ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়।

এতে দেখা যায়, বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের লেখা রায়ের ৩৪২ পৃষ্ঠার মূল অংশটি তিনি বাংলায় লিখেছেন। তার সঙ্গে একমত হয়েছেন বর্তমান প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন, আপিল বিভাগের বিচারপতি এস কে সিনহা ও বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। এই রায়ের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহাল রাখার পক্ষে মত দেন বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা। তার সঙ্গে একমত পোষণ করেন বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা।

তবে বিচারপতি মো. ইমান আলী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষে বা বিপক্ষে মত না দিয়ে বিষয়টি জাতীয় সংসদের ওপর ছেড়ে দেন। তিনি একশ ৫০ পৃষ্ঠার অভিমত লেখেন। ইউনুস আলী আকন্দ বলেন, দুই মেয়াদে তত্ত্বাবধায়ক সরকার রাখার বিষয়টি খাইরুল হকের পূর্ণাঙ্গ রায়ের অপারেটিভ অংশে না থাকলেও মূল বডিতে রয়েছে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close