স্বদেশ জুড়ে

ছেলেকে বাঁচাতে সিঙ্গাপুরে গেছেন খালেদা জিয়া

শীর্ষবিন্দু নিউজ: বৃহস্পতিবার জামালপুরের ইসলামপুরে এক জনসভায় বক্তব্যে বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার এবারের সফর নিয়েও প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, খালেদা জিয়া তার ছোট ছেলেকে বাঁচাতে সিঙ্গাপুরে গেছেন। স্বাস্থ্যপরীক্ষার জন্য বুধবার সিঙ্গাপুর গেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। দুই মাস আগে একই দেশে তার সফরের ভিন্ন উদ্দেশ্য ছিল আওয়ামী লীগ নেতারা বলে আসছিলেন।

উদ্বোধনের ভিত্তিফলক উন্মোচনের পর প্রধানমন্ত্রী সফরসঙ্গীদের নিয়ে ৯৪ কোটি টাকায় নির্মিত ৫১৫ মিটার দীর্ঘ ও ১০.২৫ মিটার প্রস্থের সেতুটি ঘুরে দেখেন। জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আলমগীর খানের সভাপতিত্বে ওই সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন পাটমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, খাদ্যমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক, স্থানীয় সাংসদ খন্দকার আবদুল বাতেন, শওকত মোমেন শাজাহান, একাব্বর হোসেন, আমানুর রহমান খান রানা প্রমুখ।

বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার সিঙ্গাপুর সফর নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সিঙ্গাপুরে আরাফাত রহমান কোকোর পাচার করা অর্থ ফেরত আনার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেছেন, উনার ছেলে বিদেশে অর্থ পাচার করেছে। ছেলেকে বাঁচাতে তিনি এখন সিঙ্গাপুরে গেছেন। বিএনপি ক্ষমতায় থেকে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, দুর্নীতি আর দুঃশাসন ছাড়া মানুষকে কিছুই দিতে পারেনি।

এ সময় তিনি আরো বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে বিরোধীদলীয় নেত্রী উঠেপড়ে লেগেছেন। তিনি খুনিদের নিয়ে চলতে ভালবাসেন। যারা কাবা শরিফ নিয়ে মিথ্যাচার করতে পারে, মসজিদে আগুন দিতে পারে, কোরআন পোড়াতে পারে, তারা কখনো মুসলমান হতে পারে না।

জনসভাস্থলে থেকে জামালপুরের কয়েকটি প্রকল্প উদ্বোধন এবং কয়েকটির ভিত্তিস্থাপন করেন তিনি। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় আগামী নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ভোটও চান তিনি। সম্প্রতি বিভিন্ন জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর এই ভোট চাওয়া নিয়ে বিরোধী দল সমালোচনা করে আসছে। একে নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘন বলে বিএনপি দাবি করলেও ইসি বলেছে, এটা বিধি লঙ্ঘনের আওতায় পড়ে না। ইসলামপুরের জনসভায় বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী গত সাড়ে চার বছরে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম তুলে ধরে বলেন,পুনরায় ক্ষমতায় এলে জামালপুরে মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হবে।

স্বাস্থ্যসেবা সবার কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য আমরা ১৫ হাজার ৫০০ কমিউনিটি ক্লিনিক তৈরি করেছিলাম। কিন্তু বিএনপি ক্ষমতায় এসে দেশের সব কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ করে দিয়েছিল। আমরা আবার ক্লিনিকগুলো চালু করেছি এবং স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিয়েছি। মানুষ বিনামূল্যে ওষুধ পাচ্ছে। বিনামূল্যে পাঠ্যবই দেয়া, ইউনিয়ন পর্যায়ে ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দেয়া, বেকারদের চাকরি দেয়া, ২৬ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সরকারি করা, সরকারি কর্মচারীদের বেতন ভাতা বাড়ানোর কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ মানেই উন্নয়ন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গেলে গরিব মানুষের অন্ন-বস্ত্র-কর্মসংস্থান ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। বিএনপি সরকারের সময় কৃষক সার পায়নি, বরং সারের জন্য ১৮ জন কৃষককে গুলি খেয়ে মরতে হয়েছে। এদের মধ্যে টাঙ্গাইলের ঘাটাইলের কৃষকরাও ছিল। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় আগামী নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ভোট দিতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান আওয়ামী লীগ সভানেত্রী।

 

 

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close