Featuredউর্বশী

পূজায় নতুন শাড়ি

শাড়ি ছাড়া পূজার সাজে পূর্ণতা আসে না। পূজার কোন দিন কী শাড়ি পরবেন, ‘অঞ্জন’স- এর শাহিন আহম্মেদ ও চরকা’র জাভেদ কামালের সঙ্গে কথা বলে এই প্রতিবেদন তৈরি করেছেন মরিয়ম সেঁজুতি।

ষষ্ঠীতে সুতি

এই দিনে ছাপা সুতির শাড়ি পরে দেওয়া হয় ঘটপূজা। তাই ডিজাইনাররা সুতি শাড়িতে জুড়েছেন নানান নকশা। ভিন্নতা আনতে শাড়ির আঁচল ও কুচিতে একই ডিজাইন করা হয়েছে। জমিনের ডিজাইন আবার আলাদা। পছন্দের শীর্ষে রয়েছে ফুলেল মোটিফ। এ ছাড়া থাকছে প্রিন্ট, জ্যামিতিক নকশা, জামদানি প্রিন্ট ও স্ট্রাইপ। এবারের পূজার সুতির শাড়িতে শেইডের ব্যবহারও বেশ চোখে পড়ছে। শাড়ির উপরে ও নিচে একই রংয়ের ২টি আলাদা শেইড ব্যবহার হয়েছে। প্রিন্টের শাড়িতে একটু জমকালোভাব আনতে চাইলে বেছে নিন সুতার নকশা করা পাড়ের শাড়ি। ভিন্নতা চাইলে নিতে পারেন বাটিকের শাড়ি। একরঙা পাড় বা পাড় ছাড়া ভেজিটেবল ডাইয়ের বাটিক শাড়ি এ দিনে বেশ মানাবে। ৬শ’ থেকে ১ হাজার ২শ’ ৫০ টাকার মধ্যেই পেয়ে যাবেন ষষ্ঠীর সুতির শাড়ি।

কোথায় পাবেন : প্রাইড টেক্সটাইল, পারফেক্ট, বি-প্লাস। এ ছাড়া কমবেশি সব শাড়ির দোকান ও দেশীয় ফ্যাশন হাউজে পাবেন ছাপা সুতি শাড়ি।

সপ্তমীতে একরঙা পাড়

এ দিনে বেছে নিতে পারেন কাতান, সিল্ক, অ্যান্ডি, তসর, মসলিন কিংবা কোটার শাড়ি। একরঙা শাড়িতে শুধু পাড়-আঁচল দিয়েই এখন করা হচ্ছে নানান এক্সপেরিমেন্ট। কাতান শাড়িতে কাতান পাড় তো থাকছেই। কিছু শাড়িতে আবার লেসের ব্যবহারেও বাড়তি সৌন্দর্য যোগ করেছে। সিল্ক, তসর বা মসলিন শাড়িতে প্যাচওয়ার্কের বেশ চোখে পড়ে। পাড়ে সুতার কাজ ছাড়াও এমব্রয়ডারি, স্ক্রিন প্রিন্টের সঙ্গে হাতের কাজ, জরি, পুঁতি বা চুমকির কাজও রয়েছে। কোটার শাড়িতে আলগা পাড় বসিয়েও ডিজাইন হচ্ছে। এ ধরনের পাড়ের শাড়িতে চওড়া লেসের ব্যবহার বেশ চোখে পড়ে। ডিজাইনে খানিকটা নতুনত্ব আনতে কিছু শাড়ির পাড়ে পাইপিন ও আলাদাভাবে তৈরি অন্য রংয়ের পাড়ও বসানো হয়েছে। সপ্তমীর জন্য উজ্জ্বল যে কোনো একরঙা পাড়ের শাড়ি বেছে নিন। ডিজাইনভেদে এ ধরনের শাড়ির দাম পড়বে সাড়ে ৩ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।

কোথায় পাবেন : টাঙ্গাইল শাড়ি কুটির, তাঁতঘর, কনিষ্ক ছাড়াও কমবেশি সব শাড়ির দোকানে।

অষ্টমীতে সাদা জমিন লাল পাড়

লাল-সাদা শাড়ি ছাড়া তো দুর্গাপূজার সাজই হয় না। অষ্টমীর দিন বেছে নিন লাল পাড়ের সাদা শাড়ি। শুধু পাড়েই নয়, আঁচলেও থাকবে লালের ছোঁয়া। বেছে নিতে পারেন জামদানি, সিল্ক বা গরদ শাড়ি। এসব শাড়িতে পাড় আর আঁচলটাই বেশি গুরুত্ব পাবে। তবে জমিনেও থাকতে পারে হালকা কাজ। গরদের শাড়িতে তেমন কোনো ডিজাইন হয় না। কাপড়টাই প্রধান আকর্ষণ। তবে সিল্কের শাড়িতে বেশ ডিজাইন বৈচিত্র্য চোখে পড়ে। পিওর ও অ্যান্ডি সিল্কের সাদা-লাল শাড়িতে থাকছে এমব্রয়ডারি, ছোট বিটস, চুমকি ও অ্যাপ্লিকের কাজ। কটন ও হাফসিল্ক দুই ধরনের জামদানিই এখন বেশ চলছে। বেছে নিতে পারেন লাল-সাদা জামদানি। শাড়ি ও ডিজাইনভেদে অষ্টমীর শাড়ির জন্য আপনাকে গুনতে হবে ৪ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা।

কোথায় পাবেন : সপুরা সিল্ক, মোল্লা সিল্ক, নবরূপা, টাঙ্গাইল শাড়ি কুটির ছাড়াও কমবেশি সব শাড়ির দোকানে।

নবমীতে জামদানি বা টাঙ্গাইল

নবমীতে পূজা, বেড়ানো আর দাওয়াত— সবকিছুতেই জামদানি বা টাঙ্গাইল শাড়ি তুলনাহীন। জামদানি শাড়িতে সোনালি বা রুপালি জরি সুতার কাজ আপনাকে দেবে গর্জিয়াস লুক। গতানুগতিক কটন জামদানির পাশাপাশি সিনথেটিক জামদানিও এখন বেশ চলছে। কিছু জামদানি শাড়ির পাড়ে এবার কোনো কাজ থাকছে না। যাতে ক্রেতারা তাদের পছন্দমতো লেস বসাতে পারেন। বৈচিত্র্য আনতে শাড়ির পাড়ে টেম্পলের কাজও করা হয়েছে। সুনিপুণ সুতার কাজ আর বাহারি ডিজাইনের টাঙ্গাইল শাড়ি আপনি অনায়াসে বেছে নিতে পারেন নবমীতে। টাঙ্গাইলের বিভিন্ন ডিজাইনের শাড়ির মধ্যে রয়েছে সুতি বালুচুরি, জুট সিল্ক, সুতি জামদানি, রেশম স্ট্রাইপ, টিস্যু জুট সিল্ক, সিল্ক কাঁথাস্টিচ, সফট সিল্কসহ বাহারি শাড়ি। কাজ ও মানভেদে জামদানির দাম পড়বে ৪ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা। আর টাঙ্গাইল শাড়ি ১ হাজার ৪শ’ থেকে ১৮ হাজার ৫০০ টাকা।

কোথায় পাবেন : টাঙ্গাইল শাড়ি কুটির, কুমুদিনী, জামদানি ঘর, মায়াসির ও আড়ংসহ আরও অনেক জায়গায়। এ ছাড়াও বেইলি রোড ও ধানমন্ডি হকার্সের শাড়ির দোকানগুলোতে তো পাবেনই।

দশমী হোক জমকালো

পূজার শেষ দিনে গর্জিয়াস লুক তো চাই-ই। সেদিকে লক্ষ রেখে বাজারে এসেছে চমৎকার নকশা করা শাড়ি। কোনোটিতে শুধু পাড়জুড়ে দিয়ে আবার কোনোটিতে পাড়ের সঙ্গে এমব্রয়ডারি, সিকোয়েন্স, পুঁতি বা কারচুপির কাজ করা হয়েছে। জমকালোভাব আনতে কিছু শাড়িতে ব্যবহার হয়েছে অ্যান্টিক ও জুয়েলারি স্টোন। শাড়িজুড়ে কারচুপি আর সিকোয়েন্সের কাজের সঙ্গে জুয়েলারি স্টোনের ব্যবহার শাড়িকে করেছে দারুণভাবে রাতের উৎসবে পরার উপযোগী। এছাড়া বেছে নিতে পারেন ক্রেপ বা নেটের শাড়ি। দশমীর মূল আনুষ্ঠানিকতা রাতে। তাই বেছে নিন গাঢ় কোনো রং। তবে রং নির্বাচনের সময় অবশ্যই গায়ের রংয়ের বিষয়টি মাথায় রাখবেন। নকশাভেদে এ ধরনের শাড়ির দাম পড়বে ৬ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা।

কোথায় পাবেন : রঙ, ড্রেসিডেল, ভাসাবি, জ্যোতি শাড়ি, মনেরেখো। এ ছাড়া অভিজাত শাড়ির দোকানগুলোতেও পাবেন।

ছবি কৃতজ্ঞতায় : অঞ্জন’স, বি প্লাস, টাঙ্গাইল শাড়ি কুটির, রং ও নগরদোলা।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close