দুনিয়া জুড়ে

প্রধানমন্ত্রীর সংবর্ধনার চেক বাউন্সড

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে হল ভাড়া বাবদ হোটেল হিলটনকে দেওয়া ২০ হাজার ডলারের চেক বাউন্সড হয়েছে। আর ওই সংবর্ধনার জন্য সংগৃহীত এক লাখ ডলারেরও বেশি অর্থ খরচের হিসাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নতুন করে ছড়িয়ে পড়ছে। দ্বন্দ্বের কেন্দ্রে আছেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক নিজাম চৌধুরী।

ড. সিদ্দিকুর রহমান খরচের কোনো হিসাব দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন নেতাকর্মীরা। এছাড়াও এমন অভিযোগও উঠেছে, প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করিয়ে দেওয়া ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মঞ্চে বসতে দেওয়ার বিনিময়েও নাকি গোপনে চাঁদাবাজি করেছেন ড. সিদ্দিকুর রহমান।

এসবের সাথে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী  শীর্ষ নেতাদের প্রতি অসৌজন্যমূলক ব্যবহারের কারণে যুক্তরাষ্ট্র আওয়মীলীগের সভাপতির উপর স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নাখোশ” এমন খবর চাউর  হওয়ার পর  অভ্যন্তরীণ দলীয় কোন্দল এখন বিষ্ফোরণের অপেক্ষায়।

যুক্তরাষ্ট্র আওয়মীলীগের আভ্যন্তরীণ এই দ্বন্দ্বের জের ধরে ৪ অক্টোবর শুক্রবার জ্যাকসন হাইটসের পালকি সেন্টারের এক কক্ষে সভাপতির সফলতার সংবর্ধনা; আর, পাশের কক্ষেই  সভাপতির  স্বেচ্ছারিতার অভিযোগ এনে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের লক্ষাধিক ডলারের খরচের হিসাব চেয়ে সভা হয়েছে।

এদিকে সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবর্ধনার জন্য নির্ধারিত হোটেল হিলটনকে দেওয়া ২০ হাজার ডলারের চেক বাউন্সড হয়েছে। এই চেকটিও দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান। পরে শুক্রবার সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিজাম চৌধুরী নিজে গিয়ে সেই ২০ হাজার ডলার পরিশোধ করে এসেছেন।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের জন্য অন্যবারের মত এবারে সংগঠনের নেতাকর্মীদের কাছ থেকে চাঁদা না তুলে সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান ও সিনিয়র যুগ্ম সাধারন সম্পাদক নিজাম চৌধুরী তাদের যৌথ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১ লাখ ডলার (একেকজন ৫০ হাজার ডলার করে) দেবেন বলে সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এর বাইরে নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিষ্ঠান সোনালী এক্সচেঞ্জ ৫ হাজার ডলার আর্থিক অনুদান দেয়।

প্রধানমন্ত্রীর সংবর্ধনার জন্য সংগৃহীত এই ১লাখ ৫ হাজার ডলারই মূলত পাবলিক মানি– এমন দাবি করছেন  নিজাম চৌধুরীসহ দলসংশ্লিষ্ট একটি পক্ষ। আর সেকারণেই তারা এই অর্থের হিসেব চাইছেন সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানের কাছে। কিন্তু সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান হিসেব দিতে বাধ্য নন বলে নাকি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। সিদ্দিকুর রহমান ও নিজাম চৌধুরী দুজনে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ খাতের একটি ব্যবসায়ের যৌথ অংশীদার বলেই নিশ্চিত হওয়া গেছে। সংবর্ধনার ব্যয়ভারও তাই যৌথভাবে বহন করবেন বলেই সিদ্ধান্ত নেএই দুই নেতা।

সিদ্দিকুর রহমানের কাছে  হোটেল হিলটনকে দেয়া চেক বাউন্সড হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে সিদ্দিকুর রহমান বলেন, এটা অমার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টের একটা  চেক। অন্য অ্যাকাউন্ট থেকে ভুল করে চেক ইস্যু করায় এটা বাউন্সড হয়েছে। এটা তেমন বড় কোনো বিষয় নয়। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়ব্যয়ের হিসেব নিয়ে দলের ভিতরে অভিযোগ প্রশ্নে সিদ্দিকুর রহমান বলেন, কারো কাছ থেকেই চাঁদা নেওয়া হয়নি যে হিসাব দিতে হবে। যারা হিসাব চাচ্ছেন তাদেরকে জিজ্ঞাসা করুন, তারা কত চাঁদা দিয়েছেন?

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের প্রতি অবহেলা অভিযোগ উঠেছে, দল ও সরকারে অবস্থানের বিষয়টি বিবেচনায় অতি উৎসাহিত হয়েই নাকি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের অবহেলা করা হয়েছে। নাগরিক সংবর্ধনাতেও তাদেরকে অনেকটাই উপেক্ষা করা হয়েছে আয়োজকদের পক্ষ থেকে। প্রধানমন্ত্রীও এজন্য চরম নাখোশ হয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ট একটি সূত্র এ তথ্য জানিয়ে বলেছে, নাগরিক সংবর্ধনায় পৌছে প্রধানমন্ত্রী প্রথমেই আয়োজকদের এই বলে তিরস্কার করেন, জোট নেতাদেরকে সময়মত আনার ব্যবস্থা এবং আর পৌঁছানোর আগেই মঞ্চে আসন দেওয়া কেন হয়নি? পরে অনুষ্ঠান সঞ্চালক দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদেরকে পরিচয় না করিয়ে দেওয়ায় এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর ইঙ্গিতেই দলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিজাম চৌধুরী নিজে বক্তৃতার সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতা আমির হোসেন আমু ও তোফায়েল আহমেদসহ জোট নেতা, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও মঈনুদ্দিন খান বাদলের মঞ্চে উপস্থিতির কথা জানান দেন। তবে তিনিও রাশেদ খান মেননের নামটি জানাতে ভুল করেন।

প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং ক্ষুব্ধ হয়েছেন মর্মে খবর চাউড় হয়ে যাবার পর দলের ভেতরে সভাপতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ এখন চরমে উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে, স্রেফ প্রধানমন্ত্রীর অনুগ্রহ পেতে ব্যতিব্যস্ত হয়ে তার সফরসঙ্গী নেতাদের বেমালুম ভুলে গেছেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতারা। আওয়ামীলীগের তোফায়েল আহমেদ ও আমির হোসেন আমুর মত নেতাদের কোনো খোঁজ রাখার প্রয়োজনটুকুও বোধ করেন নি তারা। এছাড়া সংবর্ধনায় বক্তব্যে সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বিএনপি নেত্রীর কালো টাকা সাদা করার কথা বলতে গিয়ে বেগম জিয়া তিন-তিনবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী বলে বসেন। এ কারণে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা চরম ক্ষুব্ধ হন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেই এ নিয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদও ওঠে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close