রাজনীতি

মির্জা ফখরুলের না বলা মনের কথা

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা যাঁরা শিক্ষিত মানুষ বা এলিট শ্রেণী, তাঁরা মনে হয় বাংলাদেশের জনগণের নাড়ির স্পন্দন ধরতে পারি না। এর ফলে আমাদের ভাবনা আর সাধারণ মানুষের চিন্তার মিল হয় না। সাধারণ মানুষ যা ভাবে তারই প্রতিফলন ঘটে বিভিন্ন নির্বাচনে। মির্জা ফখরুল দুই বড় দলের মিল অমিলসহ নানা বিষয়ে কথা বলেন। সাক্ষাৎকারে দুই মহাসচিবের সঙ্গে পর্দার আড়ালে সংলাপের প্রসঙ্গ উঠে আসে।

সাধারণ মানুষ সাধারণভাবে কোনো ভুল করে না। তারা তুলনা করে। বিএনপির আমলে কেমন ছিলাম, এখন আমরা কেমন আছি। এই তুলনা করেই ভোটটা দেয়। ১০ টাকা চালের কেজি খাওয়ানোর কথা বলে এখন ৪০ টাকা চলছে। কুইক রেন্টালে বিরাট খরচা হলো। অথচ লোডশেডিং কমছে না। মানুষ নতুন বাড়িঘর করলে আর বিদ্যুৎ পাচ্ছে না। পদ্মা সেতুর মতো দুর্নীতি বিএনপি আমলে হয়েছিল কি না, সেটা মানুষ চিন্তা করে। একটি জাতীয় দৈনিককে দেয়া সাক্ষাতকারে তিনি এসব কথা বলেন।

এ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, আমি দেশে ছিলাম না। পত্রিকায় দেখেছি একটা আলোচনার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল। এর চেয়ে বেশি কিছু জানি না। কিন্তু বিষয়টি আপনার না জানার কথা নয়, উদ্যোগটা কাদের দিক থেকে ছিল এমন প্রশ্নের উত্তরে বলেন, সম্ভবত প্রাথমিক পর্যায়ে সরকারি দল থেকেই উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। ড. গওহর রিজভীর বাসভবনে এক বা দুই দফা বৈঠক কি সত্যি হয়েছিল? এ প্রশ্নে তিনি বলেন, আমি তেমনটাই শুনেছি।

সম্ভবত তাতে দুই মহাসচিবের বৈঠকের বিষয়টি প্রাধান্য পাচ্ছিল। ওই আলোচনা ভেঙে যাওয়ার জন্য আওয়ামী লীগকেই দায়ী করেন মির্জা ফখরুল। বলেন, আমরা যেকোনো স্থানে যেকোনো সময় আলোচনা চাই। বাংলাদেশের গণতন্ত্রের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইউরোপ-ইংল্যান্ডে এক দিনে গণতন্ত্র আসেনি। ২৫০-৩০০ বছর লেগেছে। আমাদের একটা ভঙ্গুর ও অনিখুঁত গণতন্ত্র। কিন্তু তা অত্যন্ত প্রাণবন্ত, গতিময় ও ক্রিয়াশীল। সমগ্র বাংলাদেশি সমাজে একটি গণতান্ত্রিক চাহিদা আছে। একটা আকুতি আছে। তবে সব সময় সরকারি দলকেই সঠিক ভূমিকায় নেতৃত্ব দিতে হবে।

বিএনপির সংগ্রাম কমিটির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংগ্রাম কমিটি অহিংস ও নিয়মতান্ত্রিক হবে। এটা আমাদের চেয়ারপারসন একান্ত বাধ্য হয়েই বলেছেন। ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের পর থেকেই আমরা বলি এর ফল শুভ হবে না। বিগত কয়েক মাসে আমরা কঠোর কর্মসূচি দিইনি। কঠোর কর্মসূচি না দেয়া বিএনপির উদারতা না অপরাগতা সে প্রশ্নে মির্জা ফখরুল বলেন, এটা অপারগতা নয়। এটা আওয়ামী লীগ ও তার মিত্রদের ভ্রান্ত ধারণা। আমরা ইতিবাচক ও সহযোগিতার রাজনীতি করতে চেয়েছি। তদুপরি আমরা সংঘাত এড়াতে সচেষ্ট।

প্রধানমন্ত্রী লন্ডনে বলেছিলেন সংসদ বিলোপ করে দেওয়া হবে। ছোট মন্ত্রিসভা হবে। ইচ্ছা করলে বিরোধী দলের লোকও আসতে পারে। সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ নির্বাচন করা হবে। কিন্তু দেখা গেছে প্রধানমন্ত্রী আন্তরিক নন। নিজের কথা নিজেই বদলাচ্ছেন। আমাদের কথাই ছিল নির্দলীয় সরকারের যেকোনো প্রস্তাব এলে তা খতিয়ে দেখব, অনমনীয় থাকব না। আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে একটা পথ বেরিয়ে আসবে। এখনো আমাদের নেত্রী সে কথাই বলে চলেছেন।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close