Featuredবানিজ্য

পিয়াজের বাজারে সিন্ডিকেটের থাবা

সিন্ডিকেটের কারসাজিতেই অস্থির হয়ে উঠেছে পিয়াজের বাজার। বাজারে পিয়াজের কমতি নেই। আড়তেও সাজানো বস্তায় বস্তায় পিয়াজ। তারপরও সিন্ডিকেটের থাবার ১ দিনের ব্যবধানে ২৫ টাকা বেড়ে হয়েছে ১০০ টাকা কেজি। অবশ্য ২ থেকে ৩ সপ্তাহ আগ থেকেই তৎপর হয়ে ওঠেন সিন্ডিকেট। সরকারও তা আঁচ করতে পেরে টিসিবি’র মাধ্যমে পিয়াজ বিক্রি শুরু করে। তারপরও বাজার দর ধরে রাখা যায়নি।

সূত্র মতে মূলত ঈদকে সামনে রেখেই একটি সিন্ডিকেট টার্গেট করে পিয়াজকে। এ অবস্থায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের দফায় দফায় বৈঠক ও কোন উদ্যোগই কাজে আসছে না বাজার নিয়ন্ত্রণে। গতকাল রাজধানীর কাওরানবাজার, মোহাম্মদপুর টাউন হল কাঁচাবাজার, মিরপুর ১ নম্বর শাহ আলী মার্কেটসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে  দেখা গেছে, দেশী পিয়াজের পাশাপাশি বেড়েছে আমদানি করা পিয়াজের দামও।

বাজারগুলোতে প্রতি কেজি দেশী পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়, আমদানি করা ভারত ও মিয়ানমারের পিয়াজ ৮০ থেকে ৯০, চীনা পিয়াজ ৭০ থেকে ৭৫ টাকায়। কাওরানবাজারে পাইকারি প্রতি পাল্লা (৫ কেজি) দেশী পিয়াজ ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকা (৯৮ টাকা কেজি), ভারত ও মিয়ানমারের পিয়াজ ৪৩০ টাকা (৮৬ টাকা কেজি), চীনের পিয়াজ ৩৫০ টাকা (৭০ টাকা কেজি) দরে বিক্রি হচ্ছে। পিয়াজের বাজার অস্থিরতার জন্য সিন্ডিকেটটি পিয়াজের সবচেয়ে বড় ভরসা ভারতে পিয়াজের উৎপাদনের ঘাটতি ও বাজারে সরবরাহ কম থাকার কথা প্রচার করে।

কিন্তু মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা মানবজমিনকে জানিয়েছেন, ভারতের বাজারে নতুন পিয়াজ আসা শুরু হয়েছে। এজন্য দামও কমছে। ভারত সরকার পিয়াজের রপ্তানি মূল্য আগের চেয়ে বাড়ালেও সরবরাহ বেড়েছে। তারা বলছেন ঈদকে সামনে রেখে পিয়াজ রপ্তানিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। শুধু ভারত নয়, চীন, পাকিস্তান, মিয়ানমার থেকেও পিয়াজ আসছে। কিন্তু এর প্রভাব বাংলাদেশের বাজারে কেন পড়ছে না তা নিয়ে উদ্বিগ্ন সংশ্লিষ্টরা।

শুধু তাই নয়, দেশে উৎপাদিত পিয়াজ অবশিষ্ট যা ছিল ঈদ উপলক্ষে তা-ও বাজারে আসছে। সব মিলিয়ে সরবরাহ আগের চেয়ে অনেক বাড়লেও দেখা গেছে খুচরা বাজারে এর কোনই প্রভাব পড়েনি। কাওরানবাজারের ব্যবসায়ী আবদুল খালেক জানান, উত্তরাঞ্চল থেকে এখন পিয়াজ বাজারে আসছে। কিন্তু দাম কমছে না। কারণ সামনে ঈদ। এ সময় পিয়াজের চাহিদা থাকবে ব্যাপক। তাছাড়া ঈদকে সামনে রেখে আড়তদাররা আমদানি করা পিয়াজ সরবরাহ করছেন কম। করলেও চাহিদার তুলনায় তা যথেষ্ট নয়। এ কারণে দাম বেড়েই চলেছে। তিনি বলেন, চলতি সময়ে সবচেয়ে কম দামে বিক্রি হচ্ছে চীন থেকে আমদানি করা পিয়াজ। বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৬৫ থেকে ৭০ টাকা। আকারে বড় হলেও লাল রঙের এই পিয়াজে ঝাঁঝ ও স্বাদ কম। তাই ক্রেতাদের আগ্রহ নেই এতে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আমদানি শাখা সূত্র জানিয়েছে, ভারত থেকে প্রতি টন পিয়াজ আমদানি হচ্ছে ৬৯২ ডলার দরে। সে হিসাবে প্রতি কেজি পিয়াজের দাম পড়ছে ৫৫ টাকা। এর মধ্যে আমদানি খরচ, প্রসেস লস ও অন্যান্য খরচ বাদ দিয়ে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পিয়াজ ৬৫ টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়। কিন্তু বাজারগুলোতে এই পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকায়। এজন্য ঈদকে সামনে রেখে দেশের আমদানিকারকদের অতি মুনাফার প্রবণতাকে দায়ী করছেন তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৩০শে সেপ্টেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মুর্তজা রেজা চৌধুরীর সভাপতিত্বে সচিবালয়ে এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ঈদকে সামনে রেখে আবশ্যক পণ্য পিয়াজসহ অন্যান্য পণ্যের সরবরাহ ও দাম স্থিতিশীল রাখতে বেশ কিছু সুপারিশ ও নির্দেশনা জারি করে। এরই অংশ হিসেবে বাজারগুলোতে গোয়েন্দা তদারকের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। আগামী ঈদে যাতে পিয়াজের বাজার অস্থিরতা না ছড়ায় তার জন্য এই ব্যবস্থা। কিন্তু গোয়েন্দা তদারকেও এক্ষেত্রে কোন কাজে আসছে না।

অভিযোগ রয়েছে সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতা এক্ষেত্রে অনেকাংশে দায়ী। ঈদকে সামনে রেখে ইতিমধ্যে ভারত ও মিয়ানমার থেকে ১৩০০ টন পিয়াজ আমদানি করা হয়েছে বলে টিসিবি’র প্রধান তথ্য কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবীর মানবজমিনকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। ঈদ উপলক্ষে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে পিয়াজের চালান এসে পৌঁছেছে। খোলাবাজারে নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি চলবে ১৪ই অক্টোবর পর্যন্ত। পিয়াজ আমদানিকারকরা জানিয়েছেন, ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে পিয়াজ আমদানি করা হলেও তা চাহিদা মেটাতে পারছে না। দেশে উৎপাদিত পিয়াজ বাজারে আসবে অন্তত দেড় মাস পর। সে হিসাবে ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ দাম স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে মনে করছেন তারা।

সূত্র: মানবজমিন

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close