Featuredইসলাম থেকে

মধ্যেপ্রাচ্যের সাথে মিল রেখে লন্ডনেও পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদ-উল-আযহা

সুমন আহমদ: মহান আল্লাহতায়ালার নির্দেশে হযরত ইব্রাহীম (আ:) এর ত্যাগের মহিমায় চির ভাস্বর পবিত্র ঈদ-উল আযহা। এরই ধারাবাহিকতায় বিপুল উৎসাহে যথাযোগ্য মর্যাদা আর ধর্মীয় ভাব গম্ভীর পরিবেশে লন্ডনেও পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদ-উল-আয়হা। প্রতিবারের মতো মধ্যেপ্রাচ্যের সাথে মিল রেখে আজ লন্ডনেও পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদ-উল-আযহা।

লন্ডনের সবচেয়ে বৃহৎ প্রথম ঈদ জামাত অনুষ্টিত হয় ইষ্ট লন্ডন মসজিদে সকাল  ৮টায়। পরপর আরো ৫টি জামাত অনুষ্টিত হয়। এছাড়াও ব্রিকলেন জামে মসজিদ, দারুল উম্মাহসহ অনেক মসজিদে ঈদের কয়েকটি জামাত অনুষ্টিত হওয়ার খবর পাওয়া যায়্। ঈদের জামাত শেষে অনুষ্ঠিত বিশেষ মুনাজাতে সমগ্র মুসলিম উম্মাসহ দেশ-জাতির মঙ্গল ও সমৃদ্ধি এবং দেশে-দেশে নিপীড়িত-নির্যাতিত মুসলমানদের রক্ষায় মহান আল্লাহতায়ালার রহমত কামনা করা হয়।

তবে ঠান্ডা আবহাওয়ার পূর্বাভাসের কারণে এবারে ঈদের জামাত খোলা মাঠের পরিবর্তে মসজিদের ভেতরে নামাজের ব্যবস্তা করা হয়। তারপরও কোথাও কোথাও মসজিদের বাইরেও নামাজের ব্যবস্থা করতে হয়েছে।

রোজার ঈদের মতো ততটা জাকজমকপূর্ণ না হলেও কোরবানীর ঈদেও লন্ডন ছিল উৎসবমুখর। তবে ওয়ার্কিং ডে থাকায় অনেক প্রবাসী এবার ঈদেও নামাজ পড়তে পারেননি। অনেককেই ঈদের নামাজ আদায় করে কর্মস্থলে যোগ দিতে দেখা যায়। আবার যারা কর্মস্থল থেকে ছুটি পেয়েছেন বা যাদের ছুটি ছিলো তারা স্বপরিবারে, অনেকে বন্ধু-বান্ধব নিয়ে ঘনিষ্টজনদের বাসা-বাড়িতে গিয়ে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এছাড়া প্রবাসীরা ফোনে বাংলাদেশে ফোন করে স্বজনদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর ঈদ শুভেচ্ছা

ব্রিটেনসহ বিশ্বের মুসলমান সম্প্রাদায়ের প্রতি পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। সংবাদমাধ্যমগুলোতে পাঠানো এক বিবৃতিতে মুসলিম সম্প্রাদায়ের প্রতি ক্যামেরন এই ঈদ শুভেচ্ছা জানান।

তার বিবৃতিতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্রিটেনসহ বিশ্বের মুসলিম সম্প্রাদায়ের প্রতি পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানাই আমি’। তিনি বলেন, ‘বছরের এই সময়টিতে আমরা দেখতে পাই, বিশ্বের সব বয়সের মুসলমানরা নিজেদের সমস্যা পেছনে রেখে অন্যের শুভকামনায় সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থণারত থাকেন। ক্যামেরন বলেন, সৃষ্টিকর্তার প্রতি ব্রিটেনের তিন মিলিয়নের কাছাকাছি মুসলমানের আনুগত্য, চ্যারিটি কারযক্রম ও ত্যাগের মনোভাবের প্রশংসা করি আমি।

ক্যামেরন আরো বলেন, আমি বিশ্বাস করি বিভিন্ন ধর্ম বিশ্বাসীদের প্রতিষ্ঠানিক অবদান ও মূল্যবোধের কারণে আমাদের দেশ একটি শক্তিশালী অবস্থান অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি মুসলিম, খ্রিষ্টান, ইহুদি, শিখ ও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কথা উল্লেখ করেন। ক্যামেরন বলেন বছরের শেষে এসে আমরা স্মরণ করি ব্রিটেনের উন্নয়নে মুসলিম কমিউনিটির অব্যাহত অবদানের কথা।

তিনি বলেন, এই বছর আমি মিলিত হয়েছি মুসলিম ব্যবসায়ী, ধর্মীয় নেতা, সরকারি কর্মকর্তাসহ পরিশ্রমী পরিবারগুলোর সাথে। যারা আমাদের দেশের উন্নয়নে বিরাট ভমিকা রাখছেন’। ক্যামেরন বলেন, আমি গর্ববোধ করি এই ভেবে যে, আমি এমন একটি দেশের প্রধানমন্ত্রী, যে দেশে ভিন্ন ধর্ম ও ব্রাকগ্রাউন্ড থেকে আসা নাগরিকরা স্বাধীনভাবে নিজেদের ধর্ম চর্চা করছেন এবং দেশের ভবিষ্যত লক্ষ্য অর্জনে অংশ নিচ্ছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আসন্ন নতুন বছরের শুরুতে আমাদের নতুন আশা, আমরা ঐসব সমস্যা মোকাবেলায় সক্ষম হবো, যেসব সমস্যায় মুসলমানসহ অন্যান্যরা ভুক্তভোগী। আমি এই ভেবে আনন্দিত যে, বর্তমান সরকার তাদের প্রতিশ্রুত জাতীয় আয়ের ০.৭ ভাগ পৃথিবীর গরীব জনগোষ্ঠির সাহায্যে ব্যবহার করতে পারছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তার শুভেচ্ছাবানীর শেষে ঈদ মোবারক’ উচ্চারণ করে সব মুসলমানদের জন্যে আনন্দ ও শান্তিপূর্ণ উৎসব কামনা করেন।

 

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close