Featuredরাজনীতি

মুখোমুখি সংঘর্ষের দিকে আওয়ামী লীগ-বিএনপি

শীর্ষবিন্দু নিউজ: নির্বাচন সামনে রেখে মুখোমুখি প্রধান দু’দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। ঈদের পরে মাঠ দখলের প্রস্তুতি নিচ্ছে দু’দলই। নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে চলমান টানাপড়েনের মধ্যে আগামী ২৫শে অক্টোবর ঢাকায় সমাবেশ ও সারা দেশে অবস্থান কর্মসূচির প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট।

অন্যদিকে মাঠ নিজেদের দখলে রাখার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোন ঘোষণা না দিলেও আগামীকাল দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। ইতিমধ্যে সারা দেশে স্থানীয় নেতাকর্মীদের কাছে মাঠে থাকার জন্য বার্তা পাঠানো হয়েছে।

দলীয় সূত্র জানিয়েছে, ২৪শে অক্টোবরের পর বিরোধী দল মাঠ দখলের যে ঘোষণা দিয়েছে, তার বিপরীতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও মাঠে থাকবেন। ১৮ দলীয় জোট সূত্র জানিয়েছে, ২৪শে অক্টোবরের পর নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়ে কোন স্পষ্ট ঘোষণা না এলে ২৫শে অক্টোবর থেকে চূড়ান্ত আন্দোলন শুরু হবে। এদিন ঢাকা থেকে বিরোধী নেতা ও ১৮ দলীয় জোটনেত্রী খালেদা জিয়া চূড়ান্ত দিকনির্দেশনা দেবেন। এদিন ঢাকায় সমাবেশ করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে সারা দেশে অনুরূপ কর্মসূচি পালিত হবে।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, এ দিন হরতাল, সর্বাত্মক অবরোধ ও অসহযোগের ডাক দেয়া হতে পারে। মাঠ দখলে রাখতে চায় আওয়ামী লীগ: ২৪শে অক্টোবর থেকে নির্বাচনকালীন সরকার থাকাকালে রাজনৈতিক ময়দান নিজেদের আয়ত্তে রাখার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে আওয়ামী লীগ। ইতিমধ্যে দলের নেতাকর্মীদের মাঠে থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। জনগণের জানমাল রক্ষায় এবং নিরাপত্তার স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সদস্যদের সহায়তার নামে তারা রাজপথে অবস্থান করবেন। এ ক্ষেত্রে প্রধান বিরোধী দলের অবস্থান ঠিক করে নিজেদের কর্মপন্থা ঠিক করবে ক্ষমতাসীন দল।

দলীয় সূত্র জানায়, বিরোধী দল ২৫শে অক্টোবর থেকে রাজপথে অবস্থান করলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও অবস্থান নেবেন। ঈদের পর থেকে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়কেন্দ্রিক নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকারও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া জানিয়েছেন, বিরোধী দলকে অনৈতিক কোন কর্মসূচি দিয়ে জনগণের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে দেয়া হবে না। নগর আওয়ামী লীগ সূত্র জানিয়েছে, ইতিমধ্যে বর্ধিত সভা করে ওয়ার্ড নেতাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে ঈদের পর থেকে মাঠে সক্রিয় থাকার। এ জন্য ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ইউনিটভিত্তিক কমিটি গঠন করা হয়েছে। সারা দেশে একই ধরনের কমিটি গঠন করা হচ্ছে।

এদিকে দলের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠক বসছে। এ বৈঠকে দলীয় পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। বৈঠকেই ২৪শে অক্টোবর-পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ ও দলীয় কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হবে। ২৫শে অক্টোবর ১৮ দলের ঢাকা ঘোষণা আসছে: নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবিতে চূড়ান্ত আন্দোলনে প্রস্তুত বিএনপি। আগামী ২৫শে অক্টোবর চূড়ান্ত আন্দোলনের সূচনা ঘটাতে রাজধানীসহ সারাদেশে সমাবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮দল। কেন্দ্রীয় সমাবেশটি হবে ঢাকায়। সে সমাবেশ থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন ও ১৮দলীয় নেতা খালেদা জিয়া চূড়ান্ত আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। যাকে বিরোধী নেতা ‘ঢাকা ঘোষণা’ হিসেবে দেখছেন। ২৫শে অক্টোবর ঢাকা সমাবেশের জন্য নিয়ম অনুযায়ী ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমতি চেয়েছে বিএনপি।

ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবদুস সালাম বলেন, সরকার অনুমতি দিক না দিক চূড়ান্ত আন্দোলনের সময়ে এসে আমাদের আর পিছু হঠার সুযোগ নেই। যে কোন পরিস্থিতিতে এ সমাবেশ করতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮দল। ওদিকে নির্দলীয় সরকারের চূড়ান্ত আন্দোলন বেগবান ও একদলীয় নির্বাচন প্রতিহত করতে সর্বদলীয় প্রতিরোধ সংগ্রাম কমিটি গঠনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ২৪শে অক্টোবরের মধ্যেই সারাদেশের কেন্দ্রভিত্তিক এ কমিটি গঠন সম্পন্ন হবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় বরিশাল সমাবেশ স্থগিত করা হয়েছে। তবে বিরোধী দলের অভিযোগ চূড়ান্ত আন্দোলন দমাতে সারাদেশে বিরোধী নেতাদের বাসাবাড়িতে সাদা পোশাকধারী আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা হানা দিচ্ছেন। বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবদুস সালাম ঢাকা সমাবেশের অনুমতি চেয়ে একটি আবেদন করেছেন।

সমাবেশের সম্ভাব্য স্থান হিসাবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, পল্টন ময়দান অথবা নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে তিনটি স্পটের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিএনপি নেতারা জানান, পুলিশ অনুমতি দিক না দিক ২৫শে অক্টোবর সমাবেশ হবেই। নির্ধারিত স্পটে অনুমতি না পেলে বাইরে যে কোন জায়গায় এ সমাবেশ হবে। এদিকে সমাবেশ সফল করতে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব জোটের শরিক দল, বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনকে সর্বাত্মক প্রস্তুতির নির্দেশ দিয়েছে। ঢাকা সমাবেশ সফল করতে এবার ঢাকা মহানগর বিএনপি ও অঙ্গদলকে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন খালেদা জিয়া। সে অনুযায়ী প্রতিটি সংগঠন আলাদাভাবে অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করে প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ওদিকে ৭ই অক্টোবর রাজধানীতে স্বেচ্ছাসেবক দলের বর্ধিত সভায় নেতাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন সংগঠনটির শীর্ষ নেতৃত্ব। দলীয় সূত্র জানায়, আন্দোলনের ক্ষেত্রে সামপ্রতিককালের ধারাবাহিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে কড়া নির্দেশ দেয়া হয়েছে মহানগর নেতৃবৃন্দকে। সেই সঙ্গে ঢাকাসহ রাজধানীর পার্শ্ববর্তী ৬ জেলার ১৮দল নেতাকর্মীদেরও সমাবেশে অংশ নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে সরকার রাজধানীতে ঢুকতে বাধা দিলে রাজধানীর প্রতিটি প্রবেশমুখ ব্লক করে দেয়ারও ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আকবর খন্দকার জানান, রাজধানীর পাশাপাশি ২৫শে অক্টোবর প্রতিটি জেলা সদরে সমাবেশ হবে। কেন্দ্র থেকে খালেদা জিয়া যে নির্দেশনা দেবেন সারাদেশে একযোগে তা বাস্তবায়ন করবে ১৮দল। ঢাকা ঘোষণায় কি কর্মসূচি আসছে তা কৌশলগত কারণে এখনই প্রকাশ হচ্ছে না। তবে সম্ভাব্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- ঢাকা ঘেরাও, রেল-সড়ক ও নৌপথ অবরোধের মাধ্যমে সারাদেশকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া, স্বেচ্ছা কারাবরণ, লাগাতার হরতাল ও অসহযোগ।

আগামী ২৪শে অক্টোবরের আগে জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশনে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার পুনর্বহাল বা নির্বাচনকালীন কোন নিরপেক্ষ সরকার গঠনে সরকার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিলে ২৫শে অক্টোবর শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ঘোষণার মাধ্যমে সে প্রস্তাবে সাড়া দেবে বিরোধী দল।

ওদিকে বিএনপি কেন্দ্রীয় দপ্তর সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে সরকার নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর সংগ্রাম কমিটি গঠনের কথা থাকলেও পরিস্থিতি বিবেচনা করে সেটা এগিয়ে আনা হয়েছে। গত ৭ই অক্টোবর রাতে দলের সাংগঠনিক সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠক করেন চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বৈঠকের পর ৯ই অক্টোবর সারাদেশে জেলা ও মহানগর নেতৃত্বের কাছে শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে নির্দেশনামূলক একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে, একদলীয় নির্বাচন প্রতিহত করতে সারাদেশে ২৪শে অক্টোবরের মধ্যেই প্রতিটি ভোটকেন্দ্র ভিত্তিক ‘একদলীয় নির্বাচন প্রতিরোধ সংগ্রাম কমিটি’ গঠন করে কেন্দ্রীয় দপ্তরে তালিকা পাঠানোর নির্দেশও দেয়া হয়েছে।

দলীয় সূত্র জানায়, প্রতিটি এলাকার ১৮দলীয় নেতৃবৃন্দ, আন্দোলন ইস্যুতে সমমনা রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, পেশাজীবীসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সমন্বয়ে সে কমিটি গঠন করতে বলা হয়েছে। কমিটিতে একজন আহবায়ক, একজন সদস্য সচিব এবং অন্যরা সদস্য থাকবেন। ৫ই অক্টোবর সিলেট সমাবেশে সর্বদলীয় সংগ্রাম কমিটি গঠনের আহ্বান জানান বিরোধী নেতা খালেদা জিয়া। পরদিন ৬ই অক্টোবর মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার দাশের বাজার হাইস্কুল ভোট কেন্দ্রেই সর্বদলীয় সংগ্রাম কমিটি গঠন করা হয়। প্রধান অতিথি বিএনপি দলীয় মহিলা এমপি শাম্মী আক্তার উপস্থিত থেকে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তৈমুজ আলীকে আহ্বায়ক করে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট এ কমিটি গঠন করেন।

ওদিকে সিলেট সমাবেশ ও ঢাকায় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে একদলীয় নির্বাচন প্রতিরোধে সর্বদলীয় সংগ্রাম কমিটি গঠনে খালেদা জিয়ার আহ্বানের পর জোটের শরিক দলগুলো তাদের প্রতিটি ইউনিটে সে কমিটিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়ে আন্দোলনের অংশগ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন একাধিক শরিক দলের কেন্দ্রীয় নেতা। বগুড়া-৪ আসনের এমপি ইঞ্জিনিয়ার মোস্তফা আলী মুকুল, বরিশার দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আকন আবদুল কুদ্দুস, যুবদল ঢাকা মহানগর (উত্তর) সম্পাদক এসএম জাহাঙ্গীর, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সৈয়দ সাদাত আহমেদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসাংগঠনিক সম্পাদক মুখলিছুর রহমানসহ একাধিক তৃণমূল নেতা জানান, খালেদা জিয়ার আহ্বানের পরপরই কাজ শুরু করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের পাশাপাশি এলাকার গ্রহণযোগ্য লোকদের সমন্বয় ঘটানো হচ্ছে কমিটিতে। ভোটার সংখ্যা অনুযায়ী কমিটি হবে। আগামী ২৭শে অক্টোবর থেকে সংগ্রাম কমিটির কার্যক্রম দেখতে পাওয়া যাবে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close