স্বদেশ জুড়ে

জেদ্দায় শিডিউল বিপর্যয়ে বিমান: চরম দুর্ভোগে ফিরতি হাজীরা

শীর্ষবিন্দু নিউজ: পবিত্র হজ্জ্ব পালন করে হাজীগণ ফিরবেন নিজ দেশে। আল্লাহর তোয়াফ করে প্রস্তুতিও সম্পন্ন করেছেন যাদের ফ্লাইটের নির্ধারিত তারিখ দেয়া গেছে। কিন্তু ফের বিপত্তি বাধলো বাংলাদেশের রাস্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান। শিডিউল বিপর্যয়ের মধ্য দিয়েই চলছে বিমানের ফিরতি হজ ফ্লাইট। শনিবার প্রথম ফ্লাইট বিপর্যয়ের পর রোববার এর মাত্রা আরও বেড়েছে। নির্ধারিত সময়ে বিমান না ছাড়ায় জেদ্দা বিমানবন্দরে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে শ’ শ’ হাজীকে।

আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী ৬ ঘণ্টার বেশি বিমান ছাড়তে দেরি হলে যাত্রীদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করতে হয়। কিন্তু এর চেয়েও বেশি সময় ধরে বিমানবন্দরে দুর্ভোগ পোহালেও হাজীদের কোন খোঁজ নিতে দেখা যায়নি বিমান সংশ্লিষ্ট কাউকে। সরকারি হজ প্রতিনিধি দলের একজন সদস্য জানান, রোববার সকাল ১১টায় জেদ্দা বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তাদের দেশে ফেরার কথা ছিল। সে অনুযায়ী রাত ২টার সময় মক্কা হজ মিশন থেকে তাদেরকে জেদ্দা এয়ারপোর্টের উদ্দেশ্যে গাড়িতে নেয়া হয়। ভোর রাতে সেখানে পৌঁছানোর পর জানানো হয় যে, বাংলাদেশ থেকে এখনও বিমান না আসায় যথাসময়ে ফ্লাইট ছাড়বে না। পরে ওই ফ্লাইট শিডিউল ঘোষণা করা হয় রাত ৭টা ৪০ মিনিটে।

এদিকে জেদ্দা বিমানবন্দরে দায়িত্বরত বাংলাদেশ বিমানের এক কর্মকর্তা জানান, কি কারণে বিমানের শিডিউল বিপর্যয় তা তাদের জানা নেই। এ বিষয়ে ঢাকা অফিসের লোকজন ভাল জানেন। তবে একটি ফ্লাইট বিপর্যয় হলে তার প্রভাব পরবর্তীগুলোতেও পড়ে। সে অনুযায়ী এই বিপর্যয় হতে পারে। সোমবার পর্যন্ত বিমানের ফ্লাইট শিডিউল স্বাভাবিক হতে পারে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। শনিবার প্রথম ফ্লাইট কয়েক ঘণ্টা দেরিতে ছাড়ে। একই ভাবে রোববার রাত ১টার ফ্লাইট জেদ্দা বিমানবন্দর ত্যাগ করে সকাল সাড়ে ৯টায়। এর পরের দিনও একই অবস্থা অব্যাহত থাকে।

ভুক্তভোগী এক বৃদ্ধ হাজী মোহাম্মদ আবুল কালাম বলেন, আল্লাহর ঘরে এসেছি। তার নির্দেশ অনুযায়ী পবিত্র হজ্জ্ব পালন করেছি। জানি না আল্লাহ ক্ষমা করেছেন কি না। কিন্তু বিমানে এই ফ্লাইট বিপর্যয়ে খবই অশান্তিতে আছি। আমরা কোন অভিযোগে যাবো না আল্লাহর ঘরে এসে এটা করাও ঠিক না। শুধু অনুরোধ বিমান কতৃপক্ষের প্রতি, হাজীদের এভাবে কষ্ট দেবেন না। আপনারা এখানে উপস্থিত থাকলে নিজে পরিস্তিতি অনুভব করতে পারতেন। আপনারা অনতিবিলম্বে ব্যবস্থা নিন।

ভুক্তভোগীরা জানান, শিডিউল পরিবর্তন হওয়ায় বিমানবন্দরের টার্মিনালে ঢুকতে না পেরে ৫ শতাধিক হাজী দিনভর চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন। বিশেষ করে নারী ও বৃদ্ধদের অবস্থা ভয়াবহ। বিমানের দায়িত্বহীনতার কারণেই এ ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ। চরম ভোগান্তির এ মুহূর্তে হজ মিশন বা বিমান কর্তৃপক্ষের  কোন খোঁজ মেলেনি। হজ মিশনের দায়িত্বশীলরা বলেন, তাদের দায়িত্ব বিমানবন্দরে পৌঁছে দেয়া। বাকি সমস্যার সমাধানের দায়িত্ব বিমানের।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close