Featuredরাজনীতি

এক ফোন কলেই বদলে গেলেন মির্জা ফখরুল

শীর্ষবিন্দু নিউজ: গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়। সেখানে পূর্বনির্ধারিত একটি সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বক্তব্যে সরকারের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ, ক্ষোভ ও নিন্দা ঝরে পড়ছিলো। বলছিলেন, সরকার সমঝোতা চায় না। ২৫ অক্টোবরের সমাবেশ সামনে রেখে নিষেধাজ্ঞারও তীব্র নিন্দা জানিয়ে ফখরুল বলছিলেন, আমরা সমাবেশ করতে চাই। কোনো কিছু হলে সরকারকেই দায়িত্ব নিতে হবে। বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল লাইভ টেলিকাস্ট করছিলো মির্জা ফখরুলের এই সংবাদ সম্মেলন।

এ সময় একটি বিশেষ ফোনকল!  আর তাতেই বদলে গেল অনেক কিছু। এই কলটি যায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের কাছ থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সেলফোনে। ডেট লাইন মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১২টা। ঠিক এমনই সময়ে বেজে ওঠে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ফোনের রিং টোন। কাল বিলম্ব না করে ফোনকলটি রিসিভ করে কথা বলতে শুরু করেন তিনি।

‘আস্‌সালামু আলাইকুম। কেমন আছেন ভাই’ —শুনেই সাংবাদিকরা অনুমান করে নেন ওপাশে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। ফখরুল বলছিলেন, জ্বী, ভালো। জ্বী, ভাই, চিঠি পাঠালাম, আশা করছি, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন। আমরা এগিয়ে এসেছি.. আশা করি আপনারাও এগিয়ে আসবেন। সৈয়দ আশরাফ ওপাশ থেকে কি বলছিলেন তা কেউ শুনছিলো না, কেবল শুনছিলেন মির্জা ফখরুল একাই।

এই একটি ফোনকলেই পাল্টে যায় মির্জা ফখরুলের কথার সুর। এরপর আর সরকারের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নয়। বারবারই একটি ইতিবাচক অগ্রগতির কথা বলছিলেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব। আর সেভাবেই ইতিবাচক মুডে শেষ হয় সংবাদ সম্মেলন।

পরে তা সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তাদের দুজনের মধ্যে কি কি কথা হয়েছে জানান ফখরুল। তিনি বলেন, সৈয়দ আশরাফ চিঠির জন্য আমাদের ধন্যবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তিনি দিনাজপুরে যাচ্ছেন। চিঠিটি সঙ্গে নিয়ে যাবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সফর করবেন তিনি, সে সময় চিঠি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করবেন।
মঙ্গলবার বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের রূপরেখা ও এ-সংশ্লিষ্ট আলোচনার প্রস্তাব দিয়েই এই চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে স্পষ্ট করেন ফখরুল।

প্রসঙ্গত: বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে সংবাদ সম্মেলনটি শুরু হয়। তার কিছুক্ষণ আগে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল প্রস্তাব সম্বলিত চিঠিটি নিয়ে সৈয়দ আশরাফের মিন্টু রোডের বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। এই দলে যুগ্ম-মহাসচিব বরকতুল্লাহ বুলু, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক, ছাত্র-বিষয়ক সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ছিলেন।

প্রতিনিধি দলটি রওয়ানা দেওয়ার পর সংবাদ সম্মেলন শুরু করতে একটু যেন দেরি করছিলেন মির্জা ফখরুল। ফোনে প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলাপ করছিলেন কিছুক্ষণ পরপর। এক সময় তাকে বলতে শোনা যায়, মুখে কথা বলে নিন, চিঠি এখন দেবেন না। একথা বলে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য শুরু করলেন। ক্ষোভ ও নিন্দা ঝরাতে শুরু করলেন সরকারের বিরুদ্ধে। এ সময় তাকে বেশ চঞ্চলচিত্ত দেখাচ্ছিল। কিছুক্ষণ পরেই সৈয়দ আশরাফের কাঙ্ক্ষিত ফোনটি আসে।

বোঝা গেল, মোবাইলে সৈয়দ আশরাফের নম্বরটি সেভ করাই ছিল। কারণ তিনি কোনো প্রশ্ন না করে হাসিমুখে সরাসরি কথা বলতে শুরু করেন।   ফোন নম্বরটি স্ক্রিনে দেখা থেকে শুরু করে কথা শেষ করা পর্যন্ত মির্জা ফখরুলকে আনন্দিতই দেখাচ্ছিল। তিনি কথা শেষ করে আবারও সম্মেলনের বক্তব্য শুরু করেন। চেহারার টানটান ভাবটাও তখন আর ছিল না। আর সেই সঙ্গে বদলে গেলো কথা বলার সুরও। শেষের দিকে আশরাফের সঙ্গে কথোপকথনের বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান।

 

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close