রাজনীতি

আজকে থেকে বর্তমান সরকার অবৈধ

শীর্ষবিন্দু নিউজ: বর্তমান সরকারকে আজ থেকে অবৈধ আখ্যায়িত করেছেন বিরোধী নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট সম্মেলনে সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, আজ থেকে আপনারা আর বৈধ সরকার নয়। অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করা নাগরিকের দায়িত্ব। ইনশাআল্লাহ আমরা আন্দোলন করব।

বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের ব্যাপারে আমাদের দাবি নিয়ে সরকার গড়িমসি করছে। কিন্তু এ দাবি আমাদের একার নয়, বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল ও দেশবাসীর। এতদিন সরকার সংসদে গিয়ে ফর্মূলা দিতে বলতো। আমরা সংসদে গিয়ে ফর্মূলা দিয়েছি। বল এখন সরকারের কোর্টে। সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। নির্বাচনকালীন একটি সরকারের ফর্মূলা আমরা দিয়েছি। সরকার প্রয়োজনে তাদের বর্তমান সংসদের মাধ্যমে নির্বাচিত করে আনতে পারে। সেটা সংবিধান মতেই সম্ভব। দেশে এখনও অনেক শিক্ষিত, যোগ্য ও নিরপেক্ষ মানুষ রয়েছে।

তিনি দেশবাসীকে আন্দোলনে শরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আসুন আমরা অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলি। পূর্বঘোষিত আজকের সমাবেশ নিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, সরকারকে বলছি। ধানাই-পানাই করবেন না। নয়াপল্টনে আমরা সমাবেশ করতে চাই। সমাবেশের অনুমতি দিন। অনুমতি না দিলে বা বাধা দিলে সৃষ্ট পরিস্থিতির দায়-দায়িত্ব আপনাদেরকেই নিতে হবে।

সরকারের উদ্দেশে বিরোধী নেতা বলেন, আওয়ামীলীগ আজীবন ক্ষমতায় থাকার জন্য বাকশাল করেছিলেন। ক্ষমতায় থাকতে পারেননি। এখন যদি নিজেদের অধীনে যেনতেন নির্বাচন দিয়ে ক্ষমতায় থাকতে চান তবে সে চিন্তা ভুলে যান। এ চিন্তা ছেড়ে দেন। কারণ আপনাদের অধীনে কোন নির্বাচন হবে না। বাংলাদেশে আপনাদের সে স্বপ্ন পুরণ হবে না। খালেদা জিয়া সরকারকে প্রশ্ন করে বলেন, আপনারা জনগনকে এত ভয় পান কেন? আপনারা তো অনেক উন্নয়নের কথা বলেন। এত উন্নয়ন করলে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে ভয় কেন? আপনাদের তো নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে উন্নয়নের পরীক্ষা দেয়া উচিত। কারণ নিজেরা ক্ষমতায় থেকে নির্বাচন নিয়ে ফের ক্ষমতায় আসার মধ্যে কোন বাহাদুরি নেই।

খালেদা জিয়া বলেন, বর্তমান সরকার গণতান্ত্রিক বলে দাবি করে। কিন্তু সরকার কোনভাবেই গণতান্ত্রিক নয়। সরকার গণতান্ত্রিক কি কাজটি করছে। তারা রাজনৈতিক দলের গণতান্ত্রিক অধিকার সভা-সমাবেশ করতে দেয় না। টক শো করতে বাধা দেন। রাজপথ ও বাড়ি থেকে নেতাকর্মীদের ধরে নেয়া হচ্ছে। অনেক নেতাকর্মীকে গুম করা হচ্ছে। নির্যাতন করা হচ্ছে। সরকার প্রতিনিয়ত মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে। এ সরকার জনগনের নয় আওয়ামীলীগের দলীয় সরকার।

তিনি বলেন, আওয়ামীলীগই ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য ব্যাপক নৈরাজ্য চালিয়েছে। গান পাওড়ার দিয়ে মানুষ হত্যা করেছে। ১৭৩দিন হরতাল করেছে। কিন্তু সরকার ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার জন্য এখণ সংবিধান পরিবর্তন করেছে। সংবিধান পরিবর্তনের কোন দরকার ছিল না। সংবিধান পরিবর্তন করায় দেশে সঙ্কটের সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার কেবলই আওয়ামীলীগের সরকার। আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা সকল সরকারি কাজ দখল করে। তারা কাজ না করলেও টাকা নিয়ে যায়। সারাদেশে আজ গ্যাস-বিদ্যুতের কি দুরাবস্থা। আওয়ামীলীগের কথা ছাড়া কেউ কাজ পাবে না। কেউ চাকুরি পাবে না। এটা কি গণতান্ত্রিক সরকারের পরিচয়। বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় গিয়ে শেয়ারবাজার লুটপাট করেছিল। সেবার লুটপাট করেছে তাদের বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন। ২০০৮ সালে ক্ষমতায় এসেও তারা শেয়ার বাজার লুট করে নিয়েছে। দেশের ব্যাংকিং খাততে ধ্বংস করে দিয়েছে।

সোনালী ব্যাংকের যে পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে তা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে ৩০৯ বছর সময় লাগবে বলে অভিমত দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। এ সরকার ব্যাংক ডাকাতি করেছে। ব্যাংকগুলো দেউলিয়া করে ফেলেছে। খালেদা জিয়া বলেন, সরকার কি পত্রিকা দেখে না? খবর পড়ে না? বর্তমান পরিস্থিতির উত্তরণ ও জনগনের উন্নয়নে প্রয়োজন গণতান্ত্রিক সরকার। জনগনের কল্যানে কাজ করতে গণতান্ত্রিক সরকারের বিকল্প নেই।

সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদেরও রাখব, বাদ দেব না। আপনাদের ভাল কাজ অবশ্যই অব্যাহত থাকবে। কিন্তু গত ৫ বছরে আপনারা যা  যা করেছেন তা আমরা করব না। শিক্ষিকদের উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেন, এখন দাবি দাওয়ার সময় নয়। এখন নির্দলীয় সরকারের দাবিতে আমাদের আন্দোলনে সহযোগীতা করুন। আসুন সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্দলীয় সরকারের দাবিতে সমর্থন দিন।

নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের মাধ্যমে একটি জাতীয় ঐক্যের জনগনের সরকার গঠন হলে আপনাদের জন্য করনীয় সব করব। সরকার গঠন করতে পারলে আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার থাকবে শিক্ষা। শিক্ষিত ও যোগ্য নাগরিক গড়ে তুলতে শিক্ষকদের সবধরনের সুযোগ সুবিধা দেয়া হবে। শিক্ষকদের সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, শুধু আন্দোলন করে সুযোগ সুবিধা চাইলে হবে না। আপনারা টাকা নিয়ে যাবেন তা হবে না। আপনাদের শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষাদানেই সবচেয়ে বেশি সময় দিতে হবে। আমাদের এখন যোগ্য-শিক্ষিত সুনাগরিক দরকার।

 

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close