রাজনীতি

জনসমুদ্রের স্রোত সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে

শীর্ষবিন্দু নিউজ: রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আজ শুক্রবার বেলা সোয়া দুইটার দিকে কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮-দলীয় জোটের সমাবেশ। মঞ্চে উপস্থিত আছেন জোটের কেন্দ্রীয় নেতারা। এই সমাবেশে সকাল থেকেই আসছে ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা।

সকালেই জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীরা উদ্যানের মঞ্চের সামনে ময়দান দখলে নেয়। পরে দলে দলে অন্যান্য দলের নেতাকর্মীরা সেখানে জড়ো হন। দুপুরের আগেই সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে লাখ মানুষ জমায়েত হয়। নিরাপত্তার কারণে এক একজন করে লোক সেখানে ঢোকানো হয়। সকালে বৃষ্টি হওয়ায় সমাবেশ স্থল কিছুটা কর্দমাক্ত হয়ে পড়েছে। বৃষ্টি ও কাঁদা উপেক্ষা করেই কর্মীরা আসেন খালেদা জিয়ার সমাবেশে। বিভিন্ন মোড়ে বিপুল সংখ্যক আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সমাবেশ স্থলেও রয়েছে অতিরিক্ত ফোর্স।

রাজধানীর পল্টন, প্রেসক্লাব, মৎসভবন, শাহবাগ ও কাকরাইল সড়কে যানবাহ চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সমাবেশমুখী নেতাকর্মীরা মিছিল করে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনিস্টিটিউটের সামনের ফটক দিয়ে সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে প্রবেশ করেছে। অনেকে মিছিল ছাড়াই আলাদা আলাদাভাবে সমাবেশে পৌঁছেন।

বেলা পৌনে দুইটার দিকে মঞ্চের সামনে দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। এ সময় সমাবেশস্থলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে মঞ্চ থেকে বাববার সবাইকে শান্ত থাকার অনুরোধ জানানো হলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এদিকে এরই মধ্যে সমাবেশস্থলে কয়েক হাজার নেতা-কর্মী জড়ো হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে বেশির ভাগই শিবিরের কর্মী। তাঁদের মাথায় শিবিরের ব্যান্ডেনা বাঁধা রয়েছে।

গতকাল বিকেলে ডিএমপি ১৩টি শর্তে বিরোধী জোটকে সমাবেশ করার অনুমতি দেয়। শর্তের মধ্যে আছে বিকেল পাঁচটার মধ্যে সমাবেশ শেষ করতে হবে। সমাবেশ শুরুর দুই ঘণ্টা আগে থেকে লোকসমাগম করা যাবে না। সমাবেশে দা-কুড়াল-বল্লম, রড, ব্যানার-ফেস্টুন বহনের আড়ালে লাঠি ব্যবহার করা যাবে না। ঢাকা মহানগর পুলিশের সূত্র জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আজ ১০ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য রাজধানীতে মোতায়েন রয়েছেন।

এদিকে সারা দেশে ১৮-দলীয় জোটের কর্মসূচির কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে পুলিশ-র্যাব। নামানো হয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চৌকি বসানো হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সামনে পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, পল্টন ময়দান অথবা নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনের সড়ক—এই তিনটি স্থানের যেকোনো একটিতে সমাবেশ করার অনুমতি চেয়ে ঈদের আগে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাছে আবেদন করে বিএনপি। পরে গতকাল বিকেলে ডিএমপি শর্তসাপেক্ষে জোটকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার অনুমতি দেয়।

অনুমতি পাওয়ার পর বিএনপি বলছিল, তারা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নয়, নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনেই সমাবেশ করবে। এ নিয়ে নতুন করে কিছুটা উত্তাপ ছড়ায়। এরপর রাত সোয়া ১০টায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংবাদ ব্রিফিং করে বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে তাঁরা সমাবেশ করবেন।

 

 

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close