রাজনীতি

হানিফকে দলীয় প্রধানের অব্যাহতি

শীর্ষবিন্দু নিউজ: প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারীর পদ থেকে মাহবুব উল আলম হানিফকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। আজ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে এক আদেশ জারি করা হয়েছে।  জনপ্রশাসন সচিব আবদুস সোবহান সিকদার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এ ব্যাপারে মাহবুব উল আলম হানিফ গণমাধ্যমকে বলেন, আমি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারীর পদ লাভজনক। আর লাভজনক পদে থেকে নির্বাচনে যাওয়া যায় না। তাই আমি নিজেই পদত্যাগের জন্য আবেদন করেছিলাম। সেই হিসেবে আজ এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এর আগে ৯ অক্টোবর আওয়ামী লীগের তৃণমূল বৈঠকে হানিফ এই পদটিকে অলাভজনক বলে দাবি করেছিলেন।

পাঁচ বছর আগে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়ার পর কুষ্টিয়ার এই নেতাকে বিশেষ সহকারী করেছিলেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী। সরকারের মেয়াদ শেষের কয়েক মাস আগে তাকে বাদ দিলেন তিনি। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছানুযায়ী তার বিশেষ সহকারীর পদে হানিফের নিয়োগ আদেশটি প্রত্যাহার করা হয়েছে।

হানিফের নির্বাচনী এলাকা কুষ্টিয়া-২ আসনে সংসদ সদস্য ১৪ দলের অন্যতম শরিক দল জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু। হাসিনার সরকারে এখন তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করছেন তিনি। সংবাদপত্রের খবর, কুষ্টিয়ার তৃনমূল বৈঠকে শেখ হাসিনার সঙ্গে হানিফ তর্কাতর্কিতেও জড়িয়ে পড়লে কেন্দ্রীয় নেতারা উষ্মা প্রকাশ করেন। তখন শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে জনপ্রিয়তা যাচাই করতে বলেছিলেন হানিফকে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ভেড়ামারা ও মিরপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত কুষ্টিয়ার ওই সংসদীয় আসনে হানিফ আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হতে চান বলে স্থানীয় নেতাদের কথায় উঠে এসেছে। নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ে গত ৯ অক্টোবর কুষ্টিয়ার তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি উঠলে তৎক্ষণাৎ অসন্তোষ প্রকাশ করেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে এক দলীয় এক অনুষ্ঠানে হানিফকে পদত্যাগ করতে বলেছিলেন। এরপর থেকেই তাকে অব্যাহতি দেয়ার বিষয়টি আলোচনায় ছিল। হানিফ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। আসন্ন নির্বাচনে কুষ্টিয়া থেকে নির্বাচন করতে এ পদ থেকে অব্যাহতি নেয়ার আবেদন করেছিলেন বলে জানিয়েছেন হানিফ।

বৈঠকে অংশ নেয়া ওই নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও তার বিশেষ সহকারীর মধ্যে বদানুবাদের এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস দাঁড়িয়ে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি যাকে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বানিয়েছেন। তিনি আপনার মুখে মুখে কথা বলবে। এটা অনাকাঙ্ক্ষিত। এর এক মাস না পেরোতেই প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারীর পদ হারালেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি হানিফ।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে প্রাপ্ত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই নেতা বলেন, সভানেত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী যেখানে আমাদের ঐক্যের দরকার। সেখানে মহাজোটের শরিক দলের সভাপতি মনোনয়ন পাবেন না, এটা হতে পারে না। প্রধানমন্ত্রী এরপর হানিফের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে উষ্মা প্রকাশ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে বসলে অনেকেই জনপ্রিয় হন। ক্ষমতা দেখাতে পারেন। পদত্যাগ করে এলাকায় যাও। দেখি তুমি কত জনপ্রিয়। আর তখন বুঝবে, রাজনীতি করতে কেমন লাগে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close